নিজস্ব প্রতিবেদক//

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছে তিন শতাধিক নারী প্রার্থীর নাম। দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে এলেও এখনও দলীয় প্রার্থিতার বিষয়ে আশা ছাড়ছেন না অনেকে। কেউ কেউ অবশ্য এরই মধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মাঠেও নেমে পড়েছেন। এ ক্ষেত্রে নতুনদের উৎসাহই বেশি দেখা যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কখনও কোনো নারী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। কিন্তু এবার সেই ইতিহাস ভাঙতে চান নারী নেত্রীরা।

ঠাকুরগাঁও থেকে চার জন সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবার জেলার তিনটি নির্বাচনী আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি হতে চান। তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।

এরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদরের তাহমিনা আক্তার মোল্লা,বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সুরাইয়া জেসমিন বিউটি, হরিপুরের সাবিনা ইয়ামিন রিপা ও রানীশংকৈলের সেলিনা জাহান লিটা। এদের মধ্যে পারিবারিক রাজনৈতিক গভীরতার কারণে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সংরক্ষিত আসনে সেলিনা জাহান লিটা এমপির দায়িত্ব পান। তিনি সাবেক এমপি আলী আকবরের মেয়ে।

ঠাকুরগাঁও -১ আসনে তাহমিনা আক্তার মোল্লা, ঠাকুরগাঁও -২ আসনে বালিয়াডাঙ্গীর সুরাইয়া জেসমিন বিউটি, হরিপুরের সাবিনা ইয়াসমিন রিপা ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সেলিনা জাহান লিটা এমপি নির্বাচন করতে চান।

এদের মধ্যে তাহমিনা আক্তার মোল্লা পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের নির্বাচন করেন। মেয়র নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটভাই মির্জা ফয়সল আমিনের নিকট হেরে যান তিনি। এবার তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান।

সুরাইয়া জেসমিন বিউটি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের সদস্য। তিনি এবার ঠাকুরগাঁও -২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান। অন্যদিকে একই আসনে নৌকার টিকিট পেতে চেষ্টা করছেন হরিপুর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবিনা ইয়াসমিন রিপা। তিনিও বর্তমানে ঠাকুরগাও জেলা পরিষদের সদস্য।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের নৌকা প্রতীকে এমপি হতে মাঠে নেমেছেন সাবেক এমপি আলী আকবরের মেয়ে বর্তমান এমপি সেলিনা জাহান লিটা। তিনিও রানীশংকৈল উপজেলায় দুইবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

সর্বপরি একই সময়ে ঠাকুরগাঁও থেকে চারজন নারী এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি হতে চান। তবে সরকারি দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তারা স্বীকার করেন নারীদের রাজনীতি করার পথ সমাজে এখনও মসৃণ নয়। সমাজের নানা বৈষম্য ও বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাদের।

তারা জানান, শুধু বাইরে নয় এ বৈরিতা মোকাবিলা করতে হয় পরিবারেও। এখনও সমাজের সাধারণ ধারণা- নারীরা ঘরে থাকবে, তারা কেন রাজনীতিতে যাবে?