ঔষ‌ধের ন্যায্যমূ‌ল্যের না‌মে হা‌তিয়ে নেয়া অ‌র্থের বিনিময় পাচ্ছে কি ভোক্তারা

31 January, 2020 : 10:22 am ৪৭৬

ডেস্ক।।

সারা‌দে‌শে বি‌ভিন্ন পেশাজী‌বি সংগঠন গু‌লো তা‌দের স্ব প্র‌তিষ্টান বা সংগঠ‌নের স্বার্থসং‌শ্লিষ্ট বিষয়গু‌লো আদায় করার জন্য প‌রিচা‌লিত হয়ে আসছে।জনগ‌নের স্বার্থ বা জনগ‌নের সেবা করার বদৌলতে সংগঠনগু‌লোও কাজ কর‌ছে তা‌দের নিজস্ব স্বার্থ হা‌সি‌লের জন্য।
জনগ‌নের স্বা‌র্থের কিঞ্চৎ অ‌ধিকার না থাক‌লেও তা‌দের স্বা‌র্থের কোন ঘাট‌তি নেই।আমাদের দেশে আইনের শাসন ঠিক মতো না থাকায়,জবাবদিহি নিশ্চিত করা কতৃপক্ষের দূর্বলতার কারণে আর প্রত্যেকটি সংগঠনের উপর রাষ্ট্রের নির্ভরশীলতার বৃদ্ধির জন্য আজকাল বিভিন্ন শ্রমজীবী,কর্মজীবী,পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সমিতি বা সংগঠনগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য।ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি পিঁয়াজ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কি কান্ডটাই না করেছেন ?
কিভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিয়েছে শতশত কোটি টাকা!কোথায় ছিলেন তথাকথিত এইসব ব্যবসায়ী নেতারা ?তারা কি সাধারণ মানুষের জন্য বিন্দুমাত্র চেষ্টা করছে তাদের দুঃখ দূর্দশা লাঘব করতে ??আসেনি তো তারা!আবার তারাই নাকি দেশের সূর্য সন্তান।
সরকারও তাদের কাছে কোনঠাসা বাজার নিয়ন্ত্রণে।
আইনের আওতায় আনা যায়নি এসব ব্যবসায়ী সংগঠন নামক সিন্ডিকেটের কালোবাজারি মাফিয়াদের।
যার কুফল ভোগ করতে হচ্ছে আবারও সাধারণ জনগণকে!অতিসম্প্রতি এই রাঘব বোয়ালদের নজর পড়েছে মানুষের সবচেয়ে দুর্বল যায়গায়।
ওরা বোধহয় জানে সরকার আর জনগণ কোন যায়গায় অসহায়!সেভাবেই তারা তাদের নিলনকশা তৈরি করে থাকেন।এবারের লুটপাটের ক্ষেত্রের নাম ঔষধ শিল্প!জনগণের সবচাইতে নির্ভরশীল ও প্রয়োজনীয় সেবা হচ্ছে চিকিৎসা সেবা অতঃপর ঔষধ।
কয়েক দফায় ঔষধের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জানিনা ঔষধ প্রশাসন এই ক্ষেত্রে কি ভুমিকা পালন করেছে ?নাকি ওখানেও ঐ সকল মহামানবদের ম্যানেজ করা হয়েছে।তবে এখানে হিসেবে একটুখানি কেন জানি গরমিল মনে হচ্ছে!
তা হলো ঔষধ প্রস্তুত করার কাঁচামাল আমদানি ব্যয় কি বেড়ে গিয়েছিল ?সরকারী কর কি বাড়ানো হয়েছে আমদানি উপর ??হঠাৎ করে উৎপাদন ব্যয় কি বৃদ্ধি পেয়ে গেল ???শ্রমিকদের বেতন ভাতা কি হঠাৎ বৃদ্ধি করা হয়েছে ????নাকি বেতন ভাতা বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকরা অবরোধ, কর্মবিরতি পালন করছে ?????
বিপনন কর্মীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি সাথে টার্গেট কি কমিয়ে আনা হয়েছে?নাকি ঔষধ বিতরণ প্রক্রিয়ায় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছিল ?নাকি অত্যাধিক ভালো মানের ঔষধ উৎপাদন শুরু করা হয়েছে যা আগে কখনো ছিল না!নাহলে কেন ঔষধের দাম হঠাৎ করে দুই দফায় বৃদ্ধি করা হলো ?
আশ্চর্য হলাম!
যখন ইদানীং ফার্মেসি গুলোয় গিয়ে দেখি সব ফার্মেসি ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে একাট্টা হয়ে গেল!
আরো আশ্চর্য হলাম যখন দেখলাম তারা একই গ্রুপের ওষুধ বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন নামের বিভিন্ন দামের তারতম্য অনুযায়ী বিক্রয় করছে!উদাহরণ স্বরূপ বলতে চাই সিটিরিজিন গ্রুপের কথা।এই গ্রুপের স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস নাম দিয়েছেন এলার্ট্রল,যার প্রতিবক্স ১৫০টি টেবলেট এর দাম ৪৫০ টাকা(বক্সের গায়ের দাম)আবার এই গ্রুপের প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস নাম দিয়েছেন এলার্ট,যার প্রতি বক্স ২৫০ টাকা (১০০ টি বক্সের গায়ের দাম)বিষয় হলো স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর ঔষধটি ন্যায্য দাম ৪৫০ টাকা হলেও প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর ঔষধটির ন্যায্য মূল্য ২৫০টাকার পরিবর্তে মাত্র ৪৫ টাকা!সারা বাংলাদেশে ফার্মেসি এসোসিয়েশন নতুন আইন করেছেন ন্যায্য দামের কমমূল্যে ঔষধ বিক্রি করা যাবে না।যদি কেউ তার ব্যত্যয় ঘটায় তবে তিনহাজার টাকা জরিমানা আর সাতদিন ফার্মেসি বন্ধ থাকবে।
কি অবাক কান্ড!
গুনগত মানের ঔষধ প্রদানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই অথচ তারা আগে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য একতা হতে চাইছে।অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আমাদের দেশে এখনো ফার্মাসিউটিক্যালস,ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক অনেক কোম্পানি আছে যাদের কার ঔষধে কি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে,কোন ফর্মুলায় আর কি উপায়ে করা হচ্ছে তার কোন হদিস মিলছে না সরকারের কাছেও।নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন,আমদানি, বাজারজাত ঠেকাতে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই সংশ্লিষ্টদের।
উল্টো ভেজাল ওষুধ আমদানি,উৎপাদন আর বিপনন বেড়ে চলেছে হু হু করে।খুবই কম সংখ্যক ফার্মেসি আছে যেখানে মানসম্মত ওষুধ বিক্রয় হয়ে থাকে।অধিকাংশ ফার্মেসি গুলোয় নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে।তাহলে ওদের মুখে কিসের ন্যায্য দামের নীতি কথা ?এটা কি তাদের মুখে মানায় যারা মানসম্মত ওষুধ বিক্রয় করতে পারবেনা অথচ ন্যায্য মূল্য আদায় করতে চাই ?আগে মানসম্মত,গুনগত মানের ওষুধ বিক্রিয় করুন তারপর ন্যায্য মূল্য গ্রহণ করুন।অন্যথায় আমরা বলতে বাধ্য যে আপনি বা আপনারাই হচ্ছেন আমার দেশের মানুষের রক্ত চুষে নেওয়া অসৎ মাফিয়া কালোবাজারির এজেন্ট বা সহচর!

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com