ব্রাক্ষণবাড়িয়া।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কাবিখা কর্মসূচীর (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ কর্মসূচী (টিআর) এর বরাদ্দ দেয়াকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়ার সমর্থক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০জন আহত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে শাহবাজপুর ফাস্ট গেইটে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে  প্রায় ১ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় মহাসড়কের উভয়পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া তার বরাদ্দকৃত কাবিখা কর্মসূচীর চাল থেকে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের জমাদ্দারপাড়ার বিএনপির সমর্থক জুনায়েদ-(২৮) কে কাবিখার চাল বরাদ্দ দেন।
জুনায়েদ উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া এমপির সমর্থক।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থক শাহবাজপুর ইউনিয়নের ফাস্ট গেইট এলাকার যুবদল নেতা জুয়েল- (৩০)।
শনিবার বিকেলে যুবদল নেতা জুয়েল ফাস্ট গেইট এলাকায় উকিল আবদুস সাত্তার ভূঞার সমালোচনা করলে সাত্তার ভূইয়ার সমর্থক জুনায়েদ এর প্রতিবাদ করে।
পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকরা সাত্তার ভূইয়ার সমর্থক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়াকে মারধোর করে। এ ঘটনার জের ধরে বিকেল ৫টার দিকে দু’দলের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। এসময় মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মহসড়কে বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে দাঙ্গাবাজরা।
খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ ও ভৈরব ক্যাম্প থেকে র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহাসড়ক থেকে দাঙ্গাবাজদের সরিয়ে দিলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সরাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া এমপি তার নির্বাচনী এলাকার জন্য ১৬৬ মেট্রিক টন চাল কাবিখা কর্মসূচীর জন্য এবং ৫০ লাখ টাকা গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচী (টিআর) হিসেবে বরাদ্দ পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই এমপির নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানের জন্য প্রকল্প জমা দেয়া হলেও কাবিখা ও টিআর এর টাকা বা চাল এখনো ছাড় দেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি খুবই লজ্জার।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মফিজ উদ্দিন ভূঞা বলেন, বিএনপির দুই এমপির  সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মহাসড়কে কিছু সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষে  উভয়পক্ষের ১০/১২জন আহত হয়েছে।