শিব পূজোয় শিবের মাথায় কেন জল ও বেলপাতা দেওয়া হয়? শিবরাত্রি ব্রত পালন করা কেন প্রয়োজন? ব্রতকথাঃ অনেক কাল আগে বারানসীতে এক ব্যাধ বাস করতো। সে জীব হত্যা করতো। প্রাণী শিকার করে তার মাংস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। একদিন সে না খেয়ে শিকার করতে বেরিয়ে পরে। আস্তে আস্তে রাত হয়ে পরে। সে তখন শিকার নিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে পারেনি। অন্য দিকে মাংস সাথে থাকার কারণে জঙ্গলে পশুর আক্রমণের ভয়। রাতটি ছিল মহা শিবরাত্রির রাত। সে সামনে একটি বেল গাছ দেখতে পেল। উপায় না পেয়ে সে ঐ বেল গাছের উপরে রাত্রি যাপনের সিদ্ধান্ত নিল। সে বেল গাছের ডালকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল। বেল গাছের নিচে ছিল একটি শিবলিঙ্গ। রাতের প্রচণ্ড শীতে সে কাঁপতে লাগত। তার কাঁপুনিতে একটি শিশিরে ভেজা বেল পাতা তার শরীর স্পর্শ করে শিবলিঙ্গের মাথায় পরল। ব্যাধ তার অজান্তে শিব পূজো করে ফেলেছে। শিব তার পূজোয় অত্যন্ত তুষ্ট হয়ে ছিলেন। অন্যদিকে ব্যাধ কিছু না খাওয়ায় শিবরাত্রি ব্রতও পালন করে ফেলেছিল। পরের দিন সকাল সে বাড়ি চলে যায়। একদিন ব্যাধ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করে। যমলোক থেকে যমদূতেরা আসে তাকে নরকে নেওয়ার জন্য। অন্যদিকে শিবলোক থেকে শিব দূতেরা আসে তাকে কৈলাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য। ব্যাধকে কোন লোকে নিয়ে যাবে তা নিয়ে খণ্ড যুদ্ধ বেজে গেল। যম স্বয়ং আসেন। তিনি শিবদূতেদের জিজ্ঞেস করেন, “ব্যাধ একজন পাপী। সে জীব হত্যা করেছে। সে দণ্ডের ভাগী। সুতরাং কেন তাকে কৈলাশে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন?” তখন শিবদূতেরা বলেন,”ব্যাধ মহা শিবরাত্রি ব্রত পালন করেছে। সে বেল পাতা ও জল অর্পণ করে শিবকে তুষ্ট করেছে। তাই ভগবান শিবের আশীর্বাদে তার সকল পাপ মুছে যায়। এজন্য সে কৈলাশ প্রাপ্ত হচ্ছে। ” শিবরাত্রি ব্রতের এ মহা ব্রতকথা চারদিকে ছড়িয়ে যায় এবং এই ব্রত কথা প্রচলিত হয়।