বাঞ্ছারামপুরে অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রীর নিয়োগে অনিয়ম

24 April, 2019 : 7:56 am ৩২১

বাঞ্ছারামপুর।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ে এখনো পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছেন। শুধু তাই নয়, সদ্য সরকারি হওয়া কলেজের অধ্যক্ষ পদসৃজন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। শুধু তিনি নয়, তার স্ত্রী রতœা খানম সহ আরো এক প্রভাষকের চাকুরী জাতীয় করণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকায় আটকে গেছে পদসৃজন প্রস্তাব। আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে মহাপরিচালক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বরাবর এই প্রস্তাব পাঠানোর কথা রয়েছে। এসব অনিয়ম জালিয়াতি নিয়ে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন থেমে যায় শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজ ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম ২০১০ সালের ৩ আগষ্ট অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। এর আগে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার এম,এ,রউফ ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক পদে ১৯৯৭সালে ২০ আগষ্ট যোগদান করেন। কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালে জুন মাসে আর্থিক কেলেঙ্কারি, শ্রেণী কক্ষে তাস খেলাসহ অন্যান্য নয়টি অভিযোগের দায়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আব্দুর রহিমসহ ৩ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন।
কিন্তু বরখাস্তের কথা একেবারে গোপন রেখে আব্দুর রহিম ২০১০ সালে ৩ আগস্ট বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। যোগদানের প্রায় তিন বছর পর ২০১৩ সালের মে মাসে তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও ভুক্ত হন রাষ্টবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবেও অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেখিয়ে এমপিও ভূক্ত কর্মরত উপাধ্যক্ষের সমান্তরাল বেতন স্কেল (২০১৫ এর বেতন কাঠামোর ৫ম গ্রেড হাছিল করেন। পরে আবার ২০১৮ এর জুলাই মাসে বেতন গ্রেড ৪ এ এমপিও হাছিল করেন।) বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজে যোগদানের সময় আব্দুর রহিমের অধ্যক্ষ পদের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাও ছিলনা। এমনকি তিনি পূর্বের কলেজের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও আবেদন করেননি। তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে প্রাপ্যতা বহির্ভূত হওয়া সত্বেও মে ২০১৩ এর এমপিওতে এমপিওভূক্ত হয়ে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা সরকারি খাত হতে উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। তিনি কলেজ ভবনে অবস্থান করলেও ভাড়া বাবদ কলেজকে কোন টাকা জমা দেননি কখনো। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পযর্ন্ত প্রভাষক এমতিয়াজ আহমেদ এর নেতৃত্বে ৪সদস্যের অভ্যন্তরীন হিসাব নিরীক্ষা দল তার বিরুদ্ধে ৫৬হাজার ৯ শত ৪৫ টাকার আর্থিক অনিয়ম পান এবং ১লা জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে ৩০ জুন, ২০১৭ পযর্ন্তÍ প্রভাষক আমীরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আরেকটি অভ্যন্তরীন হিসাব নিরীক্ষা কমিটি তার বিরুদ্ধে ২ লক্ষ ৭১ হজার ৮৬৯ টাকার আর্থিক অনিয়ম পান। অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমের স্ত্রী রতœা খানম ২০১৩ সালের ১৩ই নভেম্বর প্রভাষক হিসেবে বাংলা বিষয়ে ৪জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করে চতুর্থ হলেও প্রায় ৯মাস পর ২০১৪ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর বাংলা প্রভাষক হিসেবে ২৩ হাজার টাকা করে বেতন কলেজ তহবিল হতে তুলে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরকারি করনের লক্ষ্যে অবৈধভাবে পদায়নের প্রস্তাব করাও রয়েছে। ১১২জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের পদসৃজন প্রস্তাব আগামী ২৩শে এপ্রিলের মধ্যে মহাপরিচালক মাধ্যমিক বরাবর পাঠানোর কথা রয়েছে।
কিন্তু অধ্যক্ষ এই প্রস্তাব বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জমা না দেওয়ায় প্রস্তাব পাঠানো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সময়মতো প্রস্তাব না পাঠালে সদ্য সরকারিকৃত বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের ১১২টি পদসৃজন পিছিয়ে যাবে।
এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৌহিদ জানান,‘‘বাংলা প্রভাষক ইয়াছিন সাহেবের নিয়োগে ত্রুটি থাকায় আমি এমপিও প্রস্তাব পাঠাইনি। আর প্রিন্সিপাল সাহেবের অনিয়মের বিষয়ে আগের এসিল্যান্ড মামুন স্যার তদন্ত করেছেন। আর উনার স্ত্রীর নিয়োগেও ত্রুটি রয়েছে।’’
এব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জানান,‘‘আমি কোন অনিয়ম করিনি বা তথ্য গোপন করিনি। আমার ও আমার স্ত্রীর নিয়োগের কাগজে কোন সমস্যা নেই, কিছু সমস্যা ছিল তা সমাধান করা হয়েছে। তিনি বলেন পদসৃজন প্রস্তাব যথা সময়ে পাঠানো হবে।’’
এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান,‘‘আমি বেশ কয়েকবার রহিম সাহেবকে তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আমার কাছে আনতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি এখনো পর্যন্ত দেননি।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com