ঢাকা।।

মৌসুমি আবহাওয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে সারাদেশেই। এর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাতেও সারাদিন বৃষ্টি নেমেছে। ব্যস্ত শহরে প্রখর রোদে ছোটাছুটির মাঝে যখন বৃষ্টির দেখা পায়, তখন স্বস্তির আশা করে সবাই। কিন্তু সত্য হলো যে- এই বৃষ্টিই অনেক সময় হয়ে ওঠে ঢাকাবাসীর কাছে বিরক্তির কারণ। একটু বৃষ্টিতেই যেমন পানি জমে যায়, তেমনি রাস্তা-ঘাটে সৃষ্টি হয় যানজটের। এদিকে আবার বৃষ্টিকে উপলক্ষ্য করে রিকশা-সিএনজিতে ভাড়া আদায় করা হয় দ্বিগুণ। এসবে যেন বৃষ্টি হলেই জিম্মি হয় ঢাকাবাসী!

ঘরমুখো মানুষের নদীপথে ঈদযাত্রা নিয়ে অ্যাসাইনমেন্টে ছিলাম সদরঘাটে। বৃষ্টিতে প্রায় পুরোটাই ভিজে গেছি। তবুও নিজেকে কিছুটা রক্ষা করতে আশ্রয় নিলাম একটি লঞ্চে। লঞ্চটির বরিশাল যাওয়ার কথা। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সরোয়ার জাহিদও। তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার অফিস সেরে ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে সৌজন্যবার্তা শেষে শুরু হলো বৃষ্টি প্রসঙ্গে কথা।
বিড়ম্বনা, বিরক্তি সবমিলেয়েই দিলেন দুর্ভোগের বর্ণনা। বললেন- ‘অফিস থেকে বের হয়ে সিএনজির জন্য দাঁড়াইয়া ছিলাম ১৫ মিনিট। পরে না পেয়ে ভাবলাম রিকশা দিয়ে বনানী যাই সেখান থেকে সিএনজি পাওয়া যাবে। ওইখানেও পেলাম না। বাসে উঠলাম, যেখানে উঠছি সেখানেই আধাঘণ্টা বসেছিলাম জ্যামে। সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি। পুরো রাস্তাই জ্যাম। ‘মালিবাগ ফ্লাইওভারের উপরে যখন তখন সময় ৪টা ৩০। বৃষ্টির মধ্যেই নেমে গেলাম। হাঁটু সমান পানি পাড় হয়ে শান্তিনগর মোড় থেকে রিকশা নিলাম গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত ৮০ টাকা ভাড়া। পল্টনে পর্যন্ত কোনোমতে আসলাম, আবার জ্যাম। নেমে হাঁটা দিলাম। গোলাপ শাহ মাজার এসে মোটরসাইকেল নিলাম, তখন বাজে ৫টা। লোকটাকে বললাম ৫টা ৩০ মিনিটে লঞ্চ, যেভাবেই হোক পৌঁছে দেবেন। লোকটাও ২০০ টাকা ভাড়া চেয়ে রাজি হলো। বারগেনিং করলাম না। লোকটা অনেক ভালো ছিলো। খুব চেষ্টা করলো যাতে টাইমলি পৌঁছতে পারি। অবশেষে সদরঘাট নেমে ভো দৌড়। একদৌড়ে লঞ্চে। তখন বাজে ৫টা ৪০।’
যোগ হলেন আরো একজন, নাম শাজাহান মিয়া। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই সিএনজি-রিকশার ভাড়া বেড়ে যায়। আরো বললেন, তিনি হাজারীবাগের টেনারিমোড় থেকে রিকশায় ৭০ টাকা ভাড়া দিয়ে জিগাতলা এসেছেন, যেখানে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ রাখা হয়েছে। সেখান থেকে সিএনজি করে সদরঘাটে এসেছেন। এখানেও বৃষ্টির জন্য চালককে স্বাভাবিকের থেকে ১০০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। সেই সঙ্গে তো যানজট আছেই। সবমিলিয়ে বৃষ্টি হলেই যেন জিম্মি হয়ে পড়তে হয় ঢাকাবাসীর- বললেন তিনি। এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি  উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, ভারতের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ভারতের ঝাড়খণ্ডের আশেপাশের এলাকায় স্থল মৌসুমি নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত আছে।
"/>

