বিজয়নগর ইউএনও’র কাছে অভিযোগ দিয়েও ধান চাষের জমিতে সেচের পানি পায়নি ভুক্তভোগী কৃষকরা

24 March, 2021 : 11:08 am ৮৫

বিজয়নগর।।

কৃষির নির্ভর বাংলাদেশের বেশির বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করেই জীবীকা নির্বাহ করে আসছে তাদের পুর্ব পুরুষ থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা বিজয়নগরে অধিকাংশ মানুষের জীবিকার উৎস কৃষি জমি।্এলাকার দ্বন্দ্বের জেরে একটি প্রভাবশালী মহল বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে সেচের পানি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ধান ফলানো যাচ্ছে না। এতে করে গ্রামের অন্তত ২০টি কৃষি পরিবার ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হয়েছে।কৃষি পরিবারগুলোর অভিযোগ, সঠিক সময়ে ফসলি জমিতে ধান চাষ করতে না পারায় অন্তত দেড় হাজার মণ ধান থেকে বঞ্চিত তারা। জমিগুলো বর্গাচাষ করতে গিয়ে তাদের অনেককেই ঋণ নিতে হয়েছিল।বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জমির মালিক লিলু মিয়ার বাবা ইউনুছ মিয়া। লিখিত অভিযোগে মনিপুর গ্রামের প্রভাবশালী ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সমস্যা নিরসনের দাবি জানানো হয়। কিন্তুু কোন আশ্বাসই দেওয়া হয়নি অভিযোগকারীকে।একটি বার তদন্তের জন্য ও যাননি তিনি। এ অভিযোগ এছারা আরো বহু ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ রয়েছে তার টেবিলের নিচে এগুলি আলোর মুখ দেখেনি।লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনিপুর গ্রামের আতকাপাড়ার বাসিন্দা ইউনুছ মিয়া পেশায় একজন কৃষক। তার ছেলে লিলু মিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী। তিতাস নদীর উপর দিয়ে বিজয়নগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী সীমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের পাশের হাইখোলা মৌজায় ছয়টি বিএস দাগে ২৯৩ শতক ও ক্রয়সূত্রে দলিলমূলে আরও কিছু নাল জমির মালিক লিলু মিয়া। তিনি এসব জমি স্থানীয় কৃষকদের কাছে বর্গা দিয়ে রেখেছেন।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর দেশে আসেন লিলু। পরবর্তীকালে আবারও আমিরাতে যান তিনি। দেশে থাকার সময় একই গ্রামের প্রভাবশালী ও আওয়ামীলীগের নেতা হৃদয় আহমেদ জালালের সঙ্গে লিলুর কথা কাটাকাটি হয়। এর পরই জালালের উস্কানিতে তার বংশের লোকজন লিলুর পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা চলমান রয়েছে।আর এর জেরে লিলুর কৃষি জমিগুলোতে সেচের পানি দেওয়া বন্ধ করে দেয় জালাল। এর ফলে জমিগুলোর বর্গাচাষিরা চলতি মৌসুমে ধান ফলাতে পারেনি।লিলু মিয়ার ফুফাতো ভাই ফারুক মিয়া বলেন, জালালের অনেকগুলো সেচের মেশিন রয়েছে কিন্তুু আমার ফুফার ধানের জমিগুলোতে পানি দেয়নি। ফলে জমিগুলো অনাবাদি রয়ে গেছে।বর্গাচাষী জয়নাল মিয়া বলেন, আমি লিলু মিয়ার কাছ থেকে সাত কানি জমি বর্গা নিয়েছি। কিন্তু জমিতে পানি না পাওয়ার ফলে চাষাবাদ করতে পারিনি। আমার অনেক টাকা লোকসান দিতে হবে।তবে অভিযুক্ত হৃদয় আহমেদ জালালের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, সেচের পানি দিতে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম ইয়াসির আরাফাত বলেন, সেচের পানি না দেওয়ার অভিযোগটি পেয়েছি। জমিতে পানি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।

[gs-fb-comments]