কলি যুগ কি ?

16 July, 2020 : 2:13 pm ৬৮

রিপন চৌধূরী।।

কলি আসলে এক ব্যাক্তি।কলি কোনো কল্পনা নয়।এ যুগের অধিকার পুরোপুরি কলির।কলির উদ্দেশ্য অধর্ম স্থাপন করা।কৃষ্ণ তো ধর্ম স্থাপন করে আর কলি পুরোপুরি উল্টো। তাই কলির আরেক নাম অধর্ম বন্ধু। আর সেই অধর্মকে কলি স্থাপন করে কলহের মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করে তার যে পথ সেটা সুগম করে অধর্ম সৃষ্টি করে।তাই কলির এই প্রভাব এর প্রতিহত করার জন্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু হরিনাম সংকির্তন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।এনাদের দুজনের পথ দুজনের কাজ পুরোপুরি আলাদা। কলির কাজ মানুষকে বিধর্মী করা অধর্মের পথে ধাবিত করা।বিভেদ সৃষ্টি করে সকলকে অধর্মের পথে নিয়ে যাওয়া। আর এদিকে চৈতন্য মহাপ্রভু চেয়েছেন সকলকে সংঙ্গবদ্ধ করে ভগবানের মহিমা কীর্তন করে যুগধর্ম প্রতিষ্টা করা।যখনই বিভেদ এর সময় আসবে মনে করবেন এটা কলির প্রভাব, কলি আসছে। কলি আমাদের প্রভাবিত করছে। যখনই এই ভেদ বিভেদের সময় আসবে আমাদের সতর্ক হতে হবে।এই কলির আক্রমণ কে প্রতিহত করতে হবে।কলির কিন্তু কাম ক্রোধ হিংসা লোভ এদের নিয়েই সংসার।এগুলো থেকেই কলহ সৃষ্টি হয়। এসব না থাকলে কলি আমাদের কিছু করতে পারবে না।যখনই আমাদের মাঝে কলহ বিভেদ হওয়ার সম্ভবনা হবে তখনই বলতে হবে দাদা আসুন আমরা একসাথে হরিনাম সংকীর্তন করি তাহলেই দেখবেন আর কোনো কলহ থাকবে না।আপনা থেকেই রাগ কলহ দূর হয়ে যাবে। মহাপ্রভুর এই নাম সংকীর্তন এনেছে কলির প্রতিহত করার জন্য। মহাপ্রভু যখন এই ধরাধামে আসলেন তখন কলির যে সভা ছিল সেটা পুরো ভয়ে কেঁপে উঠলো। আর কলি ভিতু গলায় বলতে লাগল ওই যে এসে গেছে ব্রাহ্মণ আমার নাশ করতে।তখন কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা এরা বললো আপনি এত ভয় কেন পাচ্ছেন আমরা সব ব্রাহ্মণ কেই তো বিপদগামি করে দিয়েছি একেও সেই পথে ধাবিত করে দেব। তখন কলি বললো তোমরা ভুল বুঝেছো এ সেই ব্রাহ্মণ নই। এ যে নাম প্রচার করবে এই নাম যে নেবে সাথে সাথে তার মন পবিত্র নির্মল হয়ে যাবে। এই নামের সাথে কোনো কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা কিছুই থাকবে না। এরা পুরোপুরি আমার অধর্মের বিপরীতে চলে যাবে। এই নামের বিরুদ্ধে আমার কিছুই করার থাকবে না।
আর এই নামই সেই হরিনাম সংকীর্তন। তাই আমাদের উচিৎ কলির থেকে বাঁচতে হলে মহাপ্রভুর প্রচার করা হরিনাম সংকীর্তনের আশ্রয় নেওয়া।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।
জয় জয় শ্রী কৃষ্ণ।

[gs-fb-comments]