রামচন্দ্র বিজয়োৎসবের শুভেচ্ছা

27 October, 2020 : 3:55 pm ৪৯

ডেস্ক।।

“বিজয়া দশমী হল রাবণের বিরুদ্ধে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের বিজয়। রাবণ হল কামের ব্যক্তিরূপ এবং সে ত্রিভুবন পরাজিত করেছিল। সে একটি বরপ্রাপ্ত হয়েছিল যে দেবতা অথবা দৈত্য কেউই তাকে হত্যা করতে পারবে না। কিন্তু যেহেতু সে রাক্ষস ছিল এবং সে মানুষ ও পশু আহার করত, তাই মানুষ ও পশুদের থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য বর লাভের কোন প্রয়োজনই সে মনে করেনি। কৃষ্ণ মানুষরূপে ভগবান রামচন্দ্র হিসেবে এবং বলরাম রামের ছোট ভাই লক্ষ্মণরূপে এসেছিলেন। রামচন্দ্রের পিতা তার দ্বিতীয় পত্নী কৈকেয়ীর ইচ্ছাপূরণ করতে গিয়ে রামচন্দ্রকে ১৪ বছরের জন্য বনবাসে পাঠান কারণ তিনি কৈকেয়ীকে দুটি বর প্রদান করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। কৈকেয়ী বললেন যে তাঁর প্রথম বর হবে রামচন্দ্রকে ১৪ বছরের জন্য বনবাসে পাঠানো, এবং দ্বিতীয় বর হল তাঁর পুত্র ভরতকে যুবরাজ পদে অভিষিক্ত করা। ভরত এবং অযোধ্যাবাসী সকলে ভগবান রামচন্দ্রকে ভালোবাসতেন। ভরত কৈকেয়ীকে বললেন যে তুমি আর আমার মা নও। তিনি বললেন, “তুমি আমার জন্য রাজরানী হতে পারো যেহেতু তুমি আমার পিতার স্ত্রী কিন্তু তুমি আমার মা নও।” যেহেতু রামচন্দ্র বনবাসে প্রেরিত হয়েছিলেন তাই তিনি স্বেচ্ছায় অযোধ্যার বাইরে একটি ছোট গ্রামে থাকতেন এবং রামচন্দ্রের পাদুকা সিংহাসনে রেখেছিলেন; শ্রীরাম ছিলেন প্রকৃত রাজা এবং তিনি ভগবান রামের পক্ষ থেকে রাজ্য দেখাশোনা করছিলেন। আজও অযোধ্যা নগরী এবং সরযূ নদী সেখানে অবস্থিত। ভগবান রামচন্দ্র চিত্রকূট পর্বতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে অনেক বছর অবস্থান করেছিলেন। সেটি একটি অত্যন্ত সুন্দর স্থান। সেখানে তিনি সীতা এবং লক্ষ্মণকে নিয়ে একটি গুহায় থাকতেন এবং সেখানে একটি স্নান করার স্থান আছে যেখানে সীতা স্নান করতেন, যার নাম সীতাকুণ্ড। আমরা আমাদের সাফারি যাত্রায় এসব জায়গায় গিয়েছিলাম। পরে রাবণ সীতাকে হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যায়। রাম জটায়ুর কাছে জানতে পারেন যে সীতাকে রাবণ হরণ করেছে। রামের সাথে হনুমানের সাক্ষাত হয় এবং হনুমান রামের আংটি নিয়ে সীতার খোঁজে বের হন এবং লঙ্কায় তাকে খুঁজে পান। তিনি সেখানে রাক্ষসীদের দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছিলেন। তারপর এক বিশাল যুদ্ধ হয় যেখানে এক পক্ষে ছিলেন রাম, লক্ষ্মণ, বানরসেনা ও জাম্ববান এবং অপর পক্ষে ছিল রাবণ ও তার সেরা সামরিক শক্তি। আজ বিজয়া দশমী, যে দিনে রাম রাবণকে পরাজিত করেছেন।

[gs-fb-comments]