ঢাকা।।

ভাষা সংগ্রামী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রয়াত অলি আহাদের একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আইনি পেশার পাশাপাশি যুক্ত জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে। দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে। একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া, আজকের অবস্থান, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণ এই রাজনীতিবিদের নানা ভাবনা। কথা বলেছেন, সংসদে গিয়ে কীভাবে কাজ করবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়েও জানিয়েছেন নিজের পরিকল্পনা।

রুমিন ফারহানা: আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠাও রাজনৈতিক পরিবারে। ২০১২ সালে বাবাকে হারানোর পর বিএনপির সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। পদে না থাকলেও কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বিএনপির ডেলিগেশন টিমের সঙ্গে আমাকে চীনে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া আমাকে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সঙ্গে রাখেন। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে আমাকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক করা হয়। খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ, তারেক রহমানের দোয়া এবং দলের সিনিয়র নেতাদের ভালোবাসায় আমি আজকে এতদূর এসেছি।

রুমিন ফারহানা: তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে যতগুলো সিদ্ধান্ত এসেছে প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক, যুগোপযোগী, সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত চিন্তাপ্রসূত। তিনি কিন্তু সকলের সঙ্গে আলোচনা করে দলটাকে পরিচালনা করছেন। স্থায়ী কমিটি সঙ্গে বসছেন, আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে দীর্ঘ সময় আলাপ আলোচনা করছেন। সুতরাং কোনো সিদ্ধান্তই কিন্তু কারো একক সিদ্ধান্ত না। তারেক রহমানের চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেকারণে সিদ্ধান্তগুলো সঠিক এবং নেতাকর্মীরা যা চায়, তারই প্রতিফলন আমরা তার সিদ্ধান্তে পেয়েছি।

রুমিন ফারহানা

‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, তিনি জীবনে কোনো দিন আপস করেন নাই। সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আজকে তাকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। আইনি লড়াই চলছে, আইনি লড়াই চলবে। সেই সঙ্গে আমরা সাংগঠনিকভাবে যে সিদ্ধান্তে যাচ্ছি, আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব যে দিক নির্দেশনা দেবেন, নিশ্চয়ই আমরা সময়ের সঙ্গে সেই পদক্ষেপগুলো নেব।’

রুমিন ফারহানা: সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন আজকে প্রায় মাস খানেক হয়ে গেল। আপনারা কি দেখেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত হয়েছেন? তিনি মুক্ত হননি। সুতরাং এই পর্দার আড়ালের খেলা বিএনপি কোনো দিনও খেলে নাই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা, জনগণের সঙ্গে ধোকাবাজি এটা বিএনপির রাজনীতি না। কৌশলগত কারণে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমে দলগতভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল আমরা শপথ নেব না। যেহেতু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিয়েছে দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। পরবর্তীতে যখন দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে যারা শপথ নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন এবং তারা সংসদে যাবেন। আমার ব্যাপারেও দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত এসেছে। সুতরাং এখানে ধোঁয়াশার কিছু নেই।’

রুমিন ফারহানা: দলের মহাসচিব নিজেই তা স্পষ্ট করেছেন। দু’টি কারণে তিনি শপথ নেননি। একটি হলো তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন। সংগঠন গোছানোর জন্য তাকে সারা দিন ব্যস্ত থাকতে হয়ে। সব কিছু মিলিয়ে তার পক্ষে সংসদে যোগদান করা, সংগঠনকে শক্তিশালী করা, একইসঙ্গে তৃণমূল ও শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা। এতো বড় দায়িত্ব তার পক্ষে একসঙ্গে পালন করা সম্ভব নয়। যে কারণেই শপথ নেননি। এবং সেটা তিনি খোলামেলাভাবেই বলেছেন। এতে বিভ্রান্তির কিছু নেই।

রুমিন ফারহানা: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে, দলের শীর্ষ নেতাদের, যারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। মনে করেছেন, আমি পারব। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তাদের যে আস্থা ও বিশ্বাস তার মর্যাদা যেন আমি রাখতে পারি।

রুমিন ফারহানা: আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার আগেও আমি খুব স্পষ্ট করে বলে আসছি যে, এটা কোনো সংসদ নয়। কারণ এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। এরপরও আমরা সংসদে গেছি কেন? বিএনপির মতো এতবড় একটা দলকে মাঠে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না। সভা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। এসব বলার জন্য তো একটা স্পেস দরকার। মানুষের কথা, দেশের কথা বলার জন্য একটা ফোরাম দরকার। আমরা মনে করি, সংসদ একটা পথ, যে পথে আমরা কথা বলতে পারব। আমরা জানি, সাতজন এমপি দিয়ে সরকারের কোনো অবৈধ কাজকে উল্টে দিতে পারব না। সরকারকে এমন কোনো চাপ দিতে পারব না যে, সরকার শুনতে বাধ্য হবে। কিন্তু আমাদের যে কণ্ঠ, যে প্রতিবাদ, তা সুশীল সমাজ জানবে, দেশের মানুষ জানবে, দেশের ঘরে ঘরে সেগুলো পৌঁছাবে। এটুকুই আমাদের লক্ষ্য।

‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিষ্কার বলছি, জামিন কিন্তু তার অধিকার। যে মামলাগুলোতে তাকে আটকে রাখা হয়েছে সেই মামলার প্রত্যেকটা জামিনযোগ্য। সংসদে গিয়ে নিশ্চয়ই এ বিষয়ে আমরা কথা বলব। তার মামলার যে মেরিট, তার বয়স, শারীরিক অবস্থা, তার জেন্ডার; সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’