‘মুক্তি সংগ্রামের’ মর্মবাণী হলো, ম্রাজ্যবাদী শাসন-শোষণের হাত থেকে মুক্তি অর্জনের প্রয়াস। জাতিগতভাবে সব ধরনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক শাসন-শোষণ-আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে, জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অবাধ জাতীয় বিকাশের পথকে প্রতিবন্ধকতামুক্ত করাই হলো যে কোনো
‘মুক্তি সংগ্রামে’র লক্ষ্য। মধ্যযুগীয় সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থা ও রাজা-মহারাজাদের ‘সাম্রাজ্য’ভিত্তিক শাসনব্যবস্থার গর্ভে অঙ্কুরিত হওয়া শিল্প বিপ্লব, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে পুঁজিবাদে উত্তরণ, জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াকালে বিশ্বে ‘জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে’র উদ্ভব ঘটেছিল।
ইতিহাসের সেই যুগের সূচনালগ্নেই গোটা ভারতবর্ষ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে শৃঙ্খলিত হয়ে পড়েছিল। সেরূপ পটভূমিতে বাঙালি জাতিসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন জাতির মধ্যে জাতীয় মুক্তির আকাক্সক্ষার বিকাশ ও সেজন্য সংগ্রামের নানামুখী ধারার উন্মেষ ঘটেছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুর ঠিক সেই সময়টিতেই পূর্ববাংলাসহ গোটা বঙ্গদেশ এবং সমগ্র ভারতবর্ষে বামপন্থি ধারার তৎপরতা সুস্পষ্ট আকার ও রূপ লাভ করতে শুরু করেছিল।
শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে কমিউনিস্ট সংগঠনের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তখন ভারতের জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব (কংগ্রেস নেতৃত্ব) ‘হোম রুল’ বা স্বশাসনের দাবি নিয়ে দরবার করছিল। কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে তখন ‘পূর্ণ স্বাধীনতার’ প্রস্তাব সর্বপ্রথম জাতীয় কংগ্রেসের প্রকাশ্য অধিবেশনে উত্থাপন করেছিলেন কমিউনিস্ট নেতা অনুপভেল্লি চেত্তিয়ার।
এই দাবি আরও জোরদার করেছিলেন কমিউনিস্ট নেতা মাওলানা হাসরাত মোহানী। কমিউনিস্টরা জন্মলগ্ন থেকেই ছিল ব্রিটিশ শাসকদের চক্ষুশূল, তাদের আক্রমণের এক নম্বর টার্গেট এবং জেল, জুলুম, হত্যা, ষড়যন্ত্র মামলা, দ্বীপান্তর প্রভৃতির প্রধান শিকার। কমিউনিস্টদের কাছে শোষণমুক্তি ও সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যটি শুরু থেকেই জাতীয় মুক্তি অর্জন ও ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের জন্য সংগ্রামের প্রশ্নটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত।
স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে শ্রমজীবী জনগণসহ ব্যাপক জনতাকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তারা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ব্যক্তিগত সন্ত্রাসের পথে পরিচালিত অকাতরে জীবন দিতে প্রস্তুত অকুতোভয় হাজারো বিপ্লবী তরুণ-তরুণীকে তারা গণবিপ্লবের ধারায় ও সমাজতন্ত্রের বৈজ্ঞানিক মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল। স্বাধীনতা ও জাতীয় মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামকে খর্ব করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশরা তখন তাদের কুখ্যাত ‘ভাগ করো, শাসন করো’_ এই সাম্প্রদায়িক কৌশল প্রয়োগে তৎপর হয়ে উঠেছিল।
মুসলিম সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি_ উভয়কেই ব্যবহার করে, সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভেদনীতির অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে, তারা ভারতবর্ষকে পৃথক দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। নানা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ও অতিদ্রুত ঘটে যাওয়া নানা ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া গণবিভ্রান্তিকে সুচতুরভাবে কাজে লাগিয়ে ঔপনিবেশিক শাসকরা সাম্প্রদায়িক ভেদনীতি প্রয়োগের দ্বারা দেশ ভাগের মাধ্যমে যে বিভেদের বিষ গলাধঃকরণ করতে বাধ্য করেছিল, তাতে গোটা উপমহাদেশে আধিপত্য ও প্রভাব অটুট রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পরও তাই জাতীয় মুক্তির অসমাপ্ত কর্তব্য সম্পূর্ণ করার এজেন্ডাটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হিসেবে রয়ে গিয়েছিল। এর পাশাপাশি, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে বাঙালি জাতির সামনে আরেকটি অতিরিক্ত করণীয় যুক্ত হয়ে পড়েছিল।
