আনোয়ারা।।
পাপিয়া চক্রবর্তী নামে ছবিতে যে প্রতিবাদী মেয়েটিকে দেখছেন উনি শিক্ষক প্রণব রঞ্জন চক্রবর্তীর কন্যা এবং বহুল আলোচিত চট্রগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পন্ডিত নিরঞ্জন চক্রবর্তীর নাতনী, যে নিরঞ্জন চক্রবর্তীর ভিটে আর কালী মন্দির ভূমিদস্যু হেলাল গংরা জিম্মি করে লিখে নিয়েছিল। দাদুর বয়স প্রায় ১০০ বছরের কোঠায়, বাবারও যথেষ্ট বয়স হয়েছে, ভিটেমাটি আর মন্দির দখলের ঘটনায় নিরঞ্জন পন্ডিতের পুরো পরিবার যখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আর ভয়ে আতংকে দিশেহারা ঠিক তখনই সাহসী কন্যা পাপিয়া চক্রবর্তী সিদ্ধান্ত নেন মানুষের মৃত্যু যখন একবারই হয়, তখন ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় উত্তম। গত ৮ই এপ্রিল পাপিয়া চক্রবর্তীর বাবা প্রণব রঞ্জন চক্রবর্তী ভূমিদস্যু হেলাল গংদের দ্বারা জিম্মি হোন এবং ১০ই এপ্রিল নিরঞ্জন পন্ডিতের বাড়িভিটে আর মন্দির জোড় করে টিপসই দিয়ে লিখে নেওয়া হয়। ঘটনাটা পাপিয়া চক্রবর্তী আর উনার মা সীমা চক্রবর্তীর জানা ছিলনা প্রথমে, যেহেতু বাবা তিনদিন ধরে চট্রগ্রাম শহরে তাদের বাসায় ছিলেন না সেহেতু পুরো জিম্মি করার ঘটনায় তাদের কাছে অজানা ছিল, তাদের দুঃশ্চিন্তা ছিল প্রণব চক্রবর্তীকে নিয়ে। বেশ কয়েকদিন বাবা বাসায় না ফেরাতে পাপিয়া চক্রবর্তী বাবার ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বাবার ফোনও তখন সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু চক্রের কাছে জিম্মি! ফোন করে বাবাকে আর ফোন রিসিভ করে ভূমিদস্যুরা। যাইহোক, বাবার কোন একটা বিপদ হয়েছে বুঝতে পেরে সাহস করে সেই সন্ত্রাসী চক্রের কাছে বাবাকে বাসায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কঠোরভাবে বললে ১০ই এপ্রিল গভীর রাতে সন্ত্রাসী চক্র বাবা প্রণব রঞ্জন চক্রবর্তী কে বাসার নীচতলায় এনে দেন। বাবা বাসায় ফিরলে জিম্মি করে সম্পত্তি দখলের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হন পাপিয়া। সবশুনে সিদ্ধান্ত নেন, যেকোন কিছুর বিনিময়ে লড়াই করে নিজের চৌদ্দ পুরুষের ভিটে আর মন্দির আবারো ফিরিয়ে আনার। পরদিন সকালে দাদু নিরঞ্জন পন্ডিত আর সেখানে বসবাসরত পরিবারের অন্য সদস্যদের চট্রগ্রামের শহরের বাসায় নিয়ে আসে পাপিয়া। এরপর এলাকার গণ্যমান্যদের সাথে নিয়ে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউ এন ও, আনোয়ারা থানার ওসি এবং সর্বোপরি ভূমিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ কে সমস্ত ঘটনা অবগত করেন, শুরু হলো মূল লড়াই। পাপিয়া চক্রবর্তীর অদম্য মনোভাব আর সাহসীকতার কারনে ভূমিমন্ত্রী সহ সকলে নিরঞ্জন পন্ডিতের পরিবারের পাশে দাঁড়ান, মন্ত্রীর নির্দেশে করা হয় মামলা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর মিডিয়াতে ব্যাপক আলোচিত ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় এই ঘটনা, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল প্রান্তে প্রতিবাদের ঝড় উঠে, চাপে পড়ে যায় ভূমিদস্যু হেলাল গংরা, এমন অবস্থায় দখলকারীরা সম্মত হয় পন্ডিত নিরঞ্জন চক্রবর্তীর সম্পত্তি লিখিতভাবে ফিরিয়ে দিতে। একজন নারী হয়েও সকল রক্তচক্ষু আর ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রীতিমতো যুদ্ধ করে যেভাবে নিজেদের চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি আর মন্দির ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা করে পারিবারিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেন, সারা বাংলাদেশে এই ঘটনা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ুক। শুভকামনা দিদিভাই, স্যালুট আপনাকে, সাহসীকতার সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছেন আপনি। উল্লেখ্য, পাপিয়া চক্রবর্তী চট্রগ্রাম কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত আছেন।