ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাল্মীকি রামায়ণের বালকান্ডের প্রথম সর্গে মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামের পরিচয় প্রস্ফুটিত হইয়াছে এইভাবে- “মহর্ষি বাল্মীকি তপোনিরত স্বাধ্যায়সম্পন্ন বেদবিদ্ দিগের অগ্রগণ্য মুনিবর নারদকে সম্বোধনপূর্বক কহিলেন-দেবর্ষে ! এক্ষণে এই পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি গুণবান, বিদ্বান, মহাবল পরাক্রান্ত, মহাত্মা, ধর্মপরায়ণ, সত্যবাদী, কৃতজ্ঞ, দৃঢ়ব্রত ও সচ্চরিত্র আছেন ? কোন ব্যক্তি সকল প্রাণীর হিতসাধন করিয়া থাকেন ? কোন ব্যক্তি লোকব্যবহারকুশল, অদ্বিতীয়, সুচতুর ও প্রিয়দর্শন ? কোন ব্যক্তিই বা রোষ ও অসূয়ার বশবর্তী নহেন ? রণস্থলে ক্ৰোধজাত হইলে কাহাকে দেখিয়া দেবতারাও ভীত হন ? হে তপোধন ! এইরুপ গুণসম্পন্ন মনুষ্য কে আছেন, তাহা আপনিই বিলক্ষণ জানেন। এক্ষণে বলুন, ইহা শ্রবণ করিতে আমার একান্ত কৌতুহল উপস্থিত হইয়াছে। ত্রিলোকদর্শী দেবর্ষি নারদ বাল্মীকির বাক্য শ্রবণ করিয়া তাঁহাকে সম্ভাষণপূর্বক পুলকিত মনে কহিলেন, তাপস! তুমি যে-সমস্ত গুণের কথা উলেখ করিলে তৎসমূদয় সামান্য মনুষ্যে নিতান্ত সুলভ নহে। যাহাই হউক, এইরূপ গুণবান মনুষ্য এই পৃথিবীতে কে আছেন, এক্ষণে আমি তাহা স্মরণ করিয়া কহিতেছি, শ্রবণ কর। রাম নামে ইক্ষ্বাকুবংশীয় সুবিখ্যাত এক নরপতি আছেন। তাঁহার বাহুযুগল আজানুলম্বিত, স্কন্ধ অতি উন্নত, গ্রীবাদেশ রেখাত্রয়ে অঙ্কিত, বক্ষঃস্থল অতি বিশাল, মস্তক সুগঠিত, ললাট অতি সুন্দর, নেত্ৰ আকৰ্ণবিস্তৃত ও গাত্রবর্ণ স্নিগ্ধ। তিনি নাতিদীর্ঘ ও নাতিহ্রস্ব; তাঁহার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রমাণানুরূপ ও বিরল। সেই সর্বসুলক্ষণসম্পন্ন সর্বাঙ্গসুন্দর মহাবীর রাম অতিশয় বুদ্ধিমান ও সদ্বক্তা। তিনি ধর্মজ্ঞ, সত্যপ্রতিজ্ঞ, বিনীত ও নীতিপরায়ণ; তাঁহার চরিত্র অতি পবিত্র; তিনি যশস্বী, জ্ঞানবান, সমাধিসম্পন্ন, ও জীবলোকের প্রতিপালক এবং বর্ণাশ্রম ধর্ম ও স্বধর্মের রক্ষক। তিনি আত্মীয়স্বজন সকলকেই রক্ষা করিতেছেন। তিনি প্রজাপতিসদৃশ ও শত্রুনাশক। তিনি অনুরক্ত ভক্তকে আশ্রয় দিয়া থাকেন। তিনি বেদ-বেদাঙ্গে পারদর্শী, ধনুর্বিদ্যাবিশারদ, মহাবীর্য্যশালী, ধৈর্যশীল ও জিতেন্দ্রিয়। তিনি বেদাদি সর্ব