জিয়ার কবর জিয়ারত না করায় বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বাবা বি চৌধুরীকে সরিয়ে দেয়

25 February, 2019 : 9:22 am ১০০

রবিবার বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার সুযোগ পান মাহী। দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বি চৌধুরীকে সরিয়ে দেয়া এবং দুর্নীতি-সন্ত্রাসসহ বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন। প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত না করায় বি চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন মাহী। তিনি জানান, সে সময় দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেদিন বঙ্গভবনে তিনি মিথ্যাচার করেছিলেন বলেও স্বীকার করেন সাবেক রাষ্ট্রপতিপুত্র। মাহী বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি সেদিন মিথ্যাচার করেছি।’ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাহী বলেন, ‘বিএনপি সংসদীয় দলে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের দাবি জানানোর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য। তোমাকে একটি বড় গুরুদায়িত্ব প্রদান করছি। সংসদীয় দলের এ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতিকে জানানো এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার দায়িত্ব দেয়া হলো আমার কাছে।’ ‘আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলাম। একজনকে অন্যায়ভাবে ফাঁসির আদেশ দিলেন তারপর তার সন্তানকে জল্লাদের দায়িত্ব দিলেন। দিস ইজ পলিটিক্স অব ক্রুয়েলটি। আমি মনে করি, বিএনপি যে নিষ্ঠুরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আগামীতে ইতিহাসের পর্যালোচনার জন্য সংসদে এই বক্তব্য রেকর্ড থাকুক।’ মাহী বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে এমন দায়িত্ব পেয়ে যখন আমি বঙ্গভবনের উদ্দেশে যাত্রা করছি, তখন আমার সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। যাওয়ার পথে তিনি কোনো কথা বলেননি। শুধু নীরবে কেঁদেছেন। বঙ্গভবনে উপস্থিত হবার পরে সাংবাদিকরা আমাকে প্রশ্ন করেছে, আমি কেন সেখানে গিয়েছি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছি, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে এসেছি।’ ‘কেন রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হবে?-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে আমি বলেছিলাম, মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত না করবার জন্য আমরা ব্যথিত হয়েছি। সে কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। একজন রাষ্ট্রপতি কবর জিয়ারত করবেন না, সেজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে-এটা কী ঠিক? সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন করলে বিএনপির পক্ষ থেকে আমি জবাব দিলাম গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। আসলে এটা বলে আমি সেদিন মিথ্যাচার করেছি।’ এর আগের ঘটনার বর্ণনায় মাহী বি চৌ্ধুরী বলেন, ‘তারেক রহমান বললেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে জানাও আমি তার সাথে ডিনার করব। সভা থেকে বেরিয়ে আমি আমার মাকে টেলিফোন করেছি। তারেক রহমান ফোন করে মেনু দিয়েছেন তিনি কী খাবেন। একদিকে যখন বঙ্গভবনে তারেক রহমানের জন্য ডিনার তৈরি হচ্ছে, সেই সময়ে বঙ্গভববনে রাষ্ট্রপতির থাকার জন্য যে আবাসস্থল ছিল, তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হলো। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে নিয়োজিত পিজিআরকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হলো এবং এসেএসএফের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির বাসভবনের নিরাপত্তা গ্রহণ করা হলো। যে সময় আমরা ভাবছি, যে ধরনের আচরণ হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তার জন্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ দুঃখ প্রকাশ করবে। সেই সময় আসলে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করা হচ্ছে।’ এ সময় মাহী অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকারে থাকাকালে তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার ষড়যন্ত্র পর্যন্ত করেছে। তাকে কোথাও কথা বলতে দেয়া হয়নি। এমনকি নিউইয়র্কে গিয়ে পর্যন্ত তিনি কোনো প্রোগ্রাম করতে পারেননি।

[gs-fb-comments]