ডেস্ক।।
৯ উইকেটে ৩১৪ রান করেছে ভারত। বিশ্বকাপে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে দুবার জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ

স্লগ ওভারে মোস্তাফিজের একটা উইকেটের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ দল। ৩৯তম ওভারে ৩ বলের মধ্যে দুই উইকেট এনে দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবু স্লগ ওভারে তাঁর আরেক উইকেট পাওয়ার প্রার্থনার পেছনে দুটি কারণ ছিল।

ভারতের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান জুটি উইকেটে তখন। এদের যেকোনো একজন আউট হলেই টেল এন্ডারদের পেয়ে যেত বাংলাদেশ। আর সেটা মোস্তাফিজ পেলেই তৃতীয় উইকেট হয়ে যাবে তাঁর। আর অতীত ইতিহাস বলে, ওয়ানডেতে মোস্তাফিজ তিন বা এর বেশি উইকেট পেয়েছেন এমন ম্যাচে বাংলাদেশ হারে না। ভারত যখন সাড়ে তিন শ ছোঁয়ার হুমকি দিচ্ছিল, তখন যে অতীত পরিসংখ্যানকেই আশ্রয় মানা ছাড়া উপায় ছিল না।

মোস্তাফিজ তিন নয় একেবারে পাঁচ উইকেটই পেয়েছেন। ৪৮তম ওভারে কার্তিককে আউট করেছেন। এতেই তুষ্ট হননি। শেষ ওভারে বল করতে এসে শুধু ধোনি ও শামিকে আউটই করেননি, দুর্দান্ত বল করে দিয়েছেন মাত্র ৩ রান। ওতেও ভারতের রানকে ৩১৪ এর নিচে আটকে রাখতে পারেননি। এ বিশ্বকাপেই ৩২১ রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ। এ বিশ্বকাপে তিন শ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়া করে একমাত্র বাংলাদেশই জিতেছে। তাই আশা ছাড়া যাচ্ছে না। তবে ভারতের বোলিংকেও মাথায় রাখতে হচ্ছে। বুমরা, ভুবনেশ্বর ও শামির মতো তিন পেসারদের বিপক্ষে ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে। এ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তিন শ রান করতে পেরেছে মাত্র দুটি দল। তাদের মধ্যে একটি দল ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের জন্য আশার ব্যাপার, ইংল্যান্ড সে কাজটা এ মাঠেই করেছিল।

দিনের শুরুটাই ছিল হতাশামাখা। এমন এক ম্যাচে টসে জয় পাওয়াটা বেশি দরকার ছিল। এবং দরকার ছিল টসে জিতে ব্যাট করা। মাশরাফি টসে হেরে গেলেন, ফলে দুটোর কোনোটাই হলো না। ব্যাট করতে নামল ভারত। টসে হারার দুঃখটা ভুলিয়ে দেওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। পঞ্চম ওভারে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রোহিত শর্মা। ডিপ মিড উইকেটে থাকা তামিম ইকবাল সহজ সে ক্যাচ হাতে জমাতেই পারলেন না। ৯ রানে নতুন জীবন পেলেন বিশ্বকাপে এর আগেই তিন সেঞ্চুরি করা রোহিত।

শেষ পর্যন্ত রোহিত যখন মাঠ ছাড়লেন তখন তাঁর নামের পাশে এ বিশ্বকাপের চতুর্থ সেঞ্চুরি। নিয়মিত পাঁচ বোলার ব্যর্থ হওয়ার পর সৌম্য সরকারের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন মাশরাফি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও দুই ওপেনারের সেঞ্চুরি জুটি থামাতে সৌম্যের শরণাপন্ন হয়েছিলেন অধিনায়ক। আজও হতাশ করেননি সৌম্য, ৯২ বলে ১০৪ রান করা রোহিতকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ দিয়েছেন এই ওপেনার। ১৮০ রানের উদ্বোধনী জুটির অন্যজনও বেশিক্ষণ টেকেননি। ১৫ রান পরেই রুবেলকে এ বিশ্বকাপের প্রথম উইকেট পাওয়ার স্বাদ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন লোকেশ রাহুল (৭৭)।

১৯৫ রান তোলা ভারতের ইনিংসের তখনো ১০৪ বল বাকি। উইকেটে বিরাট কোহলি ও ঋষভ পন্ত। হার্দিক পান্ডিয়া, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও দিনেশ কার্তিকরা তখনো নামার অপেক্ষায়। ভারতের সাড়ে তিন শ তোলাটাই স্বাভাবিক ঠেকছিল। মোস্তাফিজের সুবাদে সেটা কাটিয়েছে বাংলাদেশ। ৩৯তম ওভারে মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফিরে গেছেন কোহলি (২৬)। দুই বল পড়েই ঝড় তোলার জন্য নামা পান্ডিয়াকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন মোস্তাফিজ। ফিল্ডিংয়ের বাজে এক দিনেই সৌম্য দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরলেন স্লিপে। ২৩৭ রানে চতুর্থ উইকেট হারাল ভারত।

শেষ দশ ওভারে ঝড় তোলার আশা তবু ছিল ভারতের। পন্ত বেশ দ্রুত রান তুলছিলেন। অন্যদিকে প্রান্ত বদল করার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন ধোনি। কিন্তু আজ দুর্দান্ত বল করা সাকিব পন্তকে (৪৮) ফিরিয়ে দিয়েছেন ৪৫তম ওভারেই। যে মাঠে স্পিনারদের বলে রানবন্যা হবে বলে ভাবা হচ্ছিল, সেখানেই পুরো ১০ ওভার বল করে মাত্র ৪১ রান দিয়েছেন সাকিব। স্লগ ওভারে দুর্দান্ত বল করেছেন মোস্তাফিজও। অন্য প্রান্তে সাইফউদ্দিন প্রত্যাশিত সহযোগিতা করেননি, তবু ভারতকে হাত খুলে খেলার সুযোগ দেননি মোস্তাফিজ। শেষ ৫ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ। ভারতও শেষ ৬ ওভারে মাত্র ৩৭ রান তুলেছে।