ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।

থানার দালাল থেকে দলিল লেখক, রাস্তার ভিখারী থেকে কোটিপতি–এমন মন্তব্য দলিল লেখক সমিতির আহবায়ক কর্মকান্ত দাস ও অফিস সহকারী ফুল কিশোর সরকার সহ বিভিন্ন দলিল লেখকদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে পিতা-পুত্রের লাগামহীন ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির খবর পাওয়া গেছে। পিতা মোঃ শফিকুল ইসলামের লাইসেন্স নং ৩৭ দুর্নীতির দায়ে কর্তৃপক্ষ জাল লাইসেন্স বাতিল করে। অপরদিকে পুত্র সাব্বিরুল ইসলামকে লাইসেন্স নং-৮১ দুর্নীতির কারণে অনিদিষ্ট কালের জন্য বহিস্কার করে বলে অফিস সূত্রে জানা যায়।

জানা গেছে চাতলপাড় ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে চাতলপাড় ওয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে। পরে প্রতিবেশী মনকুটা গ্রামের আব্বাস আলীর পুত্র শফিকুল ইসলামের ১৯৮৮ সালে পাশ করা দাখিল সার্টিফিকেট জাল করে নাসিরনগর সাব রেজিষ্ট্রী অর্ফিস থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৭ নং দলিল লেখক সনদ দিয়ে বর্তমানে সে প্রচুর সম্পদের মালিক বলে গ্রামের হাজী ইউসুফ আলীর ছেলে অহিদুর রহমানের মহা পরিদর্শক নিবন্ধন বরাবর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে।

পরবর্তীতে তদন্তে লাইসেন্স জাল প্রমাণিত হলে তা বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পিতার লাইসেন্স বাতিলের পর চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়–য়া ছাত্র তার ছেলে সাব্বিরুল ইসলামকে দিয়ে আবারও ছেলের নামে ৮১ নং সনদ তৈরী করে। ৭ জুলাই ২০১৯ রোজ রবিবার সাব্বিরুল ইসলাম জালিয়াতির মাধ্যমে একটি দলিল সম্পাদন করতে গেলে উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রারীর হাতে ধরা পড়ে। সাব রেজিষ্ট্রার সাথে সাথে তাকে লিখিতভাবে অনিদিষ্ট কালের জন্য বহিস্কার করে দেয়। পিতা-পুত্রের এমন দুর্নীতির কারণে সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে কর্মরত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দলিল লেখকদের মাঝে বিরাট ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ শাহিন আলমের সাথে .মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি সাব্বিরুলে বহিস্কারের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান সাব্বিরুল ছাড়াও একই দিনে দলিল লেখক আব্দুল মালেককেও বহিস্কার করা হয়েছে। অাজ সোমবার দলিল লেখক কর্মকান্ত দাস কে সনদ নং ২৯ কে ৭ দিনের ভিতর কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে বলে জানান সাবরেজিষ্টার। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট নাসিরনগর দলিল সমিতির দাবী, পিতার মত দুর্নীতিবাজ পুত্রের লাইসেন্স ও বাতিল করা হোক।