নেপথ্যে চন্দন-ফরিদ ও বোর্ড মেম্বার পিডিবি’র ২ সিবিএ নেতাকে সরাতে নানমুখি অপতৎপরতা চলছে

26 February, 2019 : 11:56 am ১৪৩
 বিশেষ প্রতিনিধি:
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি’র) শ্রমিক সংগঠন সিবিএর ২ নেতাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেবার নানামুখি অপতৎপরতা চলছে। জামায়াত-বিএনপি’র আদর্শ লালনকারী একটি গ্র“প কতিপয় বোর্ড মেম্বারের ইন্ধনে এই তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দাবী করা হয়েছে। সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে চন্দন ও ফরিদের নেতৃত্বে সংগঠনের সিবিএ কার্যালয়ের দখল নিতে চেষ্টা করলে প্রশাসনিক হস্তেেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যদর্শী পিডিবি’র কর্মচারী ও কর্মকর্তা সুত্রে জানা যায়,, দীর্ঘ দিন ধরেই একটি গ্র“পের তৎপরতায় শ্রমিক সংগঠনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সোমবার দুপরের দিকে চন্দন কুমার চংদার এবং ফরিদের নেতৃত্বে এক দল শ্রমিক-কর্মচারী সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়াকে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতে হুমকি দেন। এ সময় জহির ও আলাউদ্দিন কার্যালয় ছাড়তে না চাইলে উভয় পরে মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মতিঝিল থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে পিডিবি’র নির্বাচিত সিবিএ সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চন্দন ও ফরিদের নেতৃত্বে কিছু পদ বঞ্চিত সকালে অফিসে এসে দখল নিয়েছিল। কিন্তু আমরা তাদের বের করে দিতে গেলে সামান্য হট্টোগোল হয়। তবে কোনও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি । তিনি স্বীকার করেন, অনাকাংখিত কোন ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্যে তারা নিজেরায় সিবিএ কার্যালয়ে তালা দিয়ে রেখেছেন। চন্দন কুমার চংদার বলেন, দুপুরের দিকে আমরা সিবিএ অফিসে গেলে আমাদের উপর সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিনের অনুসারীরা হামলা করে। জানা গেছে, পিডিবির সিবিএ নেতাদের মধ্যে বর্তমান সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়ার চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও তারা নেতৃত্বে থাকায় পদ বঞ্চিত সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি অংশ তাদের-নেতৃত্ব মানতে চাইছেন না। এ নিয়ে তারা উচ্চ আদালতে রিটও দায়ের করেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আগের হাইকোটের আদেশ রহিত করে রিট আবেদনের পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে। এ দিকে পিডিবির শ্রমিক কর্মচারীদের প্রান প্রিয় নেতা মো: জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও মো: আলাউদ্দিন মিয়ার ওপর হামলা ও বাকা পথে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেবার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ােভে ফুঁসে উঠেছেন পিডিবির সাধারণ শ্রমিক- কর্মচরিীরা। তারা বলেন, গতকাল,যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠনটিকে ধ্বংস করারই একটা ষড়যন্ত্র। বেশ কিছুদিন থেকেই জামায়াত-বিএনপি আদর্শের একটি চক্র বিদ্যুৎ পরিবারের আওয়ামীলীগের নিবেদিত ও পরীতি সিবিএ নেতা মো: জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও আলাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে নানামুখি ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন। তারা বিদ্যুৎ সেক্টেরে অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। তারা আরো জানান, পিডিবি সিবিএর বর্তমান সাধারন সম্পাদক মো: আলাউদ্দিন মিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা । তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ড কাউন্সিলে সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ভোটে সর্বশেষ নির্বাচিত মহাসচিব (কল্যান) পদে নির্বাচিত হন। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ, পরবর্তীতে কর্মজীবনে প্রবেশ করে বিদ্যুৎ সেক্টরে তিনিই জয় বাংলা স্লোগান চালু করতে জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ বি-১৯০২ গড়ে তুলেন। যার রেজিষ্ট্রেশন কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তার নিজস্ব টাকায় বর্তমান শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নিজান সুফিয়ানের তত্বাবধানে করেছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের বিচারের দাবিতে যুগের পর যুগ পেশাজীবি মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক- কর্মচারী ,সাংস্কৃতিক বিভিন্ন পেশার মানুষদের সমন্বয় পরিষদ গঠন করে এর অন্যতম সমন্বয়ক ও সদস্য সচিব হিসাবে সংগ্রাম করেছেন। বিএনপি -জামাত বিরোধী আন্দলনে মতিঝিল পাড়ার সরকারী স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে রাজপথে ছিলেন। বিদ্যুৎ সেক্টর যতগুলো সংগঠন আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আওয়ামীপন্থী তাদের সমন্বতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন মিয়া। সারা বাংলাদেশ ঘুরে আজ এই বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ প্রতিষ্টা করতে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন মিয়া কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বিগত সময় খালেদা জিয়ার আগুন বোমায় মানুষ মারার প্রতিবাদে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসভবন ঘেরাও সহ তার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিদ্যুৎ শ্রমিকরা। আওয়ামী আদর্শের চেতনা ও বাংলাদেশে নৌকার বিজয়ে বিগত দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কাজকে গতিময় রাখতে শ্রমিক কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এই ২ নেতা। তাই বিদ্যুৎ সেক্টর’র সফলতার জন্য শ্রমিক কর্মচারী -কর্মকর্তার নেতৃত্বের অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। তারা জানান, সফল নেতা জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন মিয়া সারা বাংলাদেশের জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের নেতা কর্মীদের সমর্থনে শ্রম আইনের স্পষ্টভাবে ১০% কোটায় শুধু ঐ প্রতিষ্ঠান নয় বাহির থেকেও সংগঠনের সদস্য চাইলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকতে পারবেন এটার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। বিগত ও বর্তমান কমিটির ৯৮% কেন্দ্রীয় নেতা জহির -আলাউদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে বিশেষ করে পিডিবির ট্রেড ইউনিয়ন রায় ও শ্রমিক-কর্মচরিীদের কল্যাণে তাদের পাশে আছেন অভিভাবকের মত। সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত কোন প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গায়ের জোরে হয়না। তার অনুমোদন ও তত্বাবধান করেন শ্রম পরিচালক ও রেজিষ্টার্ড অব ট্রেড ইউনিয়ন। বর্তমান কমিটি শ্রম পরিচালকের বৈধ অনুমোদিত। যার বিরুদ্ধে দুই তিনজন বাদ পড়া আর কিছু বিশৃংখলাকারীরা উচ্চ আদালতে একের পর এক মামলা করেও স্বার্থচরিতার্থ করতে না পেরে নামে বেনামি সংগঠন নেতা ও সরকারের স্পর্শ কাতর বিদ্যুৎ খাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার নীল নকশায় পা বাড়িয়েছেন। দুদক তার আইনের আওতায় যা করেছে সেবিষয়ে কারো কোন বক্তব্য নেই। তারা সকলেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল । সরকারী গাড়ি ব্যবহার সকল সিবিএ নেতারাই করে থাকেন প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের স্বার্থে ।

[gs-fb-comments]