আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বই উৎসবে লেখক ও পাঠকের ঢল নামবে। প্রতি বছর ভাষার মাসে অনুষ্ঠিত এ গ্রন্থমেলায় একুশে ফেব্রুয়ারিতেই সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয়। সাদাকালো পোশাকে মেলায় ঢল নামবে লেখকসহ সব শ্রেণীপেশার ভাষাপ্রেমী মানুষের। দেখা মিলবে পছন্দের শিল্পী, লেখক ও শিক্ষাবিদদের। সেই সাথে পালিত হবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সকাল থেকেই ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠবে শহীদ মিনার। অমর একুশে উপলক্ষে আজ মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল সাড়ে ৭টায় একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা। বক্তৃতা দেবেন ভাষাসৈনিক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৩৮টি। অন্যান্য বইয়ের সাথে মেলায় এসেছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প’। মির্জা মেহেদী তমালের ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’। বইটির লেখক সাংবাদিক মির্জা মেহেদী তমাল। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব তরুণ ‘ডন’ হয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ড শাসন করেছে তাদের অপরাধকাহিনী নিয়ে লেখা এই ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’। এটি লেখকের দ্বিতীয় বই। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। মেলার ১৮ নম্বর প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। এ ছাড়া এসেছে শাহাদত হোসেন খানের অটোমান সাম্রাজ্যের পতন। মামুন সারওয়ারের আঁকতে আঁকতে হলদে পাখি। বইটির প্রকাশক তাহমিনা শিরীন, পদক্ষেপ। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন সম্পাদিত সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ : ফিরে দেখা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেন : ড. হাবিব আর রহমান ও ড. আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ সামাদ। প্রাবন্ধিক বলেন, সওগাত-যুগের অবসান ঘটেছে বটে; কিন্তু এখনো তার প্রভাব অনুভব করা যায়। ভুললে চলবে না আজ বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে তরুণদের যে সাহিত্যিক মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছেÑ তারা তো সওগাত-কল্লোল-কালিকলম-প্রগতি-বুলবুল-চতুরঙ্গ-ছায়াবীথি-গুলিস্তাঁরই প্রতিনিধি। তিনি বলেন, সওগাত বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসের গতি পরিবর্তন করে দিয়েছে। ‘সওগাত’ তাই কালের দাবি পূরণকারী ইতিহাসের গতি-নিয়ন্ত্রক একটি সাহিত্য পত্রিকা। আলোচকবৃন্দ বলেন, সওগাত পত্রিকা বাঙালি মুসলিম সমাজে প্রগতিশীলতার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এ পত্রিকা নারীস্বাধীনতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেমন ভূমিকা রেখেছে তেমনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উদার আবহ সৃষ্টিতে এই পত্রিকার ভূমিকা ঐতিহাসিক গুরুত্বের দাবি রাখে। তারা বলেন, সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন এই পত্রিকার মধ্য দিয়ে কাজী নজরুল ইসলামসহ বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিক প্রতিভা বিকাশ, পরিচর্যা ও লালনে যে ভূমিকা রাখেন তা এক কথায় অবিস্মরণীয়। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন : কবি মাসুদুজ্জামান, কবি মুজতবা আহমেদ মোরশেদ, কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধা, প্রাবন্ধিক শীলা মোস্তফা ও কবি প্রত্যয় জসিম। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি আসাদ চৌধুরী, নাসির আহমেদ, মারুফুল ইসলাম ও ওবায়েদ আকাশ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ডালিয়া আহমেদ ও অলোক বসু।