পাকিস্তান শুধু সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রই ছিল না, জন্মলগ্ন থেকেই তার অপর বৈশিষ্ট্যটি ছিল অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে তার জাতিগত শোষণ পরিচালনার চরিত্র। বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ববাংলার (পূর্ব পাকিস্তানের) ওপর বৈষম্য ও বাঙালি জাতিসত্তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের শাসকরা নির্মম জাতিগত শোষণ চাপিয়ে দিয়েছিল। পাকিস্তানি শাসন-শোষণ বাঙালির কাছে হয়ে উঠেছিল আরেকটি নতুন ঔপনিবেশিক ধরনের শোষণ। পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালি জাতির ক্ষেত্রে ‘জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম’ এভাবে নতুন মাত্রিকতা অর্জন করেছিল।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই পূর্ববাংলার (পূর্ব পাকিস্তানের) কমিউনিস্টদের পক্ষে এ কথাটি বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি যে, বাঙালি জাতির জাতীয় ক্ষেত্রে তাদের মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যটি কার্যত অপূর্ণই রয়ে গেছে। তাই দেশ ভাগের সঙ্গে সঙ্গে তারা ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়’ স্লোগান দিয়ে গোটা উপমহাদেশে সশস্ত্র অভ্যুত্থান সংগঠিত করার পথে অবতীর্ণ হয়েছিল। এ কথা ঠিক যে, এটা ছিল কমিউনিস্টদের বাম-হঠকারী বিচ্যুতির প্রকাশ। ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ।
কিন্তু পাকিস্তান ও পূর্ববাংলার পরিস্থিতির আলোকে এই ভুল স্লোগানের মধ্যেও এক গভীর সত্য অন্তর্নিহিত ছিল। পাকিস্তানের আজাদি যে ‘ভুয়া আজাদি’ তা ১৯৪৮ সালেই কমিউনিস্টরা ঘোষণা করেছিল। পাকিস্তান যে একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র এবং এ ধরনের কৃত্রিম রাষ্ট্র যে চিরস্থায়ী হতে পারে না, সেই উপলব্ধি কমিউনিস্টদের মধ্যে শুরু থেকেই সাধারণভাবে কিছুটা পরিমাণে ছিল।
দেশভাগের পর পাকিস্তানে যে নিপীড়নমূলক, অগণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক, শোষণমূলক (জাতিগত ও শ্রেণিগত) অধ্যায়ের সূচনা হয়, তার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল কমিউনিস্টরা। তাই সবচেয়ে আগে ও নিষ্ঠুর নির্মমতায় পাকিস্তানি শাসকদের হামলা নেমে এসেছিল দৃঢ়চেতা আদর্শনিষ্ঠ কমিউনিস্টদের ওপর। কমিউনিস্ট পার্টির জন্য প্রকাশ্যে কাজ অসম্ভব করে তোলা হয়েছিল। এরূপ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যেও নির্যাতন, জেল-জুলুম, হুলিয়া, হামলা-মামলা, হত্যা, নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি উপেক্ষা করে কমিউনিস্টদেরই পাকিস্তানি জামানাতে প্রায় এককভাবে সূচনা করতে হয়েছিল গণতন্ত্র, জাতীয় অধিকার ও রুটি-রুজির জন্য সংগ্রামের নতুন অধ্যায়। ইতিহাসের এসব ঘটনা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
এক পর্যায়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদী শক্তি মুসলিম লীগ থেকে বেরিয়ে এসে আওয়ামী লীগ গঠন করার মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে তাকে বেগবান করেছিল। কিন্তু ’৫৬ সালের পর বাঙালির স্বাধিকারের ইস্যুতে আওয়ামী লীগ যখন পিছিয়ে গিয়েছিল, তখন এই বামপন্থি শক্তিকেই এক দশক ধরে কার্যত এককভাবে সেই দাবি ও আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হয়েছিল। আইয়ুববিরোধী সংগ্রামের সময় থেকেই স্বাধীন পূর্ববঙ্গের ইস্যুটি একটা আলোচ্য বিষয় হিসেবে ক্রমেই সামনে আসা শুরু করেছিল।
কমিউনিস্ট পার্টির স্বাধীন পূর্ববঙ্গের দাবি সম্পর্কে ১৯৬২ সালের ১৪ জুলাই এক ‘রাজনৈতিক চিঠিতে’ পার্টির মতামত জানিয়ে বলেছিল যে, “… এ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইবার
অধিকারসহ জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা আমাদের মূল্য লক্ষ্য। … স্বাধীন পূর্ববঙ্গের দাবির মধ্যে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নটি নিহিত রহিয়াছে। …. ভবিষ্যতে পূর্ব পাকিস্তানে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন জাতীয় রাষ্ট্র গড়িয়া উঠা আমরা অস্বাভাবিক বা অসম্ভব বলিয়া মনে করি না। … কিন্তু বর্তমানে এরূপ দাবি উত্থাপন করা আমরা অপরিপক্ব ও অসময়োচিত মনে করি। … বর্তমানে আমরা পরিপূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করিব। … কিন্তু যাহারা ‘স্বাধীন পূর্ববাংলা’ দাবি উত্থাপন করিবেন আমরা তাহাদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকিব।
…” ১৯৬২ সালের ২৮ আগস্ট জেলা ইউনিটগুলোর কাছে পাঠানো কমিউনিস্ট পার্টির এক দলিলে বলা হয়েছিল, “যেভাবে একটি ধর্মীয় আদর্শের অস্বাভাবিক ও কৃত্রিম বুনিয়াদের উপর … পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হইয়াছে … তাহাতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্থায়ী হওয়ার কারণ খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। … এই অবস্থায় … দুইটি পৃথক অঞ্চল নিয়া একটি মাত্র রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভিত্তি থাকিবে বলিয়া মনে হয় না।
