বিল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খোলা আকাশের নিচে ৩০ পরিবার

16 November, 2019 : 7:05 am ১৯৭

ব্রাক্ষনবাড়িয়া।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় বিল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে ৩০টি পরিবার। প্রতিপক্ষের লোকজনের দেয়া আগুনে পুড়েছে তাদের ঘর-বাড়ি। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে এখন সর্বশান্ত তারা।বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে ঘটা এ ঘটনায় থানায় মামলাও নেয়নি পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের দুর্দশার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহের নিগারকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো ব্যবস্থা ব্যবস্হা নেয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরষপুর ইউনিয়নের হুগলি বিল নিয়ে স্থানীয় বুল্লা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফুল ইসলাম ও তার ছেলে বর্তমান ইউপি সদস্য কাউসার আহম্মেদের সঙ্গে একই ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের আবুল কাশেম মেম্বারের বিরোধ চলে আসছে। প্রশাসন বিলের সীমানা নির্ধারণ না করে উল্টো বিল ইজারা দিলে সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

গত বছরের জুন মাসে স্থানীয় বড় উঠান মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে তিন বছরের জন্য জেলা প্রশাসন তথা জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ইজারা দেয়। ১ লাখ ৫১ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে বড় উঠান মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হীরা লাল দাস ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন বুল্লা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফুল ইসলাম ও তার ছেলে কাউসার আহম্মেদের কাছে। তারা বিলের পাশাপাশি গ্রামের কৃষকদের ব্যক্তিগত জমি থেকে মাছ আহরণ শুরু করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে ২ নভেম্বর উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরদিন ৩ নভেম্বর ফুল ইসলাম ও কাউসার আহম্মেদের নেতৃত্বে কামালপুর গ্রামে আবুল কাশেমের সমর্থকদের ৩০টি ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিগ্রস্তরা ইউএনওর কাছে একটি লিখিত আবেদনও করেন। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে সাড়া দেয়নি। কামালপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ফলেজা খাতুন বলেন, আমরা অসহায় অবস্থায় আছি। বই খাতা পুড়িয়ে ফেলায় ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা করতে পারছে না। জোসনা বেগম নামে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত নারী জানান, তার স্বামী নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে দুই মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটে তার। আগুনে তার দুটি ঘরই পুড়ে গেছে। এখন ছাই ছাড়া কিছুই নেই ঘরে। গত ১৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে আছেন। হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, আগুনে গ্রামের দুইজন এসএসসি পরীক্ষার্থী, চারজন পিইসি পরীক্ষার্থী, চারজন জেএসসি পরীক্ষার্থীসহ তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর বইখাতা ও স্কুলের পোশাক পুড়ে গেছে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। এদিকে ভুুুুক্তভোগী কয়েকজন জানান বিজয়নগর থানার ওসির পক্ষপাতিত্ব করার কারনেই এ ঘটনার সৃৃষ্টি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবির বলেন, আগুনে ঘরবাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগে অতিরিক্ত লেখা হয়েছে। সেজন্যে মামলা হয়নি। একটু চাপে থাকুক, সব ঠিক হয়ে যাবে। চাপে থাকলে ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে। তবে বিজয়নগর থানার ওসির সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করে ও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, শিক্ষার্থীদের বই পুড়ে গেছে এবং সামনে তাদের পরীক্ষার কথা শুনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সেখানে পাঠানো হয়। তারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বই দিয়ে এসেছেন। বিল নিয়ে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা বসে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com