স্ত্রী কে খুন করে শ্বশুর বাড়িতে লাশ পাঠায় জামাই

16 February, 2019 : 6:45 am ২০১

কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মানিক কুমার দেবের বিরুদ্ধে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোজ শুক্রবার বিকাল অনুমান পাঁচ ঘটিকা শ্বশুরবাড়ি নাসিরনগরে ফোন করে জামাই ভাইস চেয়ারম্যান মানিক কুমার দেব।সে ফোন করে স্ত্রীর বড় ভাই চন্দন কুমার দেব কে বলে – আপনার বোন বিষ খেয়েছে। আপনার বোনকে পাঠাচ্ছি।আপনি চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করবেন। এ দিকে অষ্টগ্রাম থেকে স্পীডবোর্ড করে পাঠানো বোন লিপি রানি দেবকে রাত সাড়ে আটটার দিকে নাসিরনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক লিপি রানি দেব কে মৃত ঘোষনা করে। লিপি রানি দেব নাসিরনগর উপজেলা সদরের দত্তপাড়া এলাকার মৃত তুলসি রঞ্জন দেবের মেয়ে। লিপির মগ্ন চন্দ্র দেব নামে আট বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। লিপির ভাই ও আত্মীয় স্বজন জানায়, নিহতের স্বামী লিপিকে হত্যা করেছে। তাই তার লাশ কিশোরগঞ্জে না রেখে পারিবারের কাউকে দিয়ে না পাঠিয়ে প্রতিবেশী দুইজন ব্যাক্তিকে দিয়ে নাসিরনগরে পাঠিয়েছে। লিপি দেবের স্বামী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মানিকই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে এমন কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জনা গেছে, প্রায় ১২বছর আগে অষ্টগ্রামের দুর্গামোহন দেবের ছেলে মানিক কুমার দেবের সঙ্গে পারিবারিকভাবে লিপির বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছরে মাঝেই তাদের একটি ছেলে সন্তান হয়। তবে সে কয়েকদিন পর মারা যায়। এর দুই বছর পর মগ্ন দেবের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হতো। ঝগড়ার অন্যতম কারণ মানিক দেবের ৫ বোন বিয়ে হওয়া সত্ত্বেও স্বামীর বাড়িতে না থেকে বাবার বাড়িতেই থাকেন। আর এই পাঁচ বোনই লিপি দেবের সাথে নানা বিষয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত থাকতো। শুক্রবার বিকেলে বাড়ির রাস্তা নিয়ে লিপি দেবের সাথে মানিক দেবের বোনদের ঝগড়া হয়। এসময় লিপির স্বামী মানিক স্ত্রীর বিরুদ্ধে গিয়ে বোনদের পক্ষ নেয়। এক পর্যায়ে মানিক স্ত্রীকে মারধর করে হত্যা করে। এঘটনায় মানিক দেবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নিহতের স্বামী মানিক কুমার দেবের পরিবর্তে তার চাচাতো ভাই বিদ্যুৎ চন্দ্র রায় ফোন ধরেন। তিনি বলেন, মানিক অসুস্থ। নিহতের মৃত্যুর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানিক আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। শুক্রবার তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। আর তার নিহত স্ত্রী লিপি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ। এজন্যই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নিহতের বড় ভাই চন্দন দেব অভিযোগ করে বলেন, মানিক দেব প্রায় সময়ই পারিবারিক কলহের জের ধরে লিপিকে মারধর করত। শুক্রবার বিকেলে মানিক পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে গলা টিপে লিপিকে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে তার বোন লিপিকে হত্যা করেছে বলে নাটক সাজায়। পরে এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতেই মানিক তার বোন লিপিকে অষ্টগ্রাম থেকে স্পীডবোটে মানিকের দুই প্রতিবেশীর মাধ্যমে নাসিরনগর পাঠায়। চন্দন বলে, এ ঘটনায় তার বোনের হত্যাকারী মানিকের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন। তিনি আরও বলেন, বুকে পা দিয়ে গলা টিপে তার বোনকে হত্যা করেছে মানিক। চন্দন দেব কান্নাজড়িত কন্ঠে আরো বলেন, আজ (শুক্রবার) চারটায় আমাকে মানিক ফোন করে বলে, আপনার বোন (লিপি) বিষ খাইছে। আমরা চিকিৎসা করাইছি। আপনি আপনার বোনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়া চিকিৎসা করান। আমি স্পিডবোটে লিপিরে পাঠিয়ে দিচ্ছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা আবাসিক চিকিৎসক আজহারুর রহমান বলেন, হাসপাতালের আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মুখে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত দেখা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব অষ্ট্রগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রী নিহতের সংবাদ পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া লেগে ওই নারী বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে।

[gs-fb-comments]