মোঃ আব্দুল হান্নান,নাসিরনগর।।

জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউ/পি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে এলাকার হাজার হাজার নারী পুরুষের সমন্বয়ে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
৯ মে ২০১৯ রোজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ ঘটিকার সময় চাতলপাড় ডিগ্র কলেজের রাস্তার উপরে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য বিনয় রায়, শামছুন্নাহার, সুজিত রায়, দেলোয়ার হোসেন, আসকর আলী ও ইউনুছ মিয়া সহ এলাকার আরো অনেকেই। মানববন্ধনকারীরা চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান।
চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীরের ছোট ভাই প্রবাসী শেখ হুমায়ুন কবির সেও যুবদল করত। ইদানিং সে নাকি আওয়ামীলীগ করে। আমি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কিন্তু আমি জানি না। তার ভাই আমার সাথে নির্বাচন করে ১৭০ ভোটে পেয়েছিল। এখন শুনলাম হুমায়ুনের চেয়ারম্যান হওয়ার শখ হয়েছে। তাই আমাকে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে জনবিচ্ছিন্ন করতে অন্তরাল থেকে
কলকাঠি নাড়ছে। চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসী বলেন ঘটনাটি ঘটেছে ২ এপ্রিল কিন্তু ১ এপ্রিল চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ ওমরা হজ¦ করার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে চলে যান। ওই সময় তিনি বাড়ীতে ছিলেন না।

মামলার বিষয়ে শেখ হুমায়ুন কবির বলেন, আমি তো কোন নেতা না। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কেন আমি একজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়তে যাব। মামলার বাদী হয়েছে নিহত সায়েরার মা।
মামলার বাদী নিহত সায়েরার মা মরিয়ম বেগম বলেন, আসামীরা পর সম্পদ লোভী, আমার ও মেয়ের সম্পদের লোভে চেয়ারম্যানের ইন্ধনে ও অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় হোসেন মিয়া, আলম মিয়া ও মনির মিয়া মিলে ঘটনার দিন আমার মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আমাকে মেয়েকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে।
উল্লেখ্য গত ২ এপ্রিল ২০১৯ রোজ মঙ্গলবার ভোর অনুমান সাড়ে ৫ ঘটিকার সময় খালি ঘরের ভিতর ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় অত্র ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার মেয়ে ৯ম শ্রেণীর মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্রী সায়েরার লাশ। ওই ঘটনায় ১০ এপ্রিল মা মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ সহ ২০ জনকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং পি- ২২১/১৯ ,জি আর ১০৩/১৯ ও নাসিরনগর থানার মামলা নং-৮।