ঢাকা।।

অসহায় দুস্থদের জন্য ১ টাকার আহার প্রকল্পের বা উদ্যোগের ব্যাপারে জানেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বিদ্যানন্দ অন্যতম সফল একটি প্রজেক্ট। দুস্থ শিশু থেকে ষাটোর্ধ কর্মে অক্ষম যে কেউ ১ টাকার বিনিময়ে এই খাবার সংগ্রহ করতে পারেন।

এবার তবে যাওয়া যাক রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী বাজারে। গায়ে স্কুলের পোশাক আর পকেটে ৫ টাকা থাকলেই মিলছে দুপুরের খাবার। উপজেলার অন্নপূর্ণা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট বিগত ৩ বছর ধরে এই স্টুডেন্ট প্যাকেজের ব্যবস্থা করে আসছে।

এই হোটেল ব্যবসায়ীর নাম বিপ্লব সরকার (৩৫)। বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পূর্বপাড়া মহল্লায়। বিপ্লব সরকারের বাবা শ্যামল সরকার। মূলত তিনিই হোটেলের মালিক। তার বাবা বিকালে বসেন। এর আগে বিপ্লব দায়িত্ব পালন করেন।

পাঁচ টাকার এই প্যাকেজের কথা জানতে চাইলে বিপ্লব সরকার বলেন, ‘গ্রামের অধিকাংশ বাচ্চারা বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসে না। আবার অনেকের পক্ষে বেশি টাকা দিয়ে হোটেলে দুপুরের খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। টিফিনের সময় তারা আশপাশের দোকান থেকে টাকা দিয়ে মুখরোচক কিছু কিনে খায়। কিন্তু সেগুলো তাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী না। অথচ দুপুরে এক প্লেট ভাত খেতে পারলে তাদের শরীর মন দুটোই ভালো থাকবে। সেই চিন্তা থেকেই বাবার অগোচরে পাঁচ বছর আগে এই প্যাকেজ চালু করি। তখন থেকেই বাচ্চারা খেতে আসতে শুরু করে।’

বাবা জানেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাবা দুই বছর পর বিষয়টি জানতে পারেন। তবে তিনি এটাতে বাধা দেননি।’

স্কুলের বাচ্চাদের দুটি শর্তে ভাত খেতে দেন বিপ্লব। সেগুলো হলো- অবশ্যই স্কুল পোশাক পরিধান করতে হবে এবং খাওয়ার আগে বা পরে অন্য দোকান থেকে মুখরোচক কিছু খাওয়া যাবে না।

বাচ্চাদের খাবারের ব্যাপারে বিপ্লব সরকার বলেন, ‘বাচ্চারা এক প্লেটের বেশি ভাত খেতে পারে না। আর তাদের প্যাকেজে ভাতের সঙ্গে ডাল আর সবজি থাকে। তারা যেন সবজি নষ্ট না করে সে দিকটা খেয়াল করি। কারণ তাদের জন্য সবজি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় বাচ্চাদের কিছু টাকা বেশি দিয়ে মুরগির মাংস বা ভালো কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হয়। তখন আমি তাদের মুরগির মাংসের ছোট টুকরা আর ঝোল দেই। যাতে তাদের মন খারাপ না হয়।’

ঠিক কী কারণে এই উদ্যোগ বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না জানতে চাইলে বিপ্লব সরকার বলেন, ‘মনের আনন্দ থেকে এবং সেবার মানসিকতা থেকেই করছি।’

তিনি বলেন, ‘নিজে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারিনি। লেখাপড়া না করে যে কী ভুল করেছি তা এখন বুঝতে পারছি। এ জন্য বর্তমানে যে বাচ্চাগুলো পড়ালেখা করছে তারা যেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে সে জন্য নিজের সাধ্যমতো সবটুকু সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।’

এ ব্যাপারে আড়ানী মনোমোহিনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘পাঁচ টাকার এই প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে পেরে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। ব্যাপারটা আমাকে খুবই অবাক করেছে।’