নাসিরনগরের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মামলার আসামী দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি এখনো দাবরে বেরাচ্ছেন

28 August, 2020 : 3:08 pm ২০৭

মো.শরীফ মাহমুদ।।

২০১৭ সনের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদরে সনাতন ধর্মাবলম্বীর সংখ্যালুগু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার অন্যতম হোতা নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বহিস্কৃত সদস্য ‘আলোচিত’ দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি এবার এলাকায় ব্যাপক দাপটে ঘুরছেন।নাসিরনগরের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা এবং হামলার ঘটনায় আদালতে সাক্ষী দেওয়া সংখ্যালুগু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ব্যাপক প্রভাবে হুমকীও দিচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে জমজমাট ভাবে মদের ব্যবসা করছেন এই আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের আনন্দবাজার এলাকায় রয়েছে আঁখির চোলাই মদের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ।এর আগে জেলা শহরের আনন্দবাজার এলাকায় আঁখির মদের দোকানে অভিযান চালান র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব- ১৪ এর সদস্যরা। এ সময় অবৈধ মাদকদ্রব্যসহ আঁখির কয়েকজন সহযোগীকে আটক করেন র‍্যাব। শহরের আনন্দ বাজার এলাকায় র‍্যাবের অভিযানে আঁখির চোলাই মদ ও বোতলের মদের ব্যবসা কিছুদিন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবার ব্যাপকভাবে জমজমাট হয়ে চলছেন আঁখির চোলাই মদের দোকানগুলো । শহরের আনন্দ বাজারের কয়েকটি স্পটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এসব মদ বিক্রি।এদিকে শুধু মদের ব্যবসায়ই নয়, লাখিবাজার এলাকায় তিনতলা ভবনে কো-অপারেটিভ সোসাইটির আর্থিক লেনদেনের বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শহরের স্টেশন রোডে তিনতলায় বিলাসবহুল একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টও চালু করেছেন সেই’ আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি।নাসিরনগরের আলোচিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হামলা ও লুটপাটের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ২০১৭ সনের ৫ ই জানুয়ারি সকালে রাজধানী ঢাকার ভাটারা থানা পুলিশ এই ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর আঁখিকে গ্রেফতার করেন । ঐ মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান আঁখি।গত বছরের ২৯ নভেম্বর এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আরেক ‘হোতা’ হরিপুর বাজারের আল আমীন, সাইবার পয়েন্টের সত্ত্বাধিকারী যুবদল নেতা জাহাংঙ্গীর আলম আদালতে হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখির হামলা ও লুটপাটের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা ।২০১৭ সনের ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আলম জানায়, চেয়ারম্যান আঁখি তাঁকে ট্রাক ও ট্রাক্টর ভাড়া করে হামলা চালানো এবং সংখ্যালুগু বাড়িঘরের মুল্যবান মালামাল লুটপাট করার জন্য লোক সমাগমের নির্দেশ দিয়েছিলেন।এদিকে আলোচিত এই ঘটনার অন্যতম হোতা ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি জামিনে মুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবত জেলের বাহিরে থাকায় এ মামলার বিচার কার্যক্রম ব্যাহ্নত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এসব ঘটনায় ভোক্তভোগী ও স্থানীয় নাসিরনগর সদরের সংখ্যালুগু পরিবারের সদস্যরা।উল্লেখ, ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সনের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় এ পর্যন্ত দায়ের হওয়া আটটি মামলায় ১৫০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। প্রায় ৫ হাজার লোককে এ ঘটনায় আসামী করা হয়।এর মধ্যে আতিকুর রহমান আঁখির নির্দেশে হামলা চালানো জাহাঙ্গীর আলম সহ ৬ জন ঘটনার সাথে সরজমিনে জড়িত বলে স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

[gs-fb-comments]