শাস্ত্ৰজ্ঞ, প্রতিভাসম্পন্ন ও স্মৃতিশক্তি-যুক্ত। সকল লোকেই তাঁহার প্রতি প্রীতি প্রদর্শন করিয়া থাকে। তিনি অতি বিচক্ষণ, সদাশয় ও তেজস্বী। নদীসকল যেমন মহাসাগরকে সেবা করে, সেইরূপ সাধুগণ সততই তাঁহার সেবা করিয়া থাকেন। তিনি শত্ৰু-মিত্রের প্রতি সমদর্শী ও অতিশয় প্রিয়দর্শন। সেই কৌশল্যাগর্ভসম্ভূত লোকপূজিত রাম গাম্ভীর্য্যে সমুদ্রের ন্যায়, ধৈর্যে হিমাচলের ন্যায়, বলর্বীযে ভগবান বিষ্ণুর ন্যায়, সৌন্দর্যে চন্দ্রের ন্যায়, ক্ষমায় পৃথিবীর ন্যায়, ক্ৰোধে কালানলের ন্যায়, বদান্যতায় কুবেরের ন্যায় ও সত্যনিষ্ঠায় দ্বিতীয় ধর্মের ন্যায় কীর্তিত হইয়া থাকেন। তিনি রাজা দশরথের সর্বজ্যেষ্ঠ ও গুণ-শ্রেষ্ঠ পুত্র।” -(বাল্মীকি রামায়ণ, বালকান্ড, সর্গ-১)আসন্ন রামনবমী উপলক্ষে বিশেষ লিখাঃ-(পর্ব-১)

বাল্মীকি রামায়ণের বালকান্ডের প্রথম সর্গে মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামের পরিচয় প্রস্ফুটিত হইয়াছে এইভাবে- “মহর্ষি বাল্মীকি তপোনিরত স্বাধ্যায়সম্পন্ন বেদবিদ্ দিগের অগ্রগণ্য মুনিবর নারদকে সম্বোধনপূর্বক কহিলেন-দেবর্ষে ! এক্ষণে এই পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি গুণবান, বিদ্বান, মহাবল পরাক্রান্ত, মহাত্মা, ধর্মপরায়ণ, সত্যবাদী, কৃতজ্ঞ, দৃঢ়ব্রত ও সচ্চরিত্র আছেন ? কোন ব্যক্তি সকল প্রাণীর হিতসাধন করিয়া থাকেন ? কোন ব্যক্তি লোকব্যবহারকুশল, অদ্বিতীয়, সুচতুর ও প্রিয়দর্শন ? কোন ব্যক্তিই বা রোষ ও অসূয়ার বশবর্তী নহেন ? রণস্থলে ক্ৰোধজাত হইলে কাহাকে দেখিয়া দেবতারাও ভীত হন ? হে তপোধন ! এইরুপ গুণসম্পন্ন মনুষ্য কে আছেন, তাহা আপনিই বিলক্ষণ জানেন। এক্ষণে বলুন, ইহা শ্রবণ করিতে আমার একান্ত কৌতুহল উপস্থিত হইয়াছে। ত্রিলোকদর্শী দেবর্ষি নারদ বাল্মীকির বাক্য শ্রবণ করিয়া তাঁহাকে সম্ভাষণপূর্বক পুলকিত মনে কহিলেন, তাপস! তুমি যে-সমস্ত গুণের কথা উলেখ করিলে তৎসমূদয় সামান্য মনুষ্যে নিতান্ত সুলভ নহে। যাহাই হউক, এইরূপ গুণবান মনুষ্য এই পৃথিবীতে কে আছেন, এক্ষণে আমি তাহা স্মরণ করিয়া কহিতেছি, শ্রবণ কর। রাম নামে ইক্ষ্বাকুবংশীয় সুবিখ্যাত এক নরপতি আছেন। তাঁহার বাহুযুগল আজানুলম্বিত, স্কন্ধ অতি উন্নত, গ্রীবাদেশ রেখাত্রয়ে অঙ্কিত, বক্ষঃস্থল অতি বিশাল, মস্তক সুগঠিত, ললাট