ঢাকা।। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ খোলা ছিল অফিস-আদালত। এরপর জরুরিভিত্তিতে সীমিত পরিসরে কিছু অফিস-আদালত খোলা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী রোববার (৩১ মে) থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে সকল অফিস-আদালত। ৬৬ দিন পর খুলতে যাওয়া কর্মস্থলে যোগ দিতে লাখো মানুষের ভিড় এখন ঢাকার দিকে। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) থেকে শুরু হয়ে শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে এ ভিড় লক্ষ্য করার মতো। বর্তমানে দেশের সবগুলো মহাসড়কে এখন রাজধানীমুখী মানুষের চাপ। ভিড় জমেছে ফেরিঘাটেও। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশ পথ যেমন গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর, সায়েদাবাদ, মাওয়া ঘাটে দেখা যায় রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়। সকাল থেকে যত সময় গড়িয়েছে এ ভিড় ততই বেড়েছে। গণপরিবহন বাদে সবধরনের যানবাহনে রাজধানীতে প্রবেশ করছেন ‘রাজধানীর অস্থায়ী’ বাসিন্দারা। পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তারা ঢুকছেন ঢাকায়। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও রয়েছে মহাসড়কে। শনিবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শত শত মানুষ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের চাপ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, রোববার যেহেতু সরকারি অফিস-আদালত খোলা, সেজন্য ঈদফেরত যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি পাটুরিয়া ঘাটে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরির মধ্যে ৫টি বড় রো রো ফেরি এবং ৫টি ছোট ইউটিলিটি ও কে-টাইপ ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। একই দৃশ্য ছিল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটেও। সকাল থেকেই ঘাটে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঈদ শেষে গত কয়েকদিন থেকেই ঘাটে চাপ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন ও সাধারণ যাত্রী পারাপারে ৭টি ফেরি চলাচল করছে। প্রয়োজনে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, ঘাট এলাকা ও ফেরিতে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভিড় রয়েছে মাদারীপুর জেলার কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটেও। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ভেঙে ভেঙে যাত্রীরা এসে হাজির হচ্ছেন কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি যাত্রীদের পারাপার অব্যাহত রয়েছে। কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ গত ২৬ মে থেকেই বাড়তে শুরু করে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। এদিকে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া নৌরুটে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মানার সুযোগ হচ্ছে না যাত্রীদের। বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরির মধ্যে চলাচল করছে ১২ থেকে ১৪টি ফেরি। এদিকে যাত্রীদের চাপে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ফকির বলেন, ভোর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসছেন। ঘাট এলাকায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে হাজারো যাত্রী আসছে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া ঘাটে। এ নৌরুটে শনিবার সকাল থেকে ১২টি ফেরি চলাচল করছে। সব ফেরিতে যানবাহনের পাশাপাশি প্রচুর যাত্রীদের আসতে দেখা যায়। ঢাকামুখী এসব যাত্রীরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পার হচ্ছেন। শিমুলিয়া ঘাটে আসার পর গণপরিবহন বন্ধ দেখে কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় মিশুক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। কাউকে দেখা যাচ্ছে পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যানে করেও গন্তব্যে যেতে। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, ভোর থেকে ৪টি রো রোসহ ১২টি ফেরি চলাচল করছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে চাপ বেশি। এ পর্যন্ত কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে হাজার খানেক যানবাহন শিমুলিয়া ঘাটে এসেছে। শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঁঠালবাড়ী মুখে যাত্রীর চাপ নেই। কিছু প্রাইভেটকার ও ছোট যান আছে। তবে ফেরির জন্য তাদের ঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। শিমুলিয়া ঘাটে গাড়ি সচল রয়েছে। "/>

কর্মস্থলে যোগ দিতে লাখো মানুষের ভিড় ঢাকার দিকে

30 May, 2020 : 2:42 pm ১৯৯

ঢাকা।।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ খোলা ছিল অফিস-আদালত। এরপর জরুরিভিত্তিতে সীমিত পরিসরে কিছু অফিস-আদালত খোলা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী রোববার (৩১ মে) থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে সকল অফিস-আদালত। ৬৬ দিন পর খুলতে যাওয়া কর্মস্থলে যোগ দিতে লাখো মানুষের ভিড় এখন ঢাকার দিকে। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) থেকে শুরু হয়ে শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে এ ভিড় লক্ষ্য করার মতো। বর্তমানে দেশের সবগুলো মহাসড়কে এখন রাজধানীমুখী মানুষের চাপ। ভিড় জমেছে ফেরিঘাটেও। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশ পথ যেমন গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর, সায়েদাবাদ, মাওয়া ঘাটে দেখা যায় রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়। সকাল থেকে যত সময় গড়িয়েছে এ ভিড় ততই বেড়েছে। গণপরিবহন বাদে সবধরনের যানবাহনে রাজধানীতে প্রবেশ করছেন ‘রাজধানীর অস্থায়ী’ বাসিন্দারা। পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তারা ঢুকছেন ঢাকায়। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও রয়েছে মহাসড়কে। শনিবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শত শত মানুষ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের চাপ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, রোববার যেহেতু সরকারি অফিস-আদালত খোলা, সেজন্য ঈদফেরত যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি পাটুরিয়া ঘাটে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরির মধ্যে ৫টি বড় রো রো ফেরি এবং ৫টি ছোট ইউটিলিটি ও কে-টাইপ ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। একই দৃশ্য ছিল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটেও। সকাল থেকেই ঘাটে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঈদ শেষে গত কয়েকদিন থেকেই ঘাটে চাপ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন ও সাধারণ যাত্রী পারাপারে ৭টি ফেরি চলাচল করছে। প্রয়োজনে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, ঘাট এলাকা ও ফেরিতে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভিড় রয়েছে মাদারীপুর জেলার কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটেও। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ভেঙে ভেঙে যাত্রীরা এসে হাজির হচ্ছেন কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি যাত্রীদের পারাপার অব্যাহত রয়েছে। কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ গত ২৬ মে থেকেই বাড়তে শুরু করে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। এদিকে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া নৌরুটে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মানার সুযোগ হচ্ছে না যাত্রীদের। বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরির মধ্যে চলাচল করছে ১২ থেকে ১৪টি ফেরি। এদিকে যাত্রীদের চাপে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ফকির বলেন, ভোর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসছেন। ঘাট এলাকায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে হাজারো যাত্রী আসছে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া ঘাটে। এ নৌরুটে শনিবার সকাল থেকে ১২টি ফেরি চলাচল করছে। সব ফেরিতে যানবাহনের পাশাপাশি প্রচুর যাত্রীদের আসতে দেখা যায়। ঢাকামুখী এসব যাত্রীরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পার হচ্ছেন। শিমুলিয়া ঘাটে আসার পর গণপরিবহন বন্ধ দেখে কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় মিশুক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। কাউকে দেখা যাচ্ছে পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যানে করেও গন্তব্যে যেতে। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, ভোর থেকে ৪টি রো রোসহ ১২টি ফেরি চলাচল করছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে চাপ বেশি। এ পর্যন্ত কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে হাজার খানেক যানবাহন শিমুলিয়া ঘাটে এসেছে। শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঁঠালবাড়ী মুখে যাত্রীর চাপ নেই। কিছু প্রাইভেটকার ও ছোট যান আছে। তবে ফেরির জন্য তাদের ঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। শিমুলিয়া ঘাটে গাড়ি সচল রয়েছে।

[gs-fb-comments]