নদী উচ্ছেদ অভিযান দখলদারদের বিরুদ্ধে একাট্টা আইভী-নাছির

16 February, 2019 : 7:58 pm ৯৬

শীতলক্ষ্যা ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর নদীর পাড় দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী এক শ্রেণির ক্ষমতাধর ব্যক্তি। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরাও তাদের বাধা দেয়ার সাহস পেতেন না। এরইমধ্যে অনেকটা সময় গড়িয়েছে। দিন বদলে গেছে। বদলে গেছে দৃশ্যপটও। রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গার দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়ার কাজ চলছে। ক্ষমতাধরদের দখল থেকে মুক্ত করা হচ্ছে নদীর জায়গা। বসানো হচ্ছে সীমানা প্রাচীর। আর সেই ক্ষমতাধররা এখন বিড়াল নয় ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়েছেন। ঢাকায় উচ্ছেদ অভিযানের পর নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর জায়গা অনেকটাই ক্ষমতাধরদের পেটে। তবে অভিযান শুরু হওয়ার পর এ সব ক্ষমতাধররা নিজেদের বাঁচাতে ছুটেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের কাছে। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় তাদের আশ্বাস বা কোনো সহযোগিতা না পেয়ে ফিরেছেন খালি হাতে। এ সব বিষয় বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে জাগরণের সঙ্গে কথা হয় দুই মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে। অবৈধ উচ্ছেদের বিষয়ে দুইহন একমত পোষণ করে বলেন, দখলকারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। নদীর পাড় দখল মুক্ত করা হবে। নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর জায়গা উদ্ধারে অভিযান শুরু হওয়ার পর অনেকেই আমার কাছে এসেছিলেন। তারা কেউ এসে বলেছেন, গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমার পক্ষে কাজ করেছেন। কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচয় তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমি তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছি, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে নদী বাঁচাতে হবে। তাই নদী বাঁচাতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের কোনো বিকল্প নেই। বরং এই উচ্ছেদ অভিযানে আপনাদের সবার সহযোগিতা করা উচিত। পরে তারা মাথা নিচু করে চলে গেছেন। একই কথা বললেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে তিনি অনড়। দখলদাররা যে দলেরই হোক, যে মতেরই হোক ছাড় পাবেন না।

[gs-fb-comments]