নিজের ভাগ্নে-ভাগ্নীকে হত্যায় জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলেন মামা বাদল

27 August, 2020 : 3:08 pm ১৩৩

ব্রাক্ষনবাড়িয়া।।

নিজের ভাগ্নে-ভাগ্নীকে হত্যায় জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে  মামা বাদল মিয়া (৩৬)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: জাহিদ হোসেনের আদালতে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় সে। এরআগে বুধবার ঢাকার সবুজবাগ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে। ওইদিনই বাঞ্ছারামপুর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়। বাঞ্ছারামপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের বসত ঘরের  দুটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে ২৪শে আগষ্ট রাতে তার দু-সন্তান শিফা আক্তার (১৪) ও মেহেদী হাসান কামরুল (১০) এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিফা বাঞ্ছারামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে এবং কামরুল সলিমাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তো। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন মামা বাদল মিয়া।  জেলা পুলিশের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার খোদে দাউদপুর গ্রামের আবদুর রবের ছেলে বাদল বাঞ্ছারামপুরে বোনের বাড়িতে ছিলো গত জুন মাস থেকে। মার্চ মাসে বাহরাইন থেকে দেশে আসে সে।করোনা মহামারীর কারনে আর বিদেশ যেতে পারেনি। এরমধ্যে নিজের এলাকায় গোষ্ঠিগত দাঙ্গায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলে সে বাঞ্ছারামপুর বোনের বাড়িতে চলে আসে। বাহরাইন থাকাকালে ৩ বছর আগে  দোকান করার জন্যে বাদল বোন জামাই কামাল উদ্দিনের  কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ধার নেয়। এ থেকে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেয়। বাকী ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ায় বোন জামাইয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিলো  তার। সপ্তাহ খানেক আগে বাদলকে এজন্যে খাপ্পরও মারেন কামাল । এই ক্ষোভে  ভাগ্নেকে হত্যা করে সে। ভাগ্নের মরদেহ দেখা ফেলায় ভাগ্নিকেও খুন করে ফেলে। তাদের দু-জনকেই জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যার বর্ননায় বাদল পুলিশকে জানায়, ২৪ শে আগষ্ট দুপুরে ভগ্নিপতির বাড়িতে তার থাকার কক্ষে  উচ্চস্বরে গান শুনছিলো সে। ওইসময় ভাগ্নে মেহেদী হাসান কামরুল (১০) তার মায়ের কাছ থেকে মজা খাওয়ার কথা বলে ৫০ টাকা নিয়ে তার রুমে আসে। এরপরই সে তার হাত-পা বেধে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়। ভাগ্নি শিফা ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে তা দেখে ফেললে তাকেও মারতে উদ্যত হয় সে। জোড়াজোড়ির এক পর্যায়ে শিফাকে  ধাক্কা মেরে বাথরুমে ফেলে গলা কেটে হত্যা করে। তার লাশও খাটের নিচে রেখে দেয়। এদিকে মাগরিবের আযান হওয়ার  পরও কামরুল  ঘরে না ফেরায় সবাই তার খোজে বের হয়। তাকে খুজতে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় শিফাকে ঘরে রেখে যান তার মা হাসিনা আক্তার। পরে আবার ঘরে এসে দেখেন শিফাও নেই। নিখোঁজ দু’জনের খোজ পেতে এলাকায় মাইকিং করা হয় এবং রাত সাড়ে ৮ টায় থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তা চান তাদের বাবা-মাসহ স্বজনরা। কামাল উদ্দিন তার শ্যালক বাদল মিয়াকে নিয়ে বাঞ্ছারামপুর ফেরীঘাট এলাকায় তাদের খোজে গেলে বাদল মিয়া কাউকে কিছু না বলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু আহমেদ চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত করছেন।

[gs-fb-comments]