শরণখোলার প্রতিনিধি,লিংকন হাওলাদার:-

বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর তাফালবাড়ী গ্রামের হতদরিদ্র কৃষি শ্রমিক সমীর চন্দ্র হালদারের মেয়ে স্বপ্না রাণী (৭)। তার জিহ্বায় পচন ধরেছে।জিহ্বা ফুলে এমন হয়েছে যা আর মুখের ভেতরে নিতে পারে না। আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি বাইরে ঝুলে থাকে সবসময়। কথা বলাতো দূরের কথা, তরল খাবার ছাড়া আর কিছু খেতে পারে না। সারাক্ষণ লালা ঝরতে থাকে। দুঃসহ জ্বালা যন্ত্রণা জিহ্বে। দিনের বেলায় সবার সঙ্গে মিশে যন্ত্রণা কিছুটা ভুলে থাকলেও রাতে যন্ত্রণাটা বেড়ে যায়। ঘুমোতে পারে না। চিকিৎসার অভাবে প্রায় পাঁচ বছর ধরে এমন দুঃসহ যন্ত্রণাবয়ে বেড়াতে হচ্ছে ফুটফুটে মেয়েটিকে।স্থানীয় উত্তর তাফালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো স্বপ্না।এ অবস্থায় স্কুলের কেউ তার সঙ্গে মিশতে চায় না। জিহ্বার ভয়ঙ্কর অবস্থায় তাকে দেখলে সহপাঠীরা ভয় পায়। এ কারণে এখন তাকে স্কুলে পাঠায় না পরিবার। চিকিৎসকরা বলছেন, স্বপ্নার জিহ্বায় ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা পেলে ভালো করা সম্ভব। কিন্তু হতদরিদ্র কৃষি শ্রমিক বাবার পক্ষে মেয়ের চিকিৎসার টাকা যোগাড় করা কোনো ভাবেই সম্ভব না।দিপু রানী হালদার বলেন, স্বপ্না স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু সাবাই ওকে দেখে ভয় পায়, মিশতে চায়না। তাই ওকে স্কুলে যেতে দিই না। স্বামী অন্যের কাজ করে যা পান তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। চিকিৎসা করানোর টাকা কোথায় পাবো? প্রথানমন্ত্রী অসহায়, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করেন। আমার মেয়েটাকেও যদি একটু চিকিৎসায় সাহায্য করতেন তাহলে ওকে বাঁচানো যেতো। ও আবার স্কুলে যেতে পারতো!

স্বপ্নার এমন রোগের ব্যাপারে কথা হয় শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার সমদ্দারের সঙ্গে। তিনি বলেন, মেয়েটির জিহ্বায় টিউমার থেকে এমন হয়েছে। এখন সেটি ক্যান্সার রূপ নিয়েছে। গ্রোথ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যান্সার কোন পর্যায় আছে তা পরীক্ষা না করে বলা যাবে না। তবে, উন্নত চিকিৎসা পেলে ভালো করা সম্ভব।
স্বপ্নাকে সাহায্য পাঠানো ঠিকানা- সমীর হালদার, সঞ্চয়ী হিসাব নং-৭৩৮১, জনতা ব্যাংক, শরণখোলা শাখা, বাগেরহাট। মোবাইল নম্বর- ০১৭৯৬২৩৭৮৯০/০১৯৫১৫১৪৯৫১।