ঢাকা।।

ফেনী সুনাগাজী উপজেলার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ডে বিচার এবং নারী ও শিশুদের উপর ক্রমবর্ধমান বর্বরতা রোধের দাবিতে ১৩ এপ্রিল, সারাদেশে প্রতিবাদী মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত মানবন্ধনে অংশ নেয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ট্রেড ইউনিয় ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি, হকার্স ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট পার্টি নারী সেল, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, খেলাঘর আসর, প্রগতি লেখক সংঘ, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভারমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্টস ফর ডেভেলপমেন্ট, কৃষিবিদ ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, বিজ্ঞান চেতনা মঞ্চ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, ফেনী সমিতি, মিরপুর সাংস্কৃতিক পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহের মধ্যে ছিল গ্রীন ভয়েস, নারী পক্ষ, টিআইবি, নাগরিক উদ্যোগ, আইন সালিস কেন্দ্র, ডিএসকে, স্টেপস ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার অসংখ্য ব্যক্তি মানববন্ধনে যোগ দেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জলি তালুকদার, বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা ফয়জুল হাকিম, টিইউসি’র সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, উদীচী সভাপতি অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. মন্টু ঘোষ, অ্যাড. মাকছুদা আক্তার লাইলী, অ্যাড. সোহেল আহমেদ, ডা. সাজেদুল হক রুবেল সাদেকুর রহমান শামীম, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল, লুনা নূর, সিপিবি ঢাকা কমিটির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন।
বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাড. সুলতানা কামাল, টিআইবি’র ইফতিখারউদ্দিন, সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নারী নেত্রী রিনা খানম, উন্নয়নকর্মী খুশী কবীর, রোকেয়া কবীর, শামসুল হুদা, রঞ্জন কর্মকার, জাকির হোসেন, নুরুন্নবী শান্ত, দিলীপ কুমার সরকার, খালেদা খানম, ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, বন্যা লোহানী, তাহমিনা ইয়াসমিন, ফরিদা, আলমগীর কবির, আফরোজা ডালিয়া, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা হান্নানা বেগম, নারীনেত্রী রেখা চৌধুরী, মাসুদা রেহেনা রোজী, আবৃত্তিকার লায়লা আফরোজ, সাবেক ছাত্রনেতা আকরামুল হক, গবেষক রাখাল রাহা, শ্রমিক নেত্রী শাহিদা পারভীন শিখা, অভিনেত্রী সুমনা সোমা, মাহফুজা হক নীলা। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবি নেতা আশরাফ হোসেন আশু, শংকর আচার্য, আবু তাহের বকুল, আসলাম খান, বিকাশ সাহা, মনীষা মজুমদার, শরিফুজ্জামান শরীফ, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, মানবেন্দ্র দেব, কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এসএমএ সবুর, উদীচী নেত্রী সঙ্গীতা ইমাম, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জিলানী শুভ, যুবনেতা শিশির চক্রবর্তী, হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাসেম কবীর, সা: সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, খেলাঘরের সা: সম্পাদক রুনো আলী, আতিকুল হক খান, ক্ষেতমজুর নেতা মোতালেব হোসেন, মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, ত্রিদিব সাহা, হযরত আলী, মন্জুর মইন, কৃষক নেত্রী লাকী আক্তার প্রমুখ।
বঙ্গভবনের সামনে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মানববন্ধনে অংশ নেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে নুসরাত জাহান রাফি’র হত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং হত্যার পরিকল্পনাকারী সিরাজউদ্দৌলা ও হত্যকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, পুঁজিবাদ ভোগবাদের জন্ম দেয়। পুঁজিবাদ নারীকে পণ্যে পরিণত করে। ফলে পুঁজিবাদী সমাজ নারী ধর্ষণ-নিপীড়ন, নারীর প্রতি বর্বরতা সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী দুই লক্ষ নারীকে যৌন নিপীড়ন করেছে কিন্তু মুক্তাঞ্চলে এ ধরনের একটি ঘটনাও ঘটেনি। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল নারী-পুরুষের সমমর্যাদার নিশ্চয়তা। কিন্তু গত ৪৮ বছর যাবৎ ক্ষমতাসীনরা নারীর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা নারী ধর্ষণ, হত্যার বিচার করতে ক্ষমাহীন উদাসীনতা প্রদর্শন করেছে।
তিনি সাগর-রুনি, ত্বকী, তনু, আফসানা, নুসরাতসহ সকল হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এবং নারী ও শিশু নিরাপত্তা বিধানে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বলেন। তিনি দেশবাসীকে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ‘গণজাগরণ’ সৃষ্টির আহবান জানান।
গণভবনের কাছে আসাদ গেটে মানববন্ধনে অংশ নেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যে নারী নিপীড়ন প্রতিরোধে পাড়ায় পাড়ায় কমিটি গড়ে তোলার জন্য সমাজের বিবেকবান মানুষের প্রতি আহবান জানান।
কর্মসূচি
মানববন্ধন থেকে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আগামী ২০-২৭ এপ্রিল দেশব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ‘নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সপ্তাহ’ পালন করার আহবান জানান।