ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন ডিগ্রী লাগিয়ে চিকিৎসা চলছে

11 March, 2020 : 2:48 pm ২০২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ শাহআলম। ৯ মার্চ পাঠানো ওই চিঠিতে হাসপাতালটির অন্ত: বিভাগ,আইসিইউ, এনআইসিইউসহ সকল বিভাগে বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, এমনকি সেবিকা পর্যন্ত নেই বলে উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকরা এমবিবিএস’র পর অবৈধ ভাবে বিভিন্ন ডিগ্রী ব্যবহার করছেন। ফলে হাসপাতালটিতে বার বার দূর্ঘটনা ঘটছে। এর উদাহরন হিসেবে পাপিয়া নামের এক নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং স্কুল শিক্ষিকা নওশীন আহম্মেদ দিয়ার মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়। বেসরকারী হাসপাতালটির এধরনের চিকিৎসা কার্যক্রমে জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনকে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে আরো বলা হয়, সরকারী অনুমোদন ছাড়া আইসিইউ, এনআইসিইউ না চালাতে সিভিল সার্জন এর আগে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তা না মেনে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই হাসপাতালটিতে পুরোদমে চিকিৎসা কার্য্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্যাতিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ন এবং আইনের পরিপন্থী।
মেয়ের ভুল চিকিৎসার অভিযোগে পাপিয়ার পিতা আবুল খায়ের হাসপাতালটির পরিচালক ডিউক চৌধুরী ছাড়াও হাসপাতালের চেয়ারম্যান তার স্ত্রী ডাক্তার এঞ্জেলা চৌধুরী, ডাক্তার অরুনেশ্বর পাল ও ডাক্তার তনুশ্রী রায়কে আসামী করে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে জেলার সিভিল সার্জন গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের তদন্ত করান। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মাসুম ইফতেখারের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি পাপিয়ার চিকিৎসায় নানা ত্রæটি ছিলো বলে আদালতে রিপোর্ট দেয় এবং হাসপাতালটিতে সার্বক্ষনিক বিশেষষ্ণ চিকিৎসক এবং অন্যান্য আনুসাঙ্গিক ব্যবস্থা না থাকার কথাও উল্লেখ করে। স্কুল শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়াকে (২৯) ভুল চিকিৎসা ও ঔষধ প্রয়োগে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে হাসপাতালটির পরিচালক ডাক্তার ডিউক চৌধুরী ও হাসপাতালে কর্মরত দুই চিকিৎসক অরুনেস্বর পাল অভি ও মোঃ শাহাদাত হোসেন রাসেলের বিরুদ্ধে দিয়ার পিতা শিহাব আহম্মদ গেন্দু গত বছরের ১২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় এবছরের ১ জানুয়ারী জেলে যান ওই ৩ চিকিৎসক । ২০১৯ সালের ১ জুন ভুল চিকিৎসায় পারভীন বেগম (২৮) নামে এক প্রসূতিরও মৃত্যু হয় ডিউকের মালিকানাধীন খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com