অতি সুন্দর, নেত্ৰ আকৰ্ণবিস্তৃত ও গাত্রবর্ণ স্নিগ্ধ। তিনি নাতিদীর্ঘ ও নাতিহ্রস্ব; তাঁহার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রমাণানুরূপ ও বিরল। সেই সর্বসুলক্ষণসম্পন্ন সর্বাঙ্গসুন্দর মহাবীর রাম অতিশয় বুদ্ধিমান ও সদ্বক্তা। তিনি ধর্মজ্ঞ, সত্যপ্রতিজ্ঞ, বিনীত ও নীতিপরায়ণ; তাঁহার চরিত্র অতি পবিত্র; তিনি যশস্বী, জ্ঞানবান, সমাধিসম্পন্ন, ও জীবলোকের প্রতিপালক এবং বর্ণাশ্রম ধর্ম ও স্বধর্মের রক্ষক। তিনি আত্মীয়স্বজন সকলকেই রক্ষা করিতেছেন। তিনি প্রজাপতিসদৃশ ও শত্রুনাশক। তিনি অনুরক্ত ভক্তকে আশ্রয় দিয়া থাকেন। তিনি বেদ-বেদাঙ্গে পারদর্শী, ধনুর্বিদ্যাবিশারদ, মহাবীর্য্যশালী, ধৈর্যশীল ও জিতেন্দ্রিয়। তিনি বেদাদি সর্ব শাস্ত্ৰজ্ঞ, প্রতিভাসম্পন্ন ও স্মৃতিশক্তি-যুক্ত। সকল লোকেই তাঁহার প্রতি প্রীতি প্রদর্শন করিয়া থাকে। তিনি অতি বিচক্ষণ, সদাশয় ও তেজস্বী। নদীসকল যেমন মহাসাগরকে সেবা করে, সেইরূপ সাধুগণ সততই তাঁহার সেবা করিয়া থাকেন। তিনি শত্ৰু-মিত্রের প্রতি সমদর্শী ও অতিশয় প্রিয়দর্শন। সেই কৌশল্যাগর্ভসম্ভূত লোকপূজিত রাম গাম্ভীর্য্যে সমুদ্রের ন্যায়, ধৈর্যে হিমাচলের ন্যায়, বলর্বীযে ভগবান বিষ্ণুর ন্যায়, সৌন্দর্যে চন্দ্রের ন্যায়, ক্ষমায় পৃথিবীর ন্যায়, ক্ৰোধে কালানলের ন্যায়, বদান্যতায় কুবেরের ন্যায় ও সত্যনিষ্ঠায় দ্বিতীয় ধর্মের ন্যায় কীর্তিত হইয়া থাকেন। তিনি রাজা দশরথের সর্বজ্যেষ্ঠ ও গুণ-শ্রেষ্ঠ পুত্র।” -(বাল্মীকি রামায়ণ, বালকান্ড, সর্গ-১)আসন্ন রামনবমী উপলক্ষে বিশেষ লিখাঃ-(পর্ব-১)

বাল্মীকি রামায়ণের বালকান্ডের প্রথম সর্গে মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামের পরিচয় প্রস্ফুটিত হইয়াছে এইভাবে- “মহর্ষি বাল্মীকি তপোনিরত স্বাধ্যায়সম্পন্ন বেদবিদ্ দিগের অগ্রগণ্য মুনিবর নারদকে সম্বোধনপূর্বক কহিলেন-দেবর্ষে ! এক্ষণে এই পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি গুণবান, বিদ্বান, মহাবল পরাক্রান্ত, মহাত্মা, ধর্মপরায়ণ, সত্যবাদী, কৃতজ্ঞ, দৃঢ়ব্রত ও সচ্চরিত্র আছেন ? কোন ব্যক্তি সকল প্রাণীর হিতসাধন করিয়া থাকেন ? কোন ব্যক্তি লোকব্যবহারকুশল, অদ্বিতীয়, সুচতুর ও প্রিয়দর্শন ? কোন ব্যক্তিই বা রোষ ও অসূয়ার বশবর্তী নহেন ? রণস্থলে ক্ৰোধজাত