শ্রীকৃষ্ণের পায়ের নুপুর ছোট বড় কেন?

19 May, 2019 : 9:32 am ৮৭১

রিপন চৌধূরী।।

শ্রীরাম চন্দ্র সীতাকে হারানোর পর রামধনুক মাটিতে রেখে কাঁদছেন। হঠাৎ ভ্রাতা লক্ষণ দেখতে পেলেন রামচন্দ্রের নয়ন বারি মাটিতে পড়ছে। কিন্তু সেখানে নয়ন বারি নয় সেটা রক্ত স্বরুপ। লক্ষণ যখন ভ্রাতা রামচন্দ্র কে জিজ্ঞেস করলেন ভ্রাতা একি, আপনি কাদছেন অথচ মাটিতে রক্ত দেখা যাচ্ছে কেন?

তখন রামচন্দ্র ধনুক সরিয়ে দেখেন একটি ব্যাঙ ধনুকের নিচে আর তারই রক্ত সেখানে। আর সেই রক্তে তৈরী হয়েছিল নদী। তখন রামচন্দ্র ব্যাঙটিকে হাতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন ওরে ব্যাঙ সাপে যখন তোমাকে আধার ভেবে খেতে যায়, তখন তো চিৎকার করো। তাহলে এখন কেন চুপ হয়ে রইলে। তখন ব্যাঙ উত্তরে বললো প্রভু তখন আমি চিৎকার করে তোমার কাছে নালিশ জানাই। আর এখন তো আপনি স্বয়ং প্রভু তাহলে কার কাছে নালিশ জানাব।

তখন রামচন্দ্র বললেন তুমি পুর্ব জন্মে কি ছিলে?

তখন ব্যাঙ উত্তরে বললো আমি ছিলাম কর্ণব আর আমার গুরুদেব ছিলেন বিশ্বাবসু। গুরুর চরণ সেবা করতে গিয়ে একদিন নখের আচর লেগেছিল। তখন গুরুদেব আমায় অভিশাপ দিয়েছিলেন আমি পরজন্মে ব্যাঙ কুলে জন্ম নেব। তখন বলেছিলেন গুরুদেব অভিশাপ তো দিলেন এবার আশীর্বাদ টুকু ও দেন। তখন আশীর্বাদ দিয়েছিলেন আমার মরণ প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের হাতেই হবে। তখন সব কিছু শ্রবণ করার পর রামচন্দ্র ব্যাঙটিকে বললেন তাহলে তোমার শেষ ইচ্ছে কি?

তখন ব্যাঙটি বললো আমার শেষ ইচ্ছা আমার গুরু যেন অন্তিমকালে আপনার শ্রীচরণে ঠাঁই পান। তখন শ্রীরামচন্দ্র ব্যাঙটিকে বলেছিলেন, তাহলে শোন আমি যখন পরের যুগ অর্থাৎ দ্বাপর যুগে আবার আসব শ্রীকৃষ্ণ হয়ে তখন তুমি থাকবে আমার ডান পায়ের নুপুর আর তোমার গুরুদেব বিশ্বাবসু হবেন আমার বাম পায়ের নুপুর। তবে দুজন ছোট বড় হয়ে আমার পায়ের নুপুর হয়ে থাকবে।

[gs-fb-comments]