গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে কমিটি গঠনের অভিযোগে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নাটোর জেলা কমিটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে নাটোর সদর সহকারী জজ আদালতের বিচারক শংকর বিশ্বাস এ নির্দেশ দেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু আহসান টগর ও জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত কুমার জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে শুনানি শেষে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে গঠিত কমিটির কার্যক্রমে কেন স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ২৪ অক্টোবর গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে কমিটি গঠনের অভিযোগে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্তসহ সাতজনের নামে আদালতে মামলা করেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব শিতাংশু ভট্টাচার্য, গুরুদাসপুর পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক দাম ও নলডাঙ্গা পৌর কমিটির সভাপতি বিজয় দেবনাথ।

রানা দাশ গুপ্ত ছাড়া মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন– কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস পাল, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিল সরকার, নব-গঠিত নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার।

আইনজীবী সুশান্ত কুমার ও বাদী শিতাংশু ভট্টাচার্য জানান, গত ১৮ অক্টোবর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নাটোর জেলা কমিটির সম্মেলন হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব অথবা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করবেন। কিন্তু ওই সম্মেলনে শুধু জেলা আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে চিত্তরঞ্জন সাহা ও  সাধারণ সম্পাদক  হিসেবে সুব্রত সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়। এসময় উপজেলা ও পৌর কমিটির উপস্থিত সদস্যরা প্রতিবাদ করলেও তাদের সম্মেলন চত্বর থেকে চলে যেতে বলা হয়। পরে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

সুশান্ত কুমার আরও জানান, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২৪ অক্টোবর সদর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন তিন বাদী। পরে ২৮ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত। সেদিন অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য ৩০ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। আজ (বুধবার) বিবাদীরা কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটি গঠনের প্রমাণপত্র আদালতে হাজির করেন। এসময় উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আদালত ওই কারণ দর্শানো নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে জেলা কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন সাহা জানান, মামলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও জবাব দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘সম্মেলনের দিন রানা দাস গুপ্ত উপস্থিত ছিলেন না। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি জেলা কমিটি অনুমোদনে স্বাক্ষর করেছেন। সম্মেলনে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবার মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

"/>

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ

30 October, 2019 : 3:44 pm ৪০৯

নাটোর।।

গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে কমিটি গঠনের অভিযোগে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নাটোর জেলা কমিটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে নাটোর সদর সহকারী জজ আদালতের বিচারক শংকর বিশ্বাস এ নির্দেশ দেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু আহসান টগর ও জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত কুমার জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে শুনানি শেষে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে গঠিত কমিটির কার্যক্রমে কেন স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ২৪ অক্টোবর গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে কমিটি গঠনের অভিযোগে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্তসহ সাতজনের নামে আদালতে মামলা করেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব শিতাংশু ভট্টাচার্য, গুরুদাসপুর পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক দাম ও নলডাঙ্গা পৌর কমিটির সভাপতি বিজয় দেবনাথ।

রানা দাশ গুপ্ত ছাড়া মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন– কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস পাল, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিল সরকার, নব-গঠিত নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার।

আইনজীবী সুশান্ত কুমার ও বাদী শিতাংশু ভট্টাচার্য জানান, গত ১৮ অক্টোবর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নাটোর জেলা কমিটির সম্মেলন হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব অথবা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করবেন। কিন্তু ওই সম্মেলনে শুধু জেলা আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে চিত্তরঞ্জন সাহা ও  সাধারণ সম্পাদক  হিসেবে সুব্রত সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়। এসময় উপজেলা ও পৌর কমিটির উপস্থিত সদস্যরা প্রতিবাদ করলেও তাদের সম্মেলন চত্বর থেকে চলে যেতে বলা হয়। পরে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

সুশান্ত কুমার আরও জানান, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২৪ অক্টোবর সদর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন তিন বাদী। পরে ২৮ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত। সেদিন অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য ৩০ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। আজ (বুধবার) বিবাদীরা কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটি গঠনের প্রমাণপত্র আদালতে হাজির করেন। এসময় উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আদালত ওই কারণ দর্শানো নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে জেলা কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন সাহা জানান, মামলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও জবাব দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘সম্মেলনের দিন রানা দাস গুপ্ত উপস্থিত ছিলেন না। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি জেলা কমিটি অনুমোদনে স্বাক্ষর করেছেন। সম্মেলনে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবার মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com