ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল বাজারের দক্ষিন পাশ দিয়ে ঘেষে যাওয়া বড়াইল খালের উপর পাকা ব্রীজটি কালের স্বাক্ষী। এ ব্রীজের প্রায় বেশীর ভাগ অংশ দখল করে ফেলেছে ব্রিজের দক্ষিন পাশে নির্মিত কিছু দোকান ঘর। দখলদার মীর নাসির উদ্দিন এর নাম দিয়েছে ‘নাসির মোল্লা মীর সিটি সুপার মার্কেট’। যিনি এলাকায় নাসির মোল্লা নামেই পরিচিত। বড়াইল বাজারের উত্তর প্রান্ত থেকে ব্রীজের উপর দিয়ে দক্ষিন দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় হাতের বাম ও ডান পাশে ব্রীজের বেশীর ভাগ জুড়ে বড়াইল খালের জায়গা দখল করে নির্মিত যে মার্কেট তা পুরো ব্রিজটুকুই গিলে ফেলেছে। এ দৃশ্য যতটা না দৃষ্টিকটু, সেইসাথে পরিবেশ বিপর্যয়েরও অন্যতম কারন হতে পারে। সরেজমিন অনুসন্ধানে, বড়াইলের কয়েকজন গ্রামবাসীকে এ মার্কেটের মালিকের পরিচয় জানতে চাইলে, তারা মালিকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা পোষন করেন। তবে জানান এই মার্কেটের মালিক ব্রীজ সংলগ্ন মাদ্রাসার সভাপতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (ওয়াদা সাপেক্ষে) একজন বলেন, মীর সিটি সুপার মার্কেট (নাছির মোল্লা মার্কেট) এর উত্তরদিকে ব্রীজের দক্ষিন প্রান্তের সামনে ২৬ ফুট সড়ক রয়েছে বড়াইল মৌজার নকশা বা ম্যাপে। অথচ সেটির বেশির ভাগ অংশ দখল করে দোকান বানিয়েছে মো. নাছির উদ্দীন মীর। বড়াইল খালের ওপর তৈরী ব্রীজ ঘেষেও দোকান তৈরি করেছে নাছির মোল্লা। প্রায় ৩ বছর আগে হিন্দু সম্পত্তি কিনে নাছির মোল্লা এই দোকানগুলো তৈরি করে। আর গাড়ি চলাচলের এই বড় ব্রীজটি তৈরী হয়েছে প্রায় ১০ বছর হলো। ৩০ বছর আগে এখানে ছোট ব্রীজ ছিল। তারও আগে ছিল কাঠের ব্রীজ। নাছির মোল্লা আসলে কি করে তা আমাদের জানা নেই। এলাকায় সে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সে অঢেল টাকা ও সম্পত্তির মালিক। এলাকায় তার বিশাল প্রভাব। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে চায়না। নাসির মোল্লার টাকার উৎস কেউ জানে না। মুঠোফোনে বড়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এ মার্কেটটির মালিক নাসির মোল্লা (মো. নাছির উদ্দিন মীর)। সে ইচ্ছে করলে কিছু অংশ বাদ দিয়েও মার্কেটটি করতে পারতো, যদিও তার কেনা নিজের জায়গাতেই মার্কেট করেছেন।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নাছির মোল্লা ব্যবসা করেন। তবে কি ব্যবসা করেন তা তার জানা নেই। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগেই নাছির মোল্লা এ মার্কেট নির্মাণ করেছেন। মুঠোফোনে কিছু প্রশ্নের জবাবে এ মার্কেটের মালিক মীর নাছির বলেন, ব্রীজতো আমার জায়গার উপরই আছে, ব্রিজ দখল করি কিভাবে। আর ব্র্রীজের জায়গায়তো ব্রীজই আছে। ব্রীজের জায়গা দখল হইলো কিভাবে। দুনো(দুই) পাশের মধ্যের ব্রীজের জায়গাতো আমারই। এখানে ব্রীজতো ব্রীজের জায়গাতেই আছে, সমস্যা কোথায়। ব্রীজ কি কেউ ওঠাইয়া ফেলছে? খালের জায়গা কি কেউ দখল করতে পারে।আমি নিজের জায়গাতেই মার্কেট বানাইছি। খাল বা ব্রীজের জায়গা দখল করি নাই। আমার মার্কেট নির্মাণের অনেক আগেই ব্রীজ নির্মাণ হইছে। নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাসুম বলেন, এ বিষয়ে আমি সহকারী কমিশনার ভূমি ও সংশ্লিস্টদের সাথে কথা বলবো। যদি মার্কেটের মালিক এমন অনৈতীক ও বেআইনী কাজ করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পরিবেশবিদ ও আইনজীবি সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, বৃহৎ সুপেয় পানি আর নদী-নালার দেশ বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক জলাধার ছাড়াও, এ দেশের রয়েছে অসংখ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি জলাধার যেমন পুকুর, দীঘি, খাল। পানি সংকট নিরসনে এ দেশে একসময় সৃষ্টি করা হয়েছে অসংখ্য কৃত্রিম জলাধার। কিন্তু দিনে দিনে দখল, দূষণ আর ভরাটের শিকার হয়েছে দেশের প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম জলাধারগুলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলাধার দূষণ, দখল ও ভরাটের মাত্রা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশার কথা হচ্ছে দেশের জলাধার রক্ষায় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অব্যাহত কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে সরকার জলাধার রক্ষায় ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জলাধার রক্ষায় সর্বোচ্চ আদালতের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়ন কার্যক্রম বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সকল আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন দেশের জলাধারগুলো রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালণ করতে পারে।