হইলে কাহাকে দেখিয়া দেবতারাও ভীত হন ? হে তপোধন ! এইরুপ গুণসম্পন্ন মনুষ্য কে আছেন, তাহা আপনিই বিলক্ষণ জানেন। এক্ষণে বলুন, ইহা শ্রবণ করিতে আমার একান্ত কৌতুহল উপস্থিত হইয়াছে। ত্রিলোকদর্শী দেবর্ষি নারদ বাল্মীকির বাক্য শ্রবণ করিয়া তাঁহাকে সম্ভাষণপূর্বক পুলকিত মনে কহিলেন, তাপস! তুমি যে-সমস্ত গুণের কথা উলেখ করিলে তৎসমূদয় সামান্য মনুষ্যে নিতান্ত সুলভ নহে। যাহাই হউক, এইরূপ গুণবান মনুষ্য এই পৃথিবীতে কে আছেন, এক্ষণে আমি তাহা স্মরণ করিয়া কহিতেছি, শ্রবণ কর। রাম নামে ইক্ষ্বাকুবংশীয় সুবিখ্যাত এক নরপতি আছেন। তাঁহার বাহুযুগল আজানুলম্বিত, স্কন্ধ অতি উন্নত, গ্রীবাদেশ রেখাত্রয়ে অঙ্কিত, বক্ষঃস্থল অতি বিশাল, মস্তক সুগঠিত, ললাট অতি সুন্দর, নেত্ৰ আকৰ্ণবিস্তৃত ও গাত্রবর্ণ স্নিগ্ধ। তিনি নাতিদীর্ঘ ও নাতিহ্রস্ব; তাঁহার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রমাণানুরূপ ও বিরল। সেই সর্বসুলক্ষণসম্পন্ন সর্বাঙ্গসুন্দর মহাবীর রাম অতিশয় বুদ্ধিমান ও সদ্বক্তা। তিনি ধর্মজ্ঞ, সত্যপ্রতিজ্ঞ, বিনীত ও নীতিপরায়ণ; তাঁহার চরিত্র অতি পবিত্র; তিনি যশস্বী, জ্ঞানবান, সমাধিসম্পন্ন, ও জীবলোকের প্রতিপালক এবং বর্ণাশ্রম ধর্ম ও স্বধর্মের রক্ষক। তিনি আত্মীয়স্বজন সকলকেই রক্ষা করিতেছেন। তিনি প্রজাপতিসদৃশ ও শত্রুনাশক। তিনি অনুরক্ত ভক্তকে আশ্রয় দিয়া থাকেন। তিনি বেদ-বেদাঙ্গে পারদর্শী, ধনুর্বিদ্যাবিশারদ, মহাবীর্য্যশালী, ধৈর্যশীল ও জিতেন্দ্রিয়। তিনি বেদাদি সর্ব শাস্ত্ৰজ্ঞ, প্রতিভাসম্পন্ন ও স্মৃতিশক্তি-যুক্ত। সকল লোকেই তাঁহার প্রতি প্রীতি প্রদর্শন করিয়া থাকে। তিনি অতি বিচক্ষণ, সদাশয় ও তেজস্বী। নদীসকল যেমন মহাসাগরকে সেবা করে, সেইরূপ সাধুগণ সততই তাঁহার সেবা করিয়া থাকেন। তিনি শত্ৰু-মিত্রের প্রতি সমদর্শী ও অতিশয় প্রিয়দর্শন। সেই কৌশল্যাগর্ভসম্ভূত লোকপূজিত রাম গাম্ভীর্য্যে সমুদ্রের ন্যায়, ধৈর্যে হিমাচলের ন্যায়, বলর্বীযে ভগবান বিষ্ণুর ন্যায়, সৌন্দর্যে চন্দ্রের ন্যায়, ক্ষমায় পৃথিবীর ন্যায়, ক্ৰোধে কালানলের ন্যায়, বদান্যতায় কুবেরের ন্যায় ও সত্যনিষ্ঠায় দ্বিতীয় ধর্মের ন্যায় কীর্তিত হইয়া থাকেন। তিনি রাজা দশরথের সর্বজ্যেষ্ঠ ও গুণ-শ্রেষ্ঠ পুত্র।” -(বাল্মীকি রামায়ণ, বালকান্ড, সর্গ-১)