পর্যাপ্ত স্রোত, পানি সবই ছিল নদীতে। বিপরিতে জোয়ারের কথা লোক মুখে শুনে হাল ছেড়ে বসে সোনার তরীর মাঝি মাল্লারা। হতাশা আর ধোঁয়াশার কবলে পরে মাঝি মাল্লারা বলতে লাগলো, তরী ডুবলে আমাদের কি?
গেলে সবই যাবে মালিকের!
সারা বছর বৈতরনীর ইনকাম খেয়ে মনে মনে এমন ক্ষোভ স্বার্থান্বেষীদের মনে!
তবে তাদের ষড়যন্ত্র আর ক্ষোভের কথা হয়তোবা মালিকের সবই জানাছিলো।
ওই সময়ে করার মতো উপায়ন্ত ছিলোনা। তাইতো তিনি, তীরে আসার আগে তরীটি ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষায় সর্বাত্বক চেষ্টা করেছেন। তবে মাঝি মাল্লাদের ষড়যন্ত্রের কারণে শেষ পর্যন্ত যাত্রী বোঝাই সেই সোনার তরীটি ডুবে যাওয়ার হাত থেকে শেষ রক্ষা করতে পারেননি।
সরেজিনে তরী ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধ্যানে বেরহন এক ভবঘুরে। তার অনুসন্ধ্যানে উঠে
আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরাতন মাঝির প্রতি সুবিধা বঞ্চিত নব্য মাঝিদের ক্ষোভ। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে জরাজির্ণ সোনার তরীতে ফাটল ধরেছিলো। মালিকের জানা থাকা সত্বেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। এমন অভিযোগ ছিলো তাদের। যার কারণে গ্রামের মাঝি মাল্লারা ক্ষোভে ফুসে উঠে। সিধান্ত নেয় তীব্র স্রোতের মাঝে পালতোলা তরীর হাল ছেড়ে দক্ষিনা হাওয়ায় ভেসে তারা উর্বর জমিতে কিছু দিনের জন্য ফল চাষ করবে। তাই দক্ষিনের ভূমিতে সদ্যজাত পোষা প্রভুর অনুদান পেয়ে সবাই মিলে পরিক্ষামূলক ভাবে শুরু করলো হাইব্রীড মৌসুমী আনারস চাষ। অন্যদিকে স্রোতের অনুকূলে হালছেড়ে দেয়া তরীটি তীরে আসার আগেই ডুবচরে ধাক্কালেগে অল্প পানিতেই অর্ধমগ্ন অবস্থায় নিমজ্জিত হলো। এ অবস্থায় দুবৃত্ত সুন্দইরা মান্নাইন্যা বাহিনীর সদস্যরা তরীটি ডুবার খবর পেলো। মাঝির কাছ থেকে ইতোপূর্বে পর্যাপ্ত চাঁদা না পাওয়ার ক্ষোভের বর্শীভূত হয়ে পুরো সোনার তরীটিকে বেয়নেট দিয়ে ছিদ্রকরে ডুবিয়ে দিলো।
এদিকে সন্ধ্যার পর তীরে আসার আগে তরী ডুবার খবর পেয়ে মালিক ক্ষোভে ফেটে পরলো। চকিদার দফাদারদের নির্দেশ করলেন, কারা আমার সোনার তরীটির হাল ছেড়ে দক্ষিনের উর্বর জমিতে চাষাবাদ করেছে তাদের নাম পরিচয় দাও। দ্রুত আমাকে জানাও। আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। চকিদার দফাদাররা বললো অাজ্ঞে, যাহাপনা কাদের নাম বলবো। আমতা আমতা করতে লাগলো। পরোক্ষনে বলতে লাগলো, যাহাপনা মোটামুটি তালিকাটা অনেক বড়। পরে শোনাতে অন্তত দুয়েকদিন সময়তো লাগবেই। তাই সট করে বলি, উত্তর, দক্ষিন, পশ্চিম প্রায় সব জায়গার মাঝি মাল্লা তরী ডুবানোর ষড়যন্ত্র করেছে। শুধুতাই নয়, যাহাপনা তাদের কেউ কেউ আবার বলছে, দীর্ঘ দিন ধরে চাওয়া পাওয়া থেকে নাকি তারা বঞ্চিত হয়েছে। যার কারণে তারা নাকি ঝোপ বোঝে কোপ মেরেছে মাত্র। আরো বলেছে এবার তারা নাকি পূবের লাল মাটিতেও কাটাযুক্ত ফল চাষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এসব কথা শুনে ক্ষোভে আগুনে মালিক বলে উঠলেন খামুশ। এখনই তাদের কে চিহ্নিত করো। আমি দেখে নেবো। তারা কত টাকার অনুদান পেয়ে কাটাযুক্ত ফলচাষে নেমেছে। কাটার অাঘাতে তাদেরকে জর্জরিত হতেই হবে। বিশাল নদীপথে নৌকাছাড়া তারা অন্য কোনো পথ খুজে পাবেনা। তাদের কেউ কেউ নৌকায় উঠতে চাইলেও আর সুযোগ দেয়া হবেনা।
আজ্ঞে যাহাপনা আপনার মর্জি সুমহান। তা যেনো যথাযথ বাস্তবায়ন হয়।

বিদ্র: লেখাটিতে কাল্পনার মিশ্রন ঘটনা হয়েছে। কারো সাথে মিলেগেলে লেখক দায়িনন। ভূলত্রুটি মার্জনীয়।