শয়ন কক্ষে ইয়াবা ফেসে গেলেন ওসি ফয়জুল আজিম

29 November, 2019 : 5:36 am ২২৭

ব্রাক্ষনবাড়িয়া।।

মাদককে না বলেননি বিজয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ ফয়জুল আজিম। সীমান্তবর্তী ওই থানার ওসির চেয়ারে বসার পর থেকেই মাদক ব্যবসায় প্রশ্রয় দিতেন। নিজেও বুঁদ হয়েছেন নেশায়। ধরছাড় বাণিজ্য ছিলো সীমাহীন। অবশেষে বদলি হলেন আলোচিত এই অফিসার ইনচার্জ। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে তাকে। বুধবার জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তার এই বদলির আদেশ আসে। জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এডিশনাল আইজি ড. মো. মঈনুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত বদলির আদেশে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে তাকে।অন্যথায় ৬ ডিসেম্বর থেকে তার তাৎক্ষণিক বদলি গণ্য হবে। বদলির এই আদেশটি হয় ২৬ নভেম্বর। ইয়াবা কাণ্ডে গত ক’দিন ধরেই আলোচিত ছিলেন ওসি ফয়জুল আজিম নোমান। থানার দোতলায় তার শয়ন কক্ষে ৭’শ ইয়াবা পাওয়া যায়। ইয়াবাগুলো ওসির বিছানার নিচে ছিলো বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। থানার বাবুর্চি জাহিদ ভূইয়া (৩০) সেখান থেকে ইয়াবাগুলো সরিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওসি বাবুর্চির বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে ধরিয়ে আনেন তাকে। শুরু হয় ঘটনার মোড় ঘুরানোর চেষ্টা। ওসির শয়ন কক্ষের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে বাবুর্চি এগুলো বিক্রি করার জন্যে রেখেছিলো বলে ওসি জানান। বলেন- তিনি কনফারেন্স থেকে আসার পর এ ঘটনা জেনে তার বাড়িতে অভিযান চালাতে বলেন। ওসি বলেন- তার কক্ষে ইয়াবা পাওয়া গেছে এই তথ্য ঠিক নয়। মূলত জাহিদ বিক্রি করার জন্যেই ইয়াবাগুলো ময়লার স্তূপে রেখে দিয়েছিলো। এরআগে থানা থেকে সে মোবাইলও চুরি করে নিয়ে গেছে। ইয়াবা ও মোবাইলসহ তাকে আটক করা হয়। বাবুর্চিকে আটক করার পরই বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে। খবর পেয়ে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ২৩ নভেম্বর রাতে থানায় গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেন। ২২ নভেম্বর জাহিদকে আটক করে ৫ দিন থানা হাজতে রাখা হয়। মঙ্গলবার মামলা দিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। বিজয়নগর থানার এস আই হাসান খলিল উল্লাহ বাদী হয়ে বাবুর্চি জাহিদের বিরুদ্ধে মামলা দেন। এজাহারে বাবুর্চির কাছ থেকে ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করার কথা বলা হয়। তার বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক কিনে এনে বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়। ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাহিদের শ্বশুর খাদুরাইল গ্রামের মর্তুজ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করার কথা উল্লেখ করা হয় ওই এজাহারে। ফয়জুল আজিম নোমান সীমান্তবর্তী এই থানায় ওসি-তদন্ত হিসেবে যোগ দেন ২০১৮ সালের ৬জুন। এরপর ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পান। তার এখানে যোগ দেয়ার পরই মাদক ব্যবসা বেড়ে যায়। অবনতি হয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। ওসি’র মাদক সেবনের কথাও বলে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। ওসির মদতে থানার এক এএস আই নাছির ও সোর্স আবু কালাম ধর-ছাড় বাণিজ্যে মত্ত হন। খোঁজখবরে জানা গেছে, ১৮ নভেম্বর কাশীনগর গ্রামের সেলিমের ঘর থেকে ওই এএস আই ওয়ারেন্ট আছে বলে সেলিম ও আম্বর আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ওসির সামনে নিয়ে আসলে তাদেরকে পেটানোর নির্দেশ দেন ওসি। পরে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার জন্যে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরদিন ১ লাখ টাকা দিলে এএস আই নাছির তাদেরকে বলেন তোমাদেরকে ছাড়া যাবে না। বিষয়টি এস পি এবং সার্কেল এএসপি জেনে গেছে, এভাবে ছাড়া যাবে না। পরে নাছিরের পকেট থেকে এক পুড়িয়া গাঁজা দিয়ে তাদেরকে ইউএনও’র কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া হয় তারা যেন ইউএনও’র সামনে গিয়ে বলেন, তারা মাঝেমধ্যে গাঁজা খান। এরপর তাদের ৭দিনের সাজা হয়। বিষয়টি আম্বর আলী নিজেই সাংবাদিকদের জানান। ১৯ অক্টোবর নোয়াবাদী গ্রামের ৩টি মাদক মামলার আসামি ওসমানকে আটক করে এএস আই নাছির ও মোতালিব। সেখান থেকে ওসির সঙ্গে কথা বলে ২ লাখ টাকা নিয়ে ওসমানকে ছেড়ে দেয়া হয়। ১৭ নভেম্বর নলগড়িয়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ঝন্টুকে আটক করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১ লাখ টাকা নেয়া্‌ হয়। কোন মামলা না থাকার পর ২৫ নভেম্বর কাশীনগর গ্রামের মুদি দোকানদার ইকবালকে আটক করে পুলিশ। পরে ২২ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় তাকে। সেজামুড়ার মাদক ব্যবসায়ী শিপনের কাছ থেকে মাদক কিনবে বলে ফাঁদ পাতা হয় ওসির সোর্স হিসেবে পরিচিত কালীসীমা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী আবু কালামের মাধ্যমে। সেখানে শিপন এলে স্ত্রীসহ আটক করা হয় তাকে। পরে তার কাছে ১শ’ ইয়াবা এবং নগদ ২লাখ টাকা পাওয়া যায়। পরে টাকা ও ইয়াবা রেখে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান শিপনের স্ত্রী। সোর্স কালামের মাধ্যমে ওসি মাসোহারা আদায় করতেন বলেই অভিযোগ রয়েছে।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com