বিজয়নগরে গরু চুরির হিড়িক

11 September, 2015 : 10:57 am ১৮৬

বিশেষ প্রতিনিধি :

পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন, হরষপুর ইউনিয়ন, চান্দুরা ও পাহাড়পুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে এবং আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ও লালপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে গরু চুরির মাত্রা বেড়ে গেছে। এর ফলে রাত জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ এবং থানা পুলিশও রাতে তাদের নিরাপত্তা টহল জোরদার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে গরু চোরেরা এখন অনেকটাই সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। গত দুই মাসে বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সিঙ্গারবিল, কাশিনগর, চাউড়া, শ্রীপুর, মধ্যপাড়া, ক্ষীরাতলা ও কাশিমপুর, পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর, হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া ও বুল্লা, চান্দুরা ইউনিয়নের কালিশীমা গ্রাম এবং আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খোলাপাড়া, শরীফপুর, চিলোকূটপাড়া ও লালপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর, টানপাড়া, নোয়াগাঁও গ্রামে থেকে শতাধিক গরু চুরি হয়েছে। চুরি করা এসব গরু নিয়ে চোরেরা খুব সহজেই নৌকা দিয়ে মেঘনা নদী এবং তিতাস নদী পার হয়ে তাদের গন্তব্যস্থলে পালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গরু ব্যবসায়ীরা। তাই স্থানীয় এলাকাবাসীরা এখন রাত জেগে তাদের গরু পাহারা দিচ্ছেন। কয়েকজন গরু ব্যবসায়ি জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে গরু চোর চক্র। চোরদের টার্গেট মেঘনা ও তিতাস নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো। প্রায় প্রতি রাতেই হানা দিয়ে গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোর চক্র। এর ফলে এখন রাত জেগে নিজেদের গরু পাহারা দিচ্ছেন তারা। শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈফ উদ্দিন চৌধুরী জানান, গরু চুরি ঠেকাতে প্রতিরাতেই শরীফপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, প্রায় প্রতি রাতেই চোরেরা সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে তিতাস নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে হানা দিচ্ছে। এ জন্য রাতের বেলা স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশও পাহারা দিচ্ছেন।

এদিকে বিজয়নগরে চুরি হওয়া ছয়টি গরু উদ্ধারসহ গরু চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- সরাইল উপজেলার রাজামাইরাকান্দি গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৬), বিজয়নগর উপজেলার গোয়ালমোড়া গ্রামের মৃত দারু মিয়ার ছেলে পিছন মিয়া (৪৫), বোয়ালখোলা গ্রামের সামুন আলীর ছেলে আবদুল আহাদ (২৮), দত্তখোলা গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে নাসির উদ্দিন (৪৮) ও আহমদ আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩০)।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহরিয়ার আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, গরু চুরি বন্ধে রাতে পুলিশি নিরপাত্তা টহল আরো জোরদার করা হয়েছে। পাশপাশি গরু চোর চক্রের সব সদস্যকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com