চট্টরগ্রাম।।

অনুমোদনহীন গণমাধ্যমের লাগাম টানা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। অনুমোদিত আর অনুমোদনহীন গণমাধ্যমের প্রতিযোগিতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে নওফেল এসব কথা বলেন।
পারিবারিকভাবে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানায় থাকা নওফেল বলেন, ‘যাদের ডিক্লারেশন নেই, তাদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নেরও কোনো দায় নেই। আবার যাদের অনুমোদন আছে, তাদের কিন্তু ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নেরও দায় আছে, চটকদার নিউজও করা যাবে না— নানা নিয়ম। কিন্তু আমি ডিক্লারেশন নিয়ে আমাকে তো প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে যাদের ডিক্লারেশন নেই তাদের সঙ্গে।’
অনুমোদনহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের প্রতি ইঙ্গিত করে উপমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চাই। কিন্তু ওপেন স্কাই পলিসি যেভাবে চলছে, একেবারে উন্মুক্তভাবে প্রকাশনার ক্ষেত্রে কিছুটা লাগাম টানা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পলিসি নির্ধারণ জরুরি। ওপেন স্কাই পলিসি— এভাবে তো চলতে পারে না।’
সংবাদকর্মীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার তোড়জোড়ের মধ্যে গণমাধ্যমের আয়ের খাতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষা দেওয়ার পক্ষেও কথা বলেছেন নওফেল।
‘নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন হোক, এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু এটার জন্য তো গণমাধ্যমের আয়ের যে নির্ধারিত খাত আছে, সেটাকে সুরক্ষা দিতে হবে। গণমাধ্যমের আয়ের খাত তো অনেকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে। আয়ের ক্ষেত্র যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন হবে কিভাবে?’— প্রশ্ন রাখেন তিনি।
নওফেল বলেন, আয়ের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেটা বলব না। নতুন নতুন সুযোগ আসছে। তবে সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। ওপেন স্কাই পলিসি থেকে সরে এসে বিশেষায়িত গণমাধ্যমের দিকে নজর দিতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রতিবেদন দেখে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বসে অনেক সিদ্ধান্ত নেন জানিয়ে নওফেল বলেন, ‘সাংবাদিকরা মাঠ থেকে রিপোর্ট দিচ্ছেন। সেটা দেখে আমি ও মন্ত্রী মহোদয় (শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি) অনেক সিদ্ধান্ত দিচ্ছি। অনেক সময় আমাদের নেগেটিভ অনেককিছু বলা হয়। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্তটা নিই সাংবাদিকদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই। এজন্য আমি ও মন্ত্রী মহোদয় সবসময় বলি, সাংবাদিকরা আমাদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’
শিক্ষাক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে উপমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত একটিও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এটা ভাবা যায়? মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখছি, চট্টগ্রাম অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাছির উদ্দিন তোতা ও সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা ছিলেন।