সুতরাং ভবিষ্যতে পাকিস্তান রাষ্ট্র একাধিক স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হইয়া পড়িতে পারে।” আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে শুরু হওয়া কেবল নয় মাসের একটি ‘সামরিক অভিযান’ ছিল না। তা ছিল দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণসংগ্রামের নির্যাস, তার শীর্ষ অধ্যায়। ব্রিটিশ শাসন অবসানের জন্য প্রায় দুই শতাব্দীকাল ধরে পরিচালিত সংগ্রাম এবং পাকিস্তানি আমলের দুই যুগের এসব সংগ্রাম হলো আমাদের জাতীয় মুক্তির লড়াই তথা মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সার্বিক বিস্তৃতিকালের বিভিন্ন পর্বে এ দেশের কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা অনন্য ও ঐতিহাসিক অবদান রেখেছে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এবং সময়ে সময়ে এই অবদান ছিল নির্ধারক, ক্রান্তিকালীন এবং কখনো কখনো সাময়িকভাবে নেতৃত্বমূলক। কিন্তু শাসকদের ‘অফিশিয়াল’ ইতিহাসে এসবের স্বীকৃতি নেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, কমিউনিস্টদের একাগ্র প্রচেষ্টার ফলে বাঙালির সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠতে পেরেছিল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অগ্রসরমান জাতীয় মুক্তি-সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এর ফলেই সম্ভব হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চ্যালেঞ্জিং ও ভাগ্য নির্ধারণমূলক চূড়ান্ত পর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নসহ সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো যাতে আমাদের পাশে দৃঢ়ভাবে এসে দাঁড়ায়, তার ভিত্তি রচনা। কমিউনিস্ট পার্টির প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বশান্তি আন্দোলন ও জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এসে দাঁড়িয়েছিল। ফলে পাকিস্তানের মদদদাতা হিসেবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ প্রত্যক্ষভাবে হানাদার বাহিনীর পক্ষে নেমে পড়া সত্ত্বেও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সহায়তায় জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের ধারায় সশস্ত্র সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রবল পরাক্রান্ত শক্তিকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছিল।
এভাবে বহুলাংশে কমিউনিস্ট পার্টির নীতিনিষ্ঠ ও সাহসী অবদানের কারণে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম একটি বুর্জোয়া ধারার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হয়ে ওঠার বদলে পাকিস্তানের দ্বিজাতিতত্ত্ব ও তথাকথিত মুসলিম জাতীয়তাবাদকে নাকচ করে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ রচনা করতে সক্ষম হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তা পাকিস্তান রাষ্ট্র কর্তৃক অনুসৃত সাম্রাজ্যবাদনির্ভর পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক নীতির বিপরীতে সমাজতন্ত্র অভিমুখিন প্রগতিশীল অর্থনৈতিক সামাজিক বিকাশের পথনির্দেশও সুস্পষ্ট করেছিল।
কমিউনিস্টদের নিরলস প্রয়াসের ফলেই মুক্তিযুদ্ধ তার প্রগতিশীল চরিত্র অর্জন করতে পেরেছিল। এর ফলে সম্ভব হয়েছিল বাঙালির জাতিগত আত্মপরিচয়ের ভিত্তিতে একটি অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ভিত্তির নতুন প্রগতিশীল সমাজতন্ত্র অভিমুখিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
সম্ভব হয়েছিল স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র_ এ চার মূলনীতিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা। একাত্তরের পর ৪৮ বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু যে পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ বলতে গেলে উধাও করে ফেলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারায় দেশের এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, সেই চেতনাধারা আজ বস্তুত নির্বাসিত। দেশকে পথহারা করা হয়েছে।
কমিউনিস্টরা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে থাকলে এমনটি হতে পারত না। এ কথা তাই বলা যাবে না যে, মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে। বলতে হয় যে, মুক্তিযুদ্ধ এখনো চলছে। কমিউনিস্ট পার্টি একাগ্রতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সেই বিপ্লবী ঝাণ্ডা উড্ডীন রেখে এগিয়ে চলছে, এগিয়ে যাবে।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।