নাসিরনগরে এক সংস্কৃতি কর্মা খুন

10 November, 2020 : 9:13 am ৩৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরে সরকারি খালের পানি বাঁধা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের হামলায় সৃজন সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি তনন(২৫) নিহত হয়েছে।গতকাল(৯ই নভেম্বর) দুপুরে আলিয়ারা গ্রামের সৈয়দবাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় তনন(২৫) নামের ওই কবি গুরুত্বভাবে আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পথে মারা যায়।নিহত সৈয়দ মুনাব্বির আহম্মেদ তনন নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিয়ারা সৈয়দবাড়ির মৃত সৈয়দ শিব্বির আহম্মেদের ছেলে। নিহত তনন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। হরিপুর প্রভাতি ইসলামী কিন্ডার গার্ডেন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তনন।আহতরা হলেন, ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ মজিবুর রহমানের ছেলে ফাইজুল(৩৫), মৃত সৈয়দ আবু তাহেরের ছেলে সুমন(৩৪), নিহতের ভাই তন্ময়(১৭)৷নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে সরকারি খালের পানি কেন আটকানো হয়েছে, সে বিষয় নিয়ে মৃত মোছন মিয়ার ছেলে ওসমানের সাথে সৈয়দ শিব্বির আহম্মেদের ছেলে তননের বাকবিতন্ডায় হয়। আগেরদিনের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজকে দুপুরে বাড়ির পাশের রাস্তায় মৃত আফতাফ উদ্দিনের ছেলে মজনু(৫০) তার সাথে ১০-১৫জন লোক নিয়ে তননের উপর হামলা করেন। তননকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে সুমনসহ আরোও ৫-৭ জনকে মজনুর সাথে থাকা লোকেদের হামলায় আহত হয় । বিকেলে আহত তননসহ ৪জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তননকে ঢাকা নেওয়ার পথে এম্বুল্যান্সে মারা যায়।নিহত তননের শিক্ষক কবি মহিবুর রহিম বলেন, তনন তরুন কবি ও মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সে সৃজন সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তনন একুশে সৃজন ও দশ দিগন্তের সম্পাদক ও সৃজন চিন্তা নামে নিয়মিত লিটল ম্যাগের সম্পাদকের দায়িত্বে সুনাম অর্জন করেছিল। প্রায় দশবছর যাবত সাংস্কৃতিকের সাথে জড়িত ছিল তনন। তরুন একজন কবিকে আমরা হারালাম। যারা এ হত্যার সাথে জড়িত তাদেরকে কঠিন শাস্তির দাবি জানান তিনি।এদিকে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি), আরিসুল হক হরিপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়ছে৷ থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। অভিযুক্ত আসামিদের ধরতে চেষ্টা চলছে।

[gs-fb-comments]