এপ্রিল ফুল-গ্রানাডা ট্র্যাজেডি : বিকৃতির অতলতল

1 April, 2019 : 8:46 am ৮৮

ডেস্ক রিপোর্ট।।

‘পহেলা এপ্রিল’। একটি তারিখ কিংবা দিবস। বছরের ৩৬৫ দিনের একটি। কিন্তু এর তাৎপর্যময়তা! অত্যন্ত জটিলতাময়। অথচ সময়ের বিবর্তনে বদলে যায় তার দৃশ্যপট-বাস্তবতা। নানা রঙে হয়ে যায় বিবর্ণময়। অার এই বিবর্তন কি অাপনা অপনিতেই সম্ভব? কদ্যপি নয়। অামরাই বদলে দিই-মদদ দিই-সহায়তা করি। পরিণামে দোষ চাপাতে থাকি ইতিহাস ব্যাটার ঘারে! হয় ইতিহাস বিকৃতির অতলতল, অামরা হাসি-মেনে নেই-গা ভাসাই-মুখ লুকাই অারো কতো কি।

পহেলা এপ্রিল ঐতিহাসিক গ্রানাডা ট্র্যাজেডি দিবস। মুসলিম উম্মাহ্’র জন্য চরম বেদনা-বিধূর একটি দিন। অাজ থেকে সোয়া পাঁচশ’ বছর আগে। রাজা ফার্দিনান্দ বিশ্বের ইতিহাসে জন্ম দেন এক ঘৃণ্যতম প্রতারণা। যার মাধ্যমে স্পেনের রাজধানীতে হাজার হাজার মুসলমান নারী-পুরুষকে জীবন্ত দগ্ধ করে মেরেছিলেন। খৃস্টান সম্প্রদায় এই দিনটিকে ‘এপ্রিল ফুল’ (এপ্রিলের বোকা) দিবস হিসেবে বেশ সাড়ম্বরে পালন করে থাকে। তারচে’ বড়ো দুর্ভাগ্য যে, বিশ্বায়নের গড্ডলিকায় গা ভাসিয়ে মুসলমানদের মধ্যেও বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ‘এপ্রিল ফুল’ পালন করতেও উদ্বুদ্ধ হয়!

১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম শাসনের গৌরবোজ্জ্বল জনপদ স্পেনে খ্রিস্টানদের সম্মিলিত বাহিনী অসংখ্য নিরীহ নারী-পুরুষকে হত্যা করে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে উল্লাসিত হয়ে ছুটে আসে রাজধানী গ্রানাডায়। রাজা ফার্দিনান্দের নির্দেশে জ্বালিয়ে দেয় আশপাশের সব শস্য খামার। পোড়ানো হয় শহরের খাদ্য সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র ‘ভৈগা উপত্যকা’। এতে গোটা শহরজুড়ে দুর্ভিক্ষ প্রবলাকার ধারণ করে। এই মওকায় প্রতারক ফার্দিনান্দ দেন অারেক ঘোষণা। ‘মুসলমানরা শহরের প্রধান ফটক খুলে দিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় মসজিদে আশ্রয় নিলে বিনা রক্তপাতে দেয়া হবে মুক্তি।’ দুর্ভিক্ষতাড়িত গ্রানাডাবাসী অসহায় নারী-নিষ্পাপ শিশুদের জীবনের দিকে তাকিয়ে খ্রিস্টানদের আশ্বাসে স্থাপন করে বিশ্বাস, খুলে দেয় শহরের প্রধান ফটক; সবাইকে নিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে আল্লাহর ঘর পবিত্র মসজিদে।

মানব সভ্যতার কলঙ্ক, বিশ্বাসঘাতক রাজা ফার্দিনান্দ মুসলমানদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ পুরোপুরি গ্রহন করে। শহরে প্রবেশ করে খ্রিস্টান বাহিনী মুসলমানদের প্রতিটি মসজিদে একযোগে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর মসজিদগুলোর চারদিকে ধরিয়ে দেয় আগুন! বর্বর উল্লাসে মাতে মানুষরূপী হায়েনাগুলো। অগণিত পুরুষ, মহিলা ও শিশু সেদিন অসহায়ভাবে আর্তনাদ করতে করতে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায়। মুসলমানদের সেদিনকার আর্তচিৎকারে গ্রানাডার আকাশ-বাতাস যখন হচ্ছিলো প্রকম্পিত, তখন রাণী ইসাবেলা হেসে বলেছিলেন, ‘হায়রে মুসলমান! তোমরা এপ্রিলের বোকা! শত্রুর আশ্বাসে কি কেউ বিশ্বাস করে?’

বিগত ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের পহেলা এপ্রিল গ্রানাডা ট্র্যাজেডির পাঁচশ’ বছর উদযাপন উপলক্ষে স্পেনে আড়ম্বরপূর্ণ এক সভায় মিলিত হয়েছিলো বিশ্ব খ্রিস্টান সম্প্রদায়। সেখানে তারা নতুন করে শপথ নেয় একচ্ছত্র খ্রিস্টান বিশ্ব প্রতিষ্ঠার। বিশ্বব্যাপী মুসলমান জাগরণকে ঠেকাতেই গড়ে তুলেন ‘হলি মেরী ফান্ড।’ অার ওই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় গোটা খ্রিস্টান জাতি নানা ছুতোয় ইরাক, ফিলিস্তিন, লেবানন, লিবিয়াসহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে একের পর এক আগ্রাসন অব্যাহত রেখেই চলেছে! অাবার এক শ্রেণীর মুসলমান তাদের পদলেহন করেই যাচ্ছে!

‘জাবাল আল তারেক’, অর্থাৎ তারেকের পাহাড়। অজও ঠিক সেখানটাতেই সগর্বে ঠায় দাঁড়িয়ে অাছে। সেই ৭১১ খ্রিষ্টাব্দের কথা। খোলাফায়ে রাশেদীনের পরবর্তী পর্যায়। উমাইয়া খিলাফত অামলে মুসলমানরা তারেক-বিন জিয়াদের নেতৃত্বে ভূ-মধ্যসাগরের উত্তর তীরস্থ স্পেনকে রাজা রডারিকের দু:শাসন থেকে রক্ষা করেছিলেন। অথচ আজ! অামরা কি দেখছি-শুনছি-জানছি? মুসলিম বিদ্বেষী ইউরোপিয়ানরা সেই ‘জাবাল অাল তারেক’র নাম বদলে রেখেছে ‘জিব্রাল্টার’! কিন্তু কেবল নাম বদলালেই কি ইতিহাস বদলানো যায়?

ইংরেজরা ভারত উপ-মহাদেশের রাজক্ষমতা দীর্ঘ দু’শ বছর কুক্ষিগত করে রেখেছিলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীন ফিলিস্তিনে তারা অবাঞ্ছিত ইহুদীদেরকে পুষেই রেখেছেন। অপরদিকে নতুন নতুন অার অভিনব নানান নামে ‘মুসলিম সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ আবিষ্কার করা যেন সাম্রাজ্যবাদীদের নিকট এক ধরণের প্রবণতা হয়েই দাঁড়িয়েছে। নব্য ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলা’রা অাজকের এই বিশ্বায়নের দিনে এসেও বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ্’র বিরুদ্ধে লিপ্ত রয়েছেন সুগভীরতর ষড়যন্ত্রে। তাদের ব্যাপারে অামাদেরকে থাকতে হবে সজাগ।-[তথ্য-সংগৃহিত]

[gs-fb-comments]