ঘুষ দূর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিনত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস

3 February, 2019 : 4:03 pm ৩৪৫

ঘুষ দূর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিনত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস। এখানে সকল অনিয়মই যেন নিয়ম হয়ে যায় দূরদূরান্ত হতে আসা সাধারন মানুষের জন্য। যার মূল নায়ক সদর সাব রেজিস্টার মোতাহার হোসেন সহ আরো দু’একজন অফিস সহকারী। সরজমিন ঘুরে দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত অনেক কর্মচারীর রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাওয়ার আসল রহস্য। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই দূর্নীতিবাজদের উত্থানের পেছনে সাধারন মানুষদের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারী হওয়ার কাহিনী। সরজমিনে ঘুরে সময়নিউজবিডি ডটকমের এই প্রতিবেদকের হাতে জমা হওয়া তত্ত্ব-উপাত্তের ভিত্তিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো। ঘুষের নাম ” সেরেস্তা”—– প্রতিটি দলিল সম্পাদনের সরকারী ও অফিসিয়াল ফি বাবদ রশিদের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়ার পরও সেরেস্তা নামক একটি টাকা নেওয়া হয় বিনা রশিদে। যে টাকার কোন ডকুমেন্ট পায়না কোন গ্রাহক। সেই সেরেস্তাও দলিলের প্রকারভেদে বিভিন্ন পরিমাণে নেওয়া হয় দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে। যা দলিল লেখকের মাধ্যমে সদর সাব রেজিস্টার তার প্রধান কেরানী শাহ আলমের মাধ্যমে নিয়ে থাকেন। যা পুরো বেআইনী ও অবৈধ। ক) হেবাবিল অ্যায়াজ দলিলের জন্য সেরেস্তা নেওয়া হয় ৩ হাজার ৭শত ৬০ টাকা, সাব কাবলা দলিলের সেরেস্তা নেওয়া হয় ৩ হাজার ২শত ৬০ টাকা ও হেবা ঘোষণা দলিলের সেরেস্তা নেওয়া হয় ৪ হাজার টাকা। সেরেস্তা নামক এসব টাকা বিনা রশিদে গ্রাহকের পকেট থেকে প্রতিনিয়ত নিচ্ছেন সদর সাব রেজিস্টার। এ যেন এক মগের মুল্লুক, যেখানে দেখার কেউ নেই। ভুক্তভুগীদের প্রশ্ন – যেখানে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সফল আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ঘুষ দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন সেখানে সাব রেজিস্টার মোতাহার হোসেন ও তার অধিনস্তদের ঘুষ বাণিজ্যিক বেড়েই চলছে। সাধারন মানুষ আশা প্রকাশ করছেন অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিবেন। নতুবা সরকারের সুনাম ম্লান হবে। এদিকে, সম্প্রতি সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার মোঃ শরিফুল ইসলাম (উজ্জ্বল) এর বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদন করারও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিস্টার হিসেবে মোঃ মোতাহার হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চলছে এসব অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে শরিফুল ইসলামের টেবিল থেকেই একটি দলিল জমা হয়ে থাম বইয়ে দলিলদাতার কাছ থেকে টিপসহি নিয়ে দলিল সম্পাদনের কাজ শেষ করেন দাতা ও গ্রহীতা। যা একটি দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পরও শরিফুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও সাব রেজিস্টার মোতাহার হোসেন রয়েছেন বহাল তবিয়তেই। সাধারন জনগনের প্রশ্ন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের খুঁটির জোর কোথায়। তাহলে কি সরিষাতেই ভূত, যার ফলে সরিষা ঝাজ না থাকায় ভূত তাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, এমন প্রশ্নও এখন জনমনে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর সাব রেজিস্টার মোতাহার হোসেন জানান, ভাই আমি কাজের ঝামেলায় আছি, আপনি আসেন, আসলে কথা বলবো বলে মুঠোফোনের লাইনটি কেটে দেন। এ বিষয়ে জেলা সাব রেজিস্টার শেখ মোঃ আনোয়ারুল হক জানান, সেরেস্তা নামে কোন বিধান নেই।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com