জেলা প্রতিনিধি  ব্রাহ্মণবাড়িয়া//

দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কেন্দ্র থেকে প্রান্ত সবখানেই চলছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

নির্বাচনে সাবেক এই আমলার বিকল্প কেবল তিনি নিজেই বলে মনে করছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। এ আসনে বিএনপি থেকে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থনৈতিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও ২০১১ সালের উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনি মোকতাদির চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।

দলীয় নেতা-কর্মীসহ সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মোকতাদির চৌধুরী। বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে খালেদ হোসেন মাহবুব ছাড়াও আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী হারুন আল রশীদ রয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

আওয়ামী লীগেও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন। তবে মোকতাদির চৌধুরীর জন্য একাট্টা হয়েছেন নেতাকর্মীরা। নিজের জনপ্রিয়তা আর বিগত দিনে সদর ও বিজয়নগর উপজেলায় করা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর ভর করে এবারও নৌকা নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ আসনে মনোনয়ন পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। তবে নির্বাচনী এলাকায় তার অবস্থান খুব একটা শক্ত নয়। জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ্ জামাল রানাও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন। তার অবস্থানও রেজাউলের মতোই।

ফলে খালেদ হোসেন মাহবুব ও হারুন আল রশীদের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর কাছ থেকে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য মোকতাদির চৌধুরীকেই দলের মনোনয়ন দেয়ার দাবি নেতা-কর্মীদের। যদি মহাজোট থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে এ আসনটি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও অভিমত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ্ আলম  বলেন, অতীতে সদর ও বিজয়নগর উপজেলায় যে উন্নয়ন হয়নি মোকতাদির চৌধুরী সেই উন্নয়ন করেছেন। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি। মোকতাদির চৌধুরীর বিকল্প তিনি নিজেই। তাই এবারের নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি ধরে রাখার জন্য মোকতাদির চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি এ আওয়ামী লীগ নেতার।