এদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় স্বস্তিতে নেই– এডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক

30 December, 2021 : 4:09 pm ১২৫

ঢাকা।।

সারাদেশ হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, এসময় উপস্হিত ছিলেন হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডঃ দীনবন্ধু রায়, সিনিয়র সহ সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, প্রেসিডিয়াম মেম্বার অভয় কুমার রায়, যুগ্ম মহাসচিব ফনি গোপাল দাস, সহ দপ্তর সম্পাদক কল্যাণ মন্ডল, হিন্দু মহাজোট ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, হিন্দু মহাজোট মুন্সীগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সুশান্ত চক্রবর্তী, ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সাজেন কৃষ্ণ বল, সাধারন সম্পাদক সজিব কুন্ডু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন মধু প্রমুখ।সাংবাদিক সম্মেলনে লিখত বক্তব্যে বলেন এদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় স্বস্তিতে নেই। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন স্থানে ঘটছে হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটছে। “মরার উপর খাড়ার ঘা”র মত হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর, মঠ মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, জমি দখল, দেশ ত্যাগে বাধ্যকরন সহ নানা নির্যাতন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। নির্যাতন নিপিড়নে অতিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায় দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে দিন যাপন করছে।
তিনি এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, জানুয়ারী থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫২ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার হুমকী ১২৫ জন, হত্যা চেষ্টা ৫০৪ জন, জখম ও আহত করা হয়েছে ১৯৬৪ জনকে, নিখোঁজ হয়েছে ১৪২ জন, চাঁদাবাজী হয়েছে ৩ কোটি ০২ লক্ষ ০৮ হাজার টাকা, পরিবার ও মন্দির লুঠ হয়েছে ১১৬২ টি। বসতবাড়ী হামলা ভাংচুর ও লুঠপাটের ঘটনা ঘটেছে ২০৯৪টি। অগ্নি সংযোগ ৪২৯টি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৪৫১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, ভূমি দখল হয়েছে ৬,১৭৯ একর ৮১ শতাংশ, যার মধ্যে, ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও তঞ্চঙ্গ্যা পাহাড়ী আদিবাসী হিন্দুদের ২৮৮২.৩০ একর এবং সমতলের হিন্দুদের ৩২৯৭.৫১ শতাংশ। দখলের তৎপরতা ৭৫০৮ একর ৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে গারো, সাঁওতালদের ৪৫৫৭.০০ একর। ঘরবাড়ী দখলের ঘটনা ঘটেছে ২২২টি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ১৫৩টি, মন্দিরের ভূমি দখল ৭৬টি, বসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদ ৯৮০৯ টি পরিবার,
= ২ =
যার বেশীরভাগ আদিবাসী ও চাক সম্প্রদায়ের। উচ্ছেদের চেষ্টা ৪১৭৯১ টি পরিবার, উচ্ছেদের হুমকী ৮৯৪৩ পরিবার। দেশত্যাগের বাধ্যকরণ ৯২৬১টি পরিবার। দেশত্যাগে হুমকীর শিকার ১৩,৪৪৮ট পরিবার, নিরাপত্তাহীনতায় ১,২৩,৭২২ টি পরিবার। সংঘবদ্ধ হামলা ১৯০২টি। মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ ৪৭২টি, প্রতিমা ভাংচুর ২১৩০টি, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রমের বধূয়া সাজ নামের দোকানের ১২৩২ দেবদেবীর প্রতিমা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। প্রতিমা চুরি ৩২২টি, বাড়ীতে হামলা ভাংচুর অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২০৫৩টি। অপহরণ করা হয়েছে ১৫১ জনকে, অপহরনের চেষ্টা ০৯ জনকে। ২৯ জনকে ধর্ষন করা হয়েছে, গণধর্ষনের শিকার ১৪ জন। ধর্ষনের পর হত্যা ৬ জন। ৪৬ জনকে ধর্ষনের চেষ্টা হয়েছে, ৪১১ জনের অধিক নারী যৌন ও শারিরীক লাঞ্চনার শীকার। ৬০৯ জনকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। ধর্মান্তরের চেষ্টা ৭৩ জনকে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এর ঘটনা ঘটেছে ২৭৮ টি। মিথ্যা মামলায় আসামী, গ্রেফতার, বরখাস্ত, চাকুরীচ্যুত, জেল জরিমানার শিকার ৪২৫ জন, ১,১৩০ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অপবিত্রকরণ ৩০৮টি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে বাধা ৪২০টি। ধর্মীয় নিষিদ্ধ গরুর মাংস খাইয়ে অপবিত্রকরন ৩২জনকে।
২০২১ সালে ১৯১৪টি আলাদা ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান মন্দির ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে; যার সংখ্যা কমপক্ষে ১,৩৫,৯৪৮টি এবং ৬২৪৯ একর ২১ শতাংশ ভূমি হতে বেদখল করা হয়েছে। যার মধ্যে, ত্রিপুরা সাঁওতাল ও তঞ্চঙ্গা পাহাড়ী আদিবাসী হিন্দুদের ২৮৮২.৩০ একর এবং এবং সমতলের হিন্দুদের ৩২৯৭.৫১ শতাংশ জমি দখল হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমান ১,১৪৫ কোটি ৯৭ লক্ষ ৯,৫৯৯ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন,পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে দেশে প্রতিনিয়তই হিন্দু নির্যাতন বাড়ছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১ হিন্দু নির্যাতন বেড়েছে কয়েকগুন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এদেশের হিন্দু সম্প্রদায় কখনোই স্বাধীনতার স্বাদ লাভ করে নাই। স্বাধীনতার পরপরই ঐতিহ্যবাহী রমনা কালি মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে; যদিও তা এখন ভারতীয় অর্থে পূনঃ নির্মান হয়েছে। ১৯৭৪ সালে শত্রু সম্পত্তি অর্ডিন্যান্সকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি আইন নামে পাশ করে এদেশের ২৬ লক্ষ একর সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। এর পর সংবিধান কেটে ছেটে সাম্প্রদায়িকীকরন করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলেও হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে কাউকে শাস্তি বিধান করা হয় নাই। উপরন্তু ফেসবুক হ্যাক করে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে শতাধিক হিন্দু যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শত শত ঘরবাড়ী পুড়িয়ে, মঠ মন্দির ধ্বংস করে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রতিনিয়ত হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী ন্যক্কারজনক সহিংসতা নিয়ে সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষ ধিক্কার জানালেও সেই সমস্ত নির্যাতনকারী অপরাধীদের একজনকেও শাস্তি দেয় নাই বিএনপি সরকার বা বর্তমান সরকার। হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন যাবৎ সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নিপিড়ন বন্ধে এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করার দাবী জানান।তারা সরকারের কাছে দাবী করে বলেন ১। জাতীয় সংসদে ৬০ টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পূনঃ প্রতিষ্ঠা এবং ২। একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবী করেছে। উক্ত দাবী দাওয়া বাস্তবায়নের দাবীতে হিন্দু সম্প্রদায় সারা দেশে ব্যাপকভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বেদনার বিষয় সরকার দাবী দুটির প্রতি কর্ণপাত করে নাই। যে কারনে দিন দিন হিন্দু নির্যাতন বেড়েই চলেছে।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com