ভোটের আগের রাতেই নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সিল মারছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। একইসঙ্গে হারিকেন ও টর্চ লাইট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি। রিজভী বলেন, ‘মনে রাখবেন- ভয় পেলেই শেষ, আর ভয়কে জয় করলে আমরাই বাংলাদেশ। জেগে উঠুন। গ্রামবাসীকে জাগান। ভোট চুরি ঠেকান। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। প্রয়োজনে ভোট চুরি ঠেকাতে হারিকেন ও টর্চ লাইট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান করুন। জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে দশটার দিকে রাজধানীর নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বিষয়ে কথা বলেছেন রিজভী।

এসময় রিজভী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলাম যে, প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখবে। আমাদের সেই আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হলো। শোনা যাচ্ছে, তারা রাতেই ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট বাক্সে ভরে রাখবে। ধানের শীষের অনেক প্রার্থীকে তাদের নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডাররা।’

রিজভী আরও বলেন, ‘নিশ্চিত পরাজয় জেনে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা দেশব্যাপী ভোটকেন্দ্রগুলোতে নৌকায় সিল মারছে। সন্ধ্যারাত থেকেই শুরু হয়েছে নৌকা প্রতীকে সিল মারা। এ অবস্থায় নীরব না থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত জনসমাগম বাড়িয়ে ভোট চুরি ঠেকানোর জন্য ধানের শীষের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের আহবান জানাচ্ছি। কোনোভাবেই আওয়ামী লীগ তার বিজয়ের অঙ্ক মেলাতে পারছে না। তাই রাতের অন্ধকারে ব্যালটে সিল মেরে ভোট ডাকাতি শুরু করেছে। এদের কাপুরুষোচিত কাজে ভয় পাবেন না।’

রিজভীর অভিযোগ, ‘ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বাসা একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তার বাসার ভেতর থেকে কোনও নেতাকর্মী বের হতে পারছে না। বের হলেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দুজন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধানের শীষের প্রার্থী কারাবন্দি মনিরুল হক চৌধুরীর নির্বাচন সমন্বয়কারী ৭-৮ জন নেতাকর্মীকে প্রার্থীর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার মেয়ের গাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ ও স্টিকার নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।’