হাসপাতালের ডিউটির অভিযোগ অনেক দিন যাবত তার বিরুদ্ধে

21 August, 2020 : 12:25 pm ৯৬

ব্রাক্ষনবাড়িয়া।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৩০লক্ষ মানুষের জন্য সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র ২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল।এই হাসপাতালে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বহিঃবিভাগের চিকিৎসকগণ চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে এই হাসপাতালটি ২৪ঘন্টা খোলা থাকে। সেখানে রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসক ও স্টাফরা দায়িত্ব পালন করেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা, দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ৮টা ও রাত ৮ থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত রোস্টার অনুযায়ী স্টাফরা দায়িত্ব পালন করে। সেই অনুযায়ী জরুরী বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করা হয়। করোনা ভাইরাসের মহামারীতেও স্টাফরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতালের কতিপয় স্টাফ তাদের দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারি হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে সেবা দেন। এর ফলে জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের টিকেট কাউন্টার ও সেবা প্রদানের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স সাদেক খান ও ওয়াজিদুল ইসলাম তুষার। কিন্তু রাত পৌনে ৯টা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান সাদেক খান। এরই মাঝে জরুরি বিভাগে কয়েকজন যুবক এক রোগী নিয়ে আসে জরুরি সেবা নিতে। সাদেক খানের দেখা না পাওয়ায় ওই রোগীকে টিকেট ও চিকিৎসা সেবা দিতে হয়েছে অপর স্টাফ নার্স তুষার ও হাসপাতালের দারোয়ান আরিফ খান। এর প্রায় পৌনে এক ঘন্টা পর সাদেকের দেখা মেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।
বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) রাত ৯টা ২১মিনিটে সাদেকের সহকর্মী ওয়াজিদুল ইসলাম তুষার জানান, আমি আর সাদেক সঠিক সময়ে ডিউটিতে এসেছি। কিন্তু সাদেক কোথায় আছে বলতে পারব না। রাত পৌনে ৯টার দিকে সে বের হয়ে গেছে।
দারোয়ান আরিফ খান বলেন, হাসপাতালে কয়েকজন ছেলে রোগী নিয়ে আসছে। ডিউটিতে থাকার কথা সাদেক খান ও তুষার। কিন্তু সাদেক খান কোথায়, তা জানি না।এছাড়াও সাদেক খান নামের এই সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের ডিউটি ফেলে বেসরকারি হাসপাতালের ডিউটির অভিযোগ অনেক দিন যাবত তার বিরুদ্ধে। নানান অনিয়মের কারণে তাকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে স্থানান্তরিত করেও লাভ হয়নি। সর্বশেষ তাকে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ থেকে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হলেও অনিয়ম করেই যাচ্ছেন।
এদিকে গত ১৫আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা ফ্রি থাকলেও সাদেক টিকিটের দাম নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শোক দিবসে সন্ধ্যা ৬টা ২০মিনিটে আকলিমা নামের এক রোগী থেকে পুলিশ কেইসের সীলের কথা বলে এক টিকিটে ৪০টাকা নিয়েছেন। এছাড়াও হাসপাতালের টিকিটের মূল্য ৫ টাকার স্থলে ১০টাকা ও ভর্তি ফি ১০টাকার স্থলে ২০টাকা রোগীদের কাছ থেকে আদায় করেন।এসব বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স সাদেক খান।২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

[gs-fb-comments]