রিপোর্টার //

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে চলতি সপ্তাহে বেশ বড় দুটি ইয়াবার চালান আটক করেছে পুলিশ। মাগুয়ে প্রশাসনিক অঞ্চল ও রাখাইন রাজ্যের মংডু থেকে এ দুটি চালান আটক করা হয়। দুটি চালানে এক কোটির ইয়াবা বড়ি ছিল, যা বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল বলে গতকাল সোমবার জানিয়েছে পুলিশ।
আটক করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১২ কোটি টাকা। পুলিশের কর্নেল উইন কো কো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, চলতি বছর মিয়ানমারে এটি সবচেয়ে বড় মাদকের চালান আটকের ঘটনা। রাখাইনের মংডু এলাকার ইতিহাসে এত বড় মাদকের চালান এর আগে আটক হয়নি।
ইয়াবার মূল উপাদান মেথামফেটামিন। এটি বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে ‘মাদক’ হিসেবে নিষিদ্ধ। মেথামফেটামিন উৎপাদনকারী বিশ্বের শীর্ষ দেশ মিয়ানমার। মেথামফেটামিন দুই ধরনের। একটি দেখতে স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো; যা মাদকের দুনিয়ায় ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ (বরফ) নামে পরিচিত। এই উচ্চ মানের মাদক মিয়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশের বাজারে যায়।
আরেকটি নিম্নমানের মেথামফেটামিন, যার সঙ্গে ক্যাফেইন মেশানো হয়। এটিই এ অঞ্চলে ‘ইয়াবা’ নামে পরিচিত। একে ক্রেজি মেডিসিন (পাগল ওষুধ) বা ‘ঘোড়ার ওষুধ’ বলা হয়ে থাকে। থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের বাজারে মিয়ানমারের ইয়াবা সবচেয়ে বেশি পাচার হয়ে থাকে।
মিয়ানমারের অধিকাংশ মাদক উৎপাদিত হয় পূর্বাঞ্চলীয় শান রাজ্যে; যা রাখাইনের অন্য প্রান্তে অবস্থিত। সহিংসতা-জর্জর ওই রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী সেসব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। ওই অঞ্চলে পপি চাষ হয়। বিশ্বে আফগানিস্তানের পরে মিয়ানমারই সবচেয়ে বেশি পপি উৎপাদন করে। পপি আফিম ও হেরোইনের উপাদান।
শানের পপিঘেরা পাহাড়গুলো মেথামফেটামিনের গবেষণাগারের জন্য আদর্শ স্থান। কারণ মিয়ানমারেও এটি নিষিদ্ধ। চীন থেকে এর রাসায়নিক উপাদান বন্যার পানির মতো আমদানি হয়ে থাকে।