আখাউড়ায় বন্যায় ভেসে গেল ৮৭ মেট্রিক টন মাছ ও ১০০শ হেক্টর ফসলি জমি

19 June, 2022 : 4:35 pm ৩৩

আখাউড়া।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্ধ ইউনিয়ন ও সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেই প্লাবনে ভেসে যায় চার লাখ পোনাসহ ৮৭ মেট্রিক টন মাছ। নিমজ্জিত হয় অন্তত ৫০ হেক্টর আউশ ধানের জমি ও ৫০ হেক্টর আবাদি সবজি জমি।উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, বন্যায় ১০৯টি পুকুরের প্রায় ৮৭ মেট্রিক টন মাছ ও চার লাখ পোনা মাছ বানের জলে ভেসে যায়। পুকুরের অবকাঠামোসহ সব মিলিয়ে মৎস্য চাষীদের ক্ষতি হয় প্রায় ৬০ লাখ টাকা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম ভোরের কাগজকে জানান, ১০৮ হেক্টর আবাদ করা আউশ জমির মধ্যে ৫০ হেক্টর ও ২৮০ হেক্টর সবজি জমির মধ্যে ৫০ হেক্টর জমির সবজি বন্যার পানিতে পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন প্রণোদনা আসলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহযোগিতা করা হবে।এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ টাকাসহ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সহায়তা দেয়া হয়।পানিবন্দী হয়ে পড়ে দুই শতাধিক পরিবার। ইতিমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলার আব্দুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় আশ্রয় শিবিরে ১৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আব্দুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক মহিলা মেম্বার মিনারা বেগম বলেন, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে আমাদের বাড়িঘরে তলিয়ে গেলে আমরা এই স্কুল ঘরে এসে আশ্রয় নিই। সারাদিনই আমরা না জানি কি হয় এই আতংকের মধ্যে ছিলাম। শনিবার বিকালে প্রশাসনের লোকজন এসে আমাদেরকে সহায়তা হিসাবে চালসহ নগদ টাকা দিয়ে গেছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপশ কুমার চক্রবর্তী জানান, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে উপজেলার ১৮২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নে ১৪২ ও মনিয়ন্ধ ইউনিয়নে ৪০টি পরিবার রয়েছে। খাদ্য সহায়তা হিসাবে রয়েছে চাল, শুকনো খাবার ও নগদ টাকা। বিকালে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫টি পরিবারকে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। রোববার বিকালে আরো ১৫৪টি পরিবারকে এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা ভোরের কাগজে বলেন, ঢলের পানি সরে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com