ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সরকারি খালের মুখ ভরাট করে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলি মাঠের পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই গ্রামের প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গত ১৫ এপ্রিল অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো খাল উদ্ধারের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদৈর ইউনিয়নের মান্দারপুর গ্রামে এই সরকারি খাল। এর নাম ক্ষয়ধারা খাল। আষাঢ় মাস এসে যাওয়ায় বৃষ্টির কারণে ফসলের জমিতে পানি আটকে থাকবে বলে কৃষকদের ভয় আরও বাড়ছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যায়, উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ক্ষয়ধারা খালটি দখলে-দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় এ খাল দিয়ে চলত বড় বড় বাণিজ্যিক নৌকা। এখন দখলবাজদের দৌরাত্ম্যে খালটি সরু হয়ে গেছে। মান্দারপুর গ্রামের প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নামে এ খাল দিয়ে।

কয়েক মাস আগে গ্রামের তাহের মিয়া ক্ষয়ধারা খাল দখল করে এর মুখে বাড়ি নির্মাণ করেন। এতে বন্ধ হয়ে গেছে ফসলি মাঠ ও বিলের পানিপ্রবাহের একমাত্র পথ। ফলে ৫০০ বিঘার তিন ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগী এক কৃষক বলেন, খালের মুখ থেকে স্থাপনা সরিয়ে পানিপ্রবাহের পথ খুলে দিতে হবে। পুরো খালটি উদ্ধার করা হলে তবেই কৃষিজমিগুলোতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

বাড়ির মালিক তাহের মিয়া বলে, খালের মুখে তাঁর নিজস্ব জায়গা আছে। সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তবে পানিনিষ্কাশনের জন্য ১২ ইঞ্চি মাপের একটি পাইপ দিয়েছেন।

অন্যদিকে ইউপির বর্তমান সদস্য ফরিদ মিয়া বলেন, এই পাইপ পানিনিষ্কাশনে তেমন কাজে আসবে না। বড় করে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে এই জমিগুলোতে পানি আটকে যাবে। তখন ফসলের ক্ষতি হবে।

কসবার ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সরকারি খাল ভরাটের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। জরিপকারীকে বলেছেন খাল পরিমাপ করার জন্য। দ্রুত খালটি উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।

"/>

সরকারি খালের মুখ ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ

28 July, 2019 : 11:18 am ৩০৬

ব্রাক্ষণবাড়িয়া।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সরকারি খালের মুখ ভরাট করে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলি মাঠের পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই গ্রামের প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গত ১৫ এপ্রিল অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো খাল উদ্ধারের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদৈর ইউনিয়নের মান্দারপুর গ্রামে এই সরকারি খাল। এর নাম ক্ষয়ধারা খাল। আষাঢ় মাস এসে যাওয়ায় বৃষ্টির কারণে ফসলের জমিতে পানি আটকে থাকবে বলে কৃষকদের ভয় আরও বাড়ছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যায়, উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ক্ষয়ধারা খালটি দখলে-দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় এ খাল দিয়ে চলত বড় বড় বাণিজ্যিক নৌকা। এখন দখলবাজদের দৌরাত্ম্যে খালটি সরু হয়ে গেছে। মান্দারপুর গ্রামের প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নামে এ খাল দিয়ে।

কয়েক মাস আগে গ্রামের তাহের মিয়া ক্ষয়ধারা খাল দখল করে এর মুখে বাড়ি নির্মাণ করেন। এতে বন্ধ হয়ে গেছে ফসলি মাঠ ও বিলের পানিপ্রবাহের একমাত্র পথ। ফলে ৫০০ বিঘার তিন ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগী এক কৃষক বলেন, খালের মুখ থেকে স্থাপনা সরিয়ে পানিপ্রবাহের পথ খুলে দিতে হবে। পুরো খালটি উদ্ধার করা হলে তবেই কৃষিজমিগুলোতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

বাড়ির মালিক তাহের মিয়া বলে, খালের মুখে তাঁর নিজস্ব জায়গা আছে। সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তবে পানিনিষ্কাশনের জন্য ১২ ইঞ্চি মাপের একটি পাইপ দিয়েছেন।

অন্যদিকে ইউপির বর্তমান সদস্য ফরিদ মিয়া বলেন, এই পাইপ পানিনিষ্কাশনে তেমন কাজে আসবে না। বড় করে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে এই জমিগুলোতে পানি আটকে যাবে। তখন ফসলের ক্ষতি হবে।

কসবার ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সরকারি খাল ভরাটের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। জরিপকারীকে বলেছেন খাল পরিমাপ করার জন্য। দ্রুত খালটি উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com