ঢাকা।।

জোটে থেকেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতারা। আবার সরকারে না থাকলেও বিরোধী অবস্থানে যেতে পারছে না জোটের শরিক এ দলগুলো। এ পরিস্থিতিতে ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন এক সঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার পরিচালনা এ সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে ১৪ দল গঠন হয়। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ১৪ দলের শরিক দলগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। আর গত বছর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৪ দলকে অনেকটাই পাশ কাটিয়ে চলার নীতি নিয়ে আওয়ামী লীগ অগ্রসর হচ্ছে বলে শরিক দলগুলোর নেতাদের অভিযোগ।

সরকারের গত মেয়াদে মন্ত্রিসভায় ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম মেয়াদে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে কাউকে মন্ত্রী করা না হলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারে মেননকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকারের প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে জাসদের সভাপতি ইনুকে মন্ত্রী করা হয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারেরও তিনি মন্ত্রী ছিলেন। সরকারের প্রথম মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। কিন্তু বর্তমান সরকারের ১৪ দলের শরিকরা স্থান পাননি।

১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতারা জানান, ১৪ দলের শরিক দলগুলো বর্তমানে জোটে থেকেও সরকারের অংশীদার নয়। আবার সরকারে না থাকলেও ক্ষমতাসীন জোটে থাকায় রাজপথে বিরোধী অবস্থানে যাওয়াও দলগুলোর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়গুলো নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে হতাশা, অস্থিরতা রয়েছে। এ নিয়ে জোটের কোনো কোনো শরিক দলের মধ্যে আভ্যন্তরীণ সংকটও তৈরি হয়েছে।

ওই দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জোটকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে বরাবরই তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। কেন্দ্রে জোট সক্রিয় থাকলেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুরোপুরি সম্প্রসারিত হয়নি। জেলা পর্যায়ে জোটগত তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদ থেকে এবারও মন্ত্রী থাকবে বলে দল দুইটির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ায় জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরাই বেশি হতাশ হয়েছেন।

গত নির্বাচনে জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান জোটের মনোনয়নপত্র না পাওয়ায় এ দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা রয়েছে। আবার হতাশার পাশাপাশি কারও কারও মধ্যে আশাও রয়েছে। জোট শরিকরা যে কোনো সময় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন এমন প্রত্যাশাও করছেন কেউ কেউ।

১৪ দলে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার  বলেন, ১৪ একটি আদর্শিক জোট। সেই আদর্শকে ধরে রাখতে ন্যায্য কথা বলতে আমরা ছাড়ছি না। হতাশা আছে, তবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু আমি এটাকে ঠিক হতাশা বলবো না, অস্থিরতা থাকতে পারে। কে মন্ত্রী হলো, কে হলো না সেটা বিষয় না। মন্ত্রী করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার, তিনি যাকে মনে করেন করতে পারেন। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে, এটা নিয়মিত বিষয়। প্রধানমন্ত্রী যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে মন্ত্রিসভায় নিতে পারেন।

জাসদের সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ১৪ দল আছে, শরিকদের মধ্যে হতাশাও রয়েছে। শরিক দলগুলোর মূল্যায়ন হচ্ছে না। মূল্যায়ন শুধু মন্ত্রীত্বের বিষয় না, শরিক দলগুলোর প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টিও আছে। চলমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। জোটগতভাবে আমরা তৎপর হতে পারছি না, দলগতভাবে কর্মসূচি নেওয়ার চিন্তা ভাবনা রয়েছে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেকমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ১৪ দল চলছে। গ্যাসের দাম বাড়াসহ যে সমস্যাগুলো রয়েছে, এগুলোর ব্যাপারে আমরা কথা বলছি। এটা নিয়ে ১৪ দলের মুভমেন্ট নেই, তবে আমরা গ্যাসের দাম কমাতে বলেছি। প্রধানমন্ত্রী জনগণের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করেন, নিশ্চয়ই তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন।