নিখোজের দুইমাস পর কলেজ ছাত্রের গলিত লাশ উদ্ধার

23 April, 2019 : 6:56 am ৭৪

 

মোঃ আব্দুল হান্নান নাসিরনগর।।

হবিগঞ্জ জেলার লাখাইয়ে নিখোঁজের দুইমাস পর এক কলেজ ছাত্রের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।সোমবার ২২এপ্রিল বিকেলে উপজেলার মেন্দির হাওরে একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।নিহত ওই ছাত্র মুড়াকরি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২২)।সে মাধবপুর সৈয়দ সাঈদ উদ্দিন কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র।

এ ঘটনায় একই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মন্জু মিয়া ও তার মেয়ে ফারজানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে।

তারা পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় থানা চত্ত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

তিনি গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে বলেন, উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মন্জু মিয়ার মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৭) হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী ও মুড়াকরি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে উজ্জল মিয়া (২২) মাধবপুর সৈয়দ সাঈদ উদ্দিন কলেজে পড়াশোনা করে।

ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের মাঝে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ফলে উজ্জল মাঝে মাঝে ফারজানা আক্তারের বাড়িতে আসা যাওয়া করত। তাদের মাঝে দৈহিক সম্পর্কও গড়ে উঠে।

এদিকে খুব সুন্দর হওয়ায় উজ্জ্বল একাধিক মেয়ের সাথে প্রেম করতো। ফেব্রুয়ারি মাসে ফারজানার বাবা মা ঢাকা যাওয়ার সুযোগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ফারজানার ত বাড়িতে যায় উজ্জ্বল।

ওই রাতে তারা দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হয়। এ সময় উজ্জ্বলের অন্য এক প্রেমিকা ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ না করে ম্যাসেজ দেয়। সেটি দেখতে পায় ফারজান।তাই ওই রাতেই ঘরে থাকা মসলা বাটার সিল (পুথাল) দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ বস্তায় ভরে ঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে রাখে।

পরদিন ঢাকায় গিয়ে বাবা মাকে বিষয়টি জানায়। তারা ঢাকা থেকে এসে তার বাবা লাশ নিয়ে মেন্দি হাওরে পুঁতে রাখেন।

এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি উজ্জ্বলের বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করলে জেলা পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। ২১ এপ্রিল ফারজানা ও তার বাবা মন্জু মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
এক পর্যায়ে ফারজানা ঘটনা স্বীকার করে। তার বাবা মঞ্জু মিয়াও পরে বিষয়টি স্বীকার করেন।পরে তার দেখানো তথ্যমতে সোমবার বিকেলে হাওর থেকে উজ্জ্বলের লাশ উদ্ধার করা হয়।তার বাবা শাহ আলম ছেলের লাশ সনাক্ত করেছেন।

[gs-fb-comments]