কচু ও ঢেকি শাক বিক্রেতা হলেন মন্ত্রী

3 June, 2019 : 1:23 pm ৯৪

ডেস্ক।।

রামেশ্বর তেলির বাবা ছিলেন চা শ্রমিক। ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড়ের চা বাগানের বেড়ার একটি ঘরে মা,বাবা, ভাই ও দুই বোন নিয়ে ছয় জনের সংসার। বাবার উপার্জনের টাকায় সংসার ঠিক মতো চলতো না। তাই ১২ বছর বয়স থেকেই রামেশ্বর সংসারের খরচ যোগাড়ে উপার্জনে নামেন। দুই বছরের ছোট ভাইকে নিয়ে চা বাগানের আশপাশের জঙ্গলে খুঁজে কচু ও ঢেকি শাক তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতেন। যা আয় করতেন তা দিয়ে রুটি কিনে বাড়িতে ফিরতেন। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অবস্থা আরো শোচনীয় হলো। সংসারের হাল ধরতে হয় রামেশ্বরকে। পরবর্তীতে বাড়ির কাছে পানের দোকান দেন। এই দোকান করতে করতেই ভর্তি হন কলেজে। যোগ দেন আসামের চা জনগোষ্ঠীর ছাত্র সংস্থা আটসায়। এখান থেকেই জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বগুণের কারণে বিজেপি নেতাদের চোখে পড়েন। ২০০১ ও ২০০৬ সালে হন বিধায়ক, তারপর ২০১১ সালে হেরে যান।
কিন্তু ২০১৪ সালে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। কারণ তিনি এক লাখ ৮৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেন কংগ্রেসের পাঁচ বারের সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবন সিংহ ঘাটোয়ারকে। এবারের লোকসভা নির্বাচনে একই প্রতিদ্বন্দ্বীকে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারান তিনি। বিপুল জনপ্রিয়তা ও জনগণের ব্যাপক সমর্থনের কারণে আসামের ডিব্রুগড়ের লোকসভা আসনের সাংসদ ৪৯ বছর বয়সী ব্যাচেলর রামেশ্বর তেলিকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এখন আর পানের দোকান চালাতে না হলেও মা ও ভাই চা বাগানের ওই আগের ঘরেই থাকেন। রাজনীতিতে ব্যস্ত রামেশ্বর বাড়িতে যখনই যান ওই বেড়ার ঘরেই থাকেন।
মন্ত্রী রামেশ্বর তেলির এক কাকা ঠেলাগাড়ি চালান, এক কাকা অটো চালান ও আরেক কাকা গ্যাস সিলিন্ডারের ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করেন। দেশটা ভারত আর দলটার নাম বিজেপি বলেই হয়তো প্রতাপ সারেঙ্গী কিংবা রামেশ্বর তেলির মতো সাধারণ মানুষেরা মন্ত্রী হতে পারে।

[gs-fb-comments]