ঢাকায় একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়

8 August, 2019 : 2:36 pm ২২৪

ঢাকা।।

মৌসুমি আবহাওয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে সারাদেশেই। এর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাতেও সারাদিন বৃষ্টি নেমেছে। ব্যস্ত শহরে প্রখর রোদে ছোটাছুটির মাঝে যখন বৃষ্টির দেখা পায়, তখন স্বস্তির আশা করে সবাই। কিন্তু সত্য হলো যে- এই বৃষ্টিই অনেক সময় হয়ে ওঠে ঢাকাবাসীর কাছে বিরক্তির কারণ। একটু বৃষ্টিতেই যেমন পানি জমে যায়, তেমনি রাস্তা-ঘাটে সৃষ্টি হয় যানজটের। এদিকে আবার বৃষ্টিকে উপলক্ষ্য করে রিকশা-সিএনজিতে ভাড়া আদায় করা হয় দ্বিগুণ। এসবে যেন বৃষ্টি হলেই জিম্মি হয় ঢাকাবাসী!

ঘরমুখো মানুষের নদীপথে ঈদযাত্রা নিয়ে অ্যাসাইনমেন্টে ছিলাম সদরঘাটে। বৃষ্টিতে প্রায় পুরোটাই ভিজে গেছি। তবুও নিজেকে কিছুটা রক্ষা করতে আশ্রয় নিলাম একটি লঞ্চে। লঞ্চটির বরিশাল যাওয়ার কথা। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সরোয়ার জাহিদও। তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার অফিস সেরে ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে সৌজন্যবার্তা শেষে শুরু হলো বৃষ্টি প্রসঙ্গে কথা।

বিড়ম্বনা, বিরক্তি সবমিলেয়েই দিলেন দুর্ভোগের বর্ণনা। বললেন- ‘অফিস থেকে বের হয়ে সিএনজির জন্য দাঁড়াইয়া ছিলাম ১৫ মিনিট। পরে না পেয়ে ভাবলাম রিকশা দিয়ে বনানী যাই সেখান থেকে সিএনজি পাওয়া যাবে। ওইখানেও পেলাম না। বাসে উঠলাম, যেখানে উঠছি সেখানেই আধাঘণ্টা বসেছিলাম জ্যামে। সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি। পুরো রাস্তাই জ্যাম।

‘মালিবাগ ফ্লাইওভারের উপরে যখন তখন সময় ৪টা ৩০। বৃষ্টির মধ্যেই নেমে গেলাম। হাঁটু সমান পানি পাড় হয়ে শান্তিনগর মোড় থেকে রিকশা নিলাম গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত ৮০ টাকা ভাড়া। পল্টনে পর্যন্ত কোনোমতে আসলাম, আবার জ্যাম। নেমে হাঁটা দিলাম। গোলাপ শাহ মাজার এসে মোটরসাইকেল নিলাম, তখন বাজে ৫টা। লোকটাকে বললাম ৫টা ৩০ মিনিটে লঞ্চ, যেভাবেই হোক পৌঁছে দেবেন। লোকটাও ২০০ টাকা ভাড়া চেয়ে রাজি হলো। বারগেনিং করলাম না। লোকটা অনেক ভালো ছিলো। খুব চেষ্টা করলো যাতে টাইমলি পৌঁছতে পারি। অবশেষে সদরঘাট নেমে ভো দৌড়। একদৌড়ে লঞ্চে। তখন বাজে ৫টা ৪০।’

যোগ হলেন আরো একজন, নাম শাজাহান মিয়া। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই সিএনজি-রিকশার ভাড়া বেড়ে যায়। আরো বললেন, তিনি হাজারীবাগের টেনারিমোড় থেকে রিকশায় ৭০ টাকা ভাড়া দিয়ে জিগাতলা এসেছেন, যেখানে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ রাখা হয়েছে। সেখান থেকে সিএনজি করে সদরঘাটে এসেছেন। এখানেও বৃষ্টির জন্য চালককে স্বাভাবিকের থেকে ১০০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। সেই সঙ্গে তো যানজট আছেই। সবমিলিয়ে বৃষ্টি হলেই যেন জিম্মি হয়ে পড়তে হয় ঢাকাবাসীর- বললেন তিনি।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি  উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, ভারতের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ভারতের ঝাড়খণ্ডের আশেপাশের এলাকায় স্থল মৌসুমি নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত আছে।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com