মর্গে শিশুর লাশ রেখে হাসপাতাল ক্যান্টিনে বসে ৭০ হাজার টাকার রফাদফা

২৮ নভেম্বর, ২০২২ : ৬:১১ পূর্বাহ্ণ ৫৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।

শিশুর লাশ মর্গে রেখে হাসপাতাল ক্যান্টিনে বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের শামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় রজব আলীর ছেলে সিয়াম(৯) নিহত হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতালেই মিমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিয়ামের পরিবারের সদস্যরা জানান, সিয়াম সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের তার নানার বাড়িতে থাকতো। গত তিন দিন আগে সে নিজ বাড়িতে আসে। রোববার দুপুরে সে সড়কের পাশে খেলা করছিল। এসময় একটি ট্রাক্টর সিয়ামকে চাপা দিয়ে চলে যায়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, সন্ধ্যার পর সিয়ামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা অবস্থায় হাসপাতালের ক্যান্টিনে বসেই ঘটনাটি রফাদফা করে মিমাংসা করতে বৈঠক করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম ভূইয়া, সুহিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূইয়া, মজলিশপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, মজলিশপুরের যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেনসহ স্থানীয় সর্দাররা।বৈঠকে নিহত সিয়ামের পরিবারকে ৭০ হাজার টাকা দিতে নির্ধারণ করা হয়। এতে আপত্তি করে সিয়ামের পরিবারের পক্ষে থাকা সর্দারগন। তারা এক লাখ টাকা দেওয়ার দাবি জানান। এসময় সুহিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূইয়া আরও ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা দিতে প্রস্তাব করে। পরে সদর থানায় সমঝোতার বিষয়টি জানিয়ে মামলা যেন না হয়, এর দায়িত্ব দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।এই বিষয়ে জানতে মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসে ছিলাম। কিন্তু এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি।’ তিনি এই বিষয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম ভূইয়ার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূইয়ার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন। তার কাছে ট্রাক্টর চাপা নিহতের ঘটনা মীমাংসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।যুবলীগ নেতা বিলাল হোসেন বলেন, ‘বৈঠকে ৭০ হাজার টাকা রায় হয়েছিল। নিহতের পরিবার এই টাকা নিতে চাচ্ছেন না। ট্রাক্টরের চালকের বাড়ি সুহিলপুর ইউনিয়নের মীরহাটিতে। তাই বৈঠকে সুহিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। আর থানা থেকে ওসি সাহেব জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া এই মরদেহ দেবেন না।’ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি এমরামুল ইসলাম জানান, একটি ছেলে ট্রাক্টর চাপায় মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এই বিষয়ে তার পরিবার বা অন্য কেউ কিছু জানাননি। হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।বিষয়টি মীমাংসার বিষয়ে আমি অবগত নই।

[gs-